অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

সন্তান বিক্রি করে এনজিওর ঋণ পরিশোধ!

ডেস্ক : হতদরিদ্র দম্পতি মো. দ্বীন ইসলাম ও কুলছুমা বেগমের কোল আলো করে গত ৪ অক্টোবর একটি কন্যা সন্তান আসে। এই দম্পতির আরো তিন সন্তান রয়েছে। দ্বীন ইসলাম পেশায় জেলে। নুন আনতে তার পান্তা ফুরোয়। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সময় মতো সেই ঋন পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তাই সদ্য জন্ম নেয়া এই কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে এনজিওর ঋণ পরিশোধ করেছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্ত্রী কুলছুমা বেগম ও ৪ মেয়েকে নিয়ে চাঁদপুরের মাদ্রাসা রোড এলাকায় থাকেন দ্বীন ইসলাম। নবজাতক কন্যা সন্তান হাফসাকে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিনিময়ে এক নিঃসন্তান দম্পতি সৌদি প্রবাসীর কাছে বিক্রি করে দেন এই দম্পতি। সেই টাকা দিয়েই ওই এনজিওর ঋণ পরিশোধ করেন।

নবজাতক হাফসাকে পেয়ে বেজায় খুশি প্রবাসী মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম। তারা নতুন করে শিশুটির নাম রেখেছেন মরিয়ম আকতার ফাতিমা।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, চতুর্থবার কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী দ্বীন ইসলাম খুশি ছিলেন না। তিনি স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন। একদিকে চার কন্যা সন্তান অপর দিকে ঋণের ৭০ হাজার টাকা। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করে দেন তারা।

বিষয়টি স্বীকার করে নবজাতকের মা কুলছুমা বেগম জানান, যেহেতু সন্তান মানুষ করার সাধ্য নেই; অন্তত সন্তান বেঁচে থাকুক এমন আশা থেকেই বিক্রি করে দিয়েছি। কিছু টাকাও পেয়েছি। কী করব? এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

এ প্রসঙ্গে নবজাতক মেয়েটির নতুন মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার নিজের সন্তান নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে নবজাতক কেনার চেষ্টা করছিলাম। নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করবেন বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানকে অবগত করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

সন্তান বিক্রি করে এনজিওর ঋণ পরিশোধ!

আপডেট টাইম : ১২:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

ডেস্ক : হতদরিদ্র দম্পতি মো. দ্বীন ইসলাম ও কুলছুমা বেগমের কোল আলো করে গত ৪ অক্টোবর একটি কন্যা সন্তান আসে। এই দম্পতির আরো তিন সন্তান রয়েছে। দ্বীন ইসলাম পেশায় জেলে। নুন আনতে তার পান্তা ফুরোয়। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সময় মতো সেই ঋন পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তাই সদ্য জন্ম নেয়া এই কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে এনজিওর ঋণ পরিশোধ করেছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্ত্রী কুলছুমা বেগম ও ৪ মেয়েকে নিয়ে চাঁদপুরের মাদ্রাসা রোড এলাকায় থাকেন দ্বীন ইসলাম। নবজাতক কন্যা সন্তান হাফসাকে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিনিময়ে এক নিঃসন্তান দম্পতি সৌদি প্রবাসীর কাছে বিক্রি করে দেন এই দম্পতি। সেই টাকা দিয়েই ওই এনজিওর ঋণ পরিশোধ করেন।

নবজাতক হাফসাকে পেয়ে বেজায় খুশি প্রবাসী মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম। তারা নতুন করে শিশুটির নাম রেখেছেন মরিয়ম আকতার ফাতিমা।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, চতুর্থবার কন্যা সন্তান হওয়ায় স্বামী দ্বীন ইসলাম খুশি ছিলেন না। তিনি স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন। একদিকে চার কন্যা সন্তান অপর দিকে ঋণের ৭০ হাজার টাকা। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করে দেন তারা।

বিষয়টি স্বীকার করে নবজাতকের মা কুলছুমা বেগম জানান, যেহেতু সন্তান মানুষ করার সাধ্য নেই; অন্তত সন্তান বেঁচে থাকুক এমন আশা থেকেই বিক্রি করে দিয়েছি। কিছু টাকাও পেয়েছি। কী করব? এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

এ প্রসঙ্গে নবজাতক মেয়েটির নতুন মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার নিজের সন্তান নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে নবজাতক কেনার চেষ্টা করছিলাম। নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করবেন বলে জানান তিনি।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানকে অবগত করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।