পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বিভিন্ন কারণে হারাতে বসেছে মৃৎশিল্প, আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট: প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলসহ শহুরে মানুষের বাড়িতে নিত্য দিনের সাংসারিক কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল কুমারদের মাটির তৈরির পণ্য কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে বিলীন হতে বসেছে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার। মাটির তৈরি তৈজসপত্রের বিকল্প হিসেবে বর্তমান যুগের মানুষ ব্যবহার করছে প্লাস্টিক, মেলামাইন সহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি জিনিসপত্র। সহজলভ্য ও ভঙ্গুর না হওয়ায় মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার ভুলে মানুষ প্লাস্টিক মেলামাইন সহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরিকৃত পণ্য ব্যবহার করছেন। তবে আধুনিক যুগে বসবাস করেও কিছু সংখ্যক মানুষ এখনো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর ও ব্যবহার ভুলে যাননি এই গুটি কয়েক ক্রেতাদের জন্য এখনো টিকে রয়েছে এই শিল্প। মৃৎ শিল্পীরা তাদের বংশানুক্রমে পাওয়া একাজটি কে সম্মান করে এখনো টিকেয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যা অনেক কষ্টসাধ্য । কিন্তু মাটির তৈরি পণ্যের ক্রেতা সংকট ও সঠিক মূল্যায়ন না থাকায় ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে এ শিল্প টি।

তাই মৃৎ শিল্পীরাও বেছে নিচ্ছেন অন্যান্য পেশা। লালমনিরহাটের কিছু জায়গায় মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতে দেখা যায় ।

তবে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কুমারটারি নামক একটি এলাকায় মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটির তৈরি পণ্য বানাতে এঁটেল মাটির প্রয়োজন হয়। মাটি সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়েছেন তারা শুধু মাটির দাম বৃদ্ধি নয় মাটির তৈরি পণ্যগুলো শক্তপুক্ত করতে আগুনে পোড়ানোর জন্য প্রয়োজন হয় খরকুটো(খড়ি) যেগুলোর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজসেবা অফিসের আওতায় থেকে ট্রেনিং ও অর্থ দিয়ে থালেও এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি আধুনিকায়ন ও জোরালো পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে মৃৎশিল্পটি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পের কারিগররা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক বা মেলামাইনের পাত্রে গরম খাদ্য রাখলে সেখানে এক ধরনের ক্যান্সারের উপাদান বের হয়। আর সেটার কারণে ক্যান্সার হতে পারে। প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ব্যবহারে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। সেক্ষেত্রে আমরা যদি মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার করি সেটার মধ্যে কোন ভয় নাই। মাটির জিনিস যদি ভালোভাবে তৈরি করে ব্যবহার করা হয় তবে সেটা সবসয় নিরাপদ তবে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার মানুষকে আকৃষ্ট করার ফলে মৃৎশিল্প হারাতে বসেছে । বর্তমানে মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে তাই সময় উপযোগী মাটির পণ্য তৈরি করতে হবে আর এজন্য মৃৎশিল্পীদের বিশেষ ট্রেনিং এর আওতায় এনে স্মার্ট দক্ষ ও আধুনিক রুচিশীল কারিগর হিসেবে তৈরি করতে হবে এবং তৈরিকৃত পণ্যের প্রচারণার উপর জোর দিতে হবে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিভিন্ন কারণে হারাতে বসেছে মৃৎশিল্প, আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা

আপডেট টাইম : ০১:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট: প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলসহ শহুরে মানুষের বাড়িতে নিত্য দিনের সাংসারিক কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল কুমারদের মাটির তৈরির পণ্য কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে বিলীন হতে বসেছে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার। মাটির তৈরি তৈজসপত্রের বিকল্প হিসেবে বর্তমান যুগের মানুষ ব্যবহার করছে প্লাস্টিক, মেলামাইন সহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি জিনিসপত্র। সহজলভ্য ও ভঙ্গুর না হওয়ায় মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার ভুলে মানুষ প্লাস্টিক মেলামাইন সহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরিকৃত পণ্য ব্যবহার করছেন। তবে আধুনিক যুগে বসবাস করেও কিছু সংখ্যক মানুষ এখনো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর ও ব্যবহার ভুলে যাননি এই গুটি কয়েক ক্রেতাদের জন্য এখনো টিকে রয়েছে এই শিল্প। মৃৎ শিল্পীরা তাদের বংশানুক্রমে পাওয়া একাজটি কে সম্মান করে এখনো টিকেয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যা অনেক কষ্টসাধ্য । কিন্তু মাটির তৈরি পণ্যের ক্রেতা সংকট ও সঠিক মূল্যায়ন না থাকায় ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে এ শিল্প টি।

তাই মৃৎ শিল্পীরাও বেছে নিচ্ছেন অন্যান্য পেশা। লালমনিরহাটের কিছু জায়গায় মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতে দেখা যায় ।

তবে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কুমারটারি নামক একটি এলাকায় মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটির তৈরি পণ্য বানাতে এঁটেল মাটির প্রয়োজন হয়। মাটি সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়েছেন তারা শুধু মাটির দাম বৃদ্ধি নয় মাটির তৈরি পণ্যগুলো শক্তপুক্ত করতে আগুনে পোড়ানোর জন্য প্রয়োজন হয় খরকুটো(খড়ি) যেগুলোর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজসেবা অফিসের আওতায় থেকে ট্রেনিং ও অর্থ দিয়ে থালেও এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি আধুনিকায়ন ও জোরালো পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে মৃৎশিল্পটি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পের কারিগররা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক বা মেলামাইনের পাত্রে গরম খাদ্য রাখলে সেখানে এক ধরনের ক্যান্সারের উপাদান বের হয়। আর সেটার কারণে ক্যান্সার হতে পারে। প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ব্যবহারে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। সেক্ষেত্রে আমরা যদি মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার করি সেটার মধ্যে কোন ভয় নাই। মাটির জিনিস যদি ভালোভাবে তৈরি করে ব্যবহার করা হয় তবে সেটা সবসয় নিরাপদ তবে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার মানুষকে আকৃষ্ট করার ফলে মৃৎশিল্প হারাতে বসেছে । বর্তমানে মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে তাই সময় উপযোগী মাটির পণ্য তৈরি করতে হবে আর এজন্য মৃৎশিল্পীদের বিশেষ ট্রেনিং এর আওতায় এনে স্মার্ট দক্ষ ও আধুনিক রুচিশীল কারিগর হিসেবে তৈরি করতে হবে এবং তৈরিকৃত পণ্যের প্রচারণার উপর জোর দিতে হবে।