পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

‘মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করায় পিয়াসকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়’

বাংলার খবর২৪.কম : images_54932সদ্য প্রয়াত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক। পিয়াস করিমের বাবা সম্পর্কে মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “২০/২১ বছর আগে একজন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের কথা শুনলে আমার খুব কষ্ট লাগে।”

রোববার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘জুডিশিয়াল মেডিয়েশন স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাক্টিভ জাজেস’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “পিয়াস করিম সম্পর্কে আমি যা বলেছি তা সত্য। আমার জানামতে পিয়াস করিমের বাবা কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে আটকে রেখেছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। পরে পিয়াস করিমের বাবা এডভোকেট এম এ করিমকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শর্ত মেনে বন্ড সই দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পাক বাহিনীর শর্ত ছিল তারা পিয়াস করিমকে মুক্ত করে দেবে, তবে সে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারবে না। কোনো বৈঠক করতে পারবে না।”

মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে এসে পিয়াস করিমের বাবা পাক বাহিনীর শর্ত মেনে শান্তি কমিটির সভাপতি হন। তখন তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মরক্ষার্থে ডান্ডিকার্ড (পরিচয়পত্র) প্রদান করেছেন।” ধীরেন্দ্র দত্ত হত্যার বিষয়ে পিয়াস করিমের বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, “২০/২১ বছর আগে একজন মৃত ব্যক্তির বিষয়ে না জেনে শুনে এসব কথা বলা ঠিক না।”

এছাড়া মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে চূড়ান্ত রায়ের পর রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে ক্ষমা না পেতে আইন তৈরি করা হতে পারে। তবে আইনমন্ত্রী এও বলেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সংসদে এমন আইন পাস করা হবে যাতে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।

তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, সংবিধানের ‘আর্টিকেল ৪৯’র মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে দুঃখজনক। কোনো রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করে দেন তবে সেটাও দুঃখজনক বিষয় হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকেদের বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে (দল ও সংগঠন হিসেবে) জামায়াত ইসলামীর বিচারের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবরের পরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পরে। অর্থাৎ আগামী মাসের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এছাড়া সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবো।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

‘মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করায় পিয়াসকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়’

আপডেট টাইম : ০৩:০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : images_54932সদ্য প্রয়াত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক। পিয়াস করিমের বাবা সম্পর্কে মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “২০/২১ বছর আগে একজন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের কথা শুনলে আমার খুব কষ্ট লাগে।”

রোববার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘জুডিশিয়াল মেডিয়েশন স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাক্টিভ জাজেস’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “পিয়াস করিম সম্পর্কে আমি যা বলেছি তা সত্য। আমার জানামতে পিয়াস করিমের বাবা কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “পিয়াস করিমকে ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে আটকে রেখেছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। পরে পিয়াস করিমের বাবা এডভোকেট এম এ করিমকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শর্ত মেনে বন্ড সই দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পাক বাহিনীর শর্ত ছিল তারা পিয়াস করিমকে মুক্ত করে দেবে, তবে সে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারবে না। কোনো বৈঠক করতে পারবে না।”

মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে এসে পিয়াস করিমের বাবা পাক বাহিনীর শর্ত মেনে শান্তি কমিটির সভাপতি হন। তখন তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মরক্ষার্থে ডান্ডিকার্ড (পরিচয়পত্র) প্রদান করেছেন।” ধীরেন্দ্র দত্ত হত্যার বিষয়ে পিয়াস করিমের বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, “২০/২১ বছর আগে একজন মৃত ব্যক্তির বিষয়ে না জেনে শুনে এসব কথা বলা ঠিক না।”

এছাড়া মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে চূড়ান্ত রায়ের পর রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে ক্ষমা না পেতে আইন তৈরি করা হতে পারে। তবে আইনমন্ত্রী এও বলেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সংসদে এমন আইন পাস করা হবে যাতে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।

তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, সংবিধানের ‘আর্টিকেল ৪৯’র মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে দুঃখজনক। কোনো রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করে দেন তবে সেটাও দুঃখজনক বিষয় হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকেদের বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে (দল ও সংগঠন হিসেবে) জামায়াত ইসলামীর বিচারের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবরের পরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পরে। অর্থাৎ আগামী মাসের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এছাড়া সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবো।