পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

রাতভর গণধর্ষণের পরেও নার্সকে বিয়ের প্রলোভন!

বগুড়া প্রতিনিধি : ক্লিনিকের এক নার্সের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেম। কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করবে বলে প্রেমিকের ডাকে ছুটে যায় প্রেমিকা। কাজি অফিসে যাবে এই প্রলোভনে সারাদিন প্রেমিক-প্রেমিকা ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যা হতেই নির্জন মাঠের পথ ধরে প্রেমিকাকে নিয়ে যাচ্ছিল প্রেমিক। কৌশল একটাই, কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করবে। প্রতারক প্রেমিকের হাত ধরে মাঠের মধ্যে যেতেই তিন বন্ধুর দেখা। এরপর ওই নার্সকে (প্রেমিকা) জোরপূর্বক রাতভর গণধর্ষণ করে প্রেমিক সোহান সহ তার তিন বন্ধু।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়ার দোগাছি গ্রামের মানিকগঞ্জ মাঠের নাখরাজ নামক নির্জন স্থানে এঘটনা ঘটে। ২৭ জুলাই গণধর্ষণের ঘটনার পর বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে গ্রাম্য মাতব্বররা। ধর্ষণের পরও প্রেমিক সোহান তাকে বিয়ে করবে বলে জানালে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব করেছে ওই ধর্ষিতা। ঘটনার ১৫ দিনেও সুবিচার না পেয়ে অবশেষে শনিবার (১১ আগস্ট) দুপচাঁচিয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের হলে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের গাড়িবেলঘরিয়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে জাহেদুল ইসলাম ওরফে সাজু (২৮) ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে নাজিম (২০)। ধর্ষণের শিকার ওই নারী উপজেলার তালোড়া রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে উপজেলা সদরের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নার্সের কাজ করেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের রমজান আলীর মেয়ের সাথে একই গাড়িবেলঘরিয়া গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে সোহান (২০) দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমিক সোহান ওই নারীকে বিয়ে করার জন্য গত ২৭ জুলাই বিকেলে উপজেলার আলতাফনগর বাজার থেকে ডেকে নেয়। তাকে বিয়ে করার জন্য কাজি অফিসে নিয়ে যাবে এমন কথা বলে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। রাতে তালোড়ার দোগাছি গ্রামের মানিকগঞ্জ মাঠের নাখরাজ নামক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সোহান ও তার তিন সহযোগী মিলে তাকে রাতভর গণধর্ষণ করে। এঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বিচার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন। পরে শনিবার সকালে থানায় এসে ওই নারী বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

দুপচাঁচিয়া ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ধর্ষণের পরও সোহান তাকে বিয়ে করবে বলে অভিযোগ দিতে দেয়নি। পরে সোহান মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় ওই নারী বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

রাতভর গণধর্ষণের পরেও নার্সকে বিয়ের প্রলোভন!

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৮

বগুড়া প্রতিনিধি : ক্লিনিকের এক নার্সের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেম। কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করবে বলে প্রেমিকের ডাকে ছুটে যায় প্রেমিকা। কাজি অফিসে যাবে এই প্রলোভনে সারাদিন প্রেমিক-প্রেমিকা ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যা হতেই নির্জন মাঠের পথ ধরে প্রেমিকাকে নিয়ে যাচ্ছিল প্রেমিক। কৌশল একটাই, কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করবে। প্রতারক প্রেমিকের হাত ধরে মাঠের মধ্যে যেতেই তিন বন্ধুর দেখা। এরপর ওই নার্সকে (প্রেমিকা) জোরপূর্বক রাতভর গণধর্ষণ করে প্রেমিক সোহান সহ তার তিন বন্ধু।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়ার দোগাছি গ্রামের মানিকগঞ্জ মাঠের নাখরাজ নামক নির্জন স্থানে এঘটনা ঘটে। ২৭ জুলাই গণধর্ষণের ঘটনার পর বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে গ্রাম্য মাতব্বররা। ধর্ষণের পরও প্রেমিক সোহান তাকে বিয়ে করবে বলে জানালে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব করেছে ওই ধর্ষিতা। ঘটনার ১৫ দিনেও সুবিচার না পেয়ে অবশেষে শনিবার (১১ আগস্ট) দুপচাঁচিয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের হলে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের গাড়িবেলঘরিয়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে জাহেদুল ইসলাম ওরফে সাজু (২৮) ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী পশ্চিমপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে নাজিম (২০)। ধর্ষণের শিকার ওই নারী উপজেলার তালোড়া রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে উপজেলা সদরের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নার্সের কাজ করেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের রমজান আলীর মেয়ের সাথে একই গাড়িবেলঘরিয়া গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে সোহান (২০) দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমিক সোহান ওই নারীকে বিয়ে করার জন্য গত ২৭ জুলাই বিকেলে উপজেলার আলতাফনগর বাজার থেকে ডেকে নেয়। তাকে বিয়ে করার জন্য কাজি অফিসে নিয়ে যাবে এমন কথা বলে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। রাতে তালোড়ার দোগাছি গ্রামের মানিকগঞ্জ মাঠের নাখরাজ নামক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সোহান ও তার তিন সহযোগী মিলে তাকে রাতভর গণধর্ষণ করে। এঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বিচার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন। পরে শনিবার সকালে থানায় এসে ওই নারী বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

দুপচাঁচিয়া ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ধর্ষণের পরও সোহান তাকে বিয়ে করবে বলে অভিযোগ দিতে দেয়নি। পরে সোহান মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় ওই নারী বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।