পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বরযাত্রার সময় হাজির প্রথম স্ত্রী, মারধর করে পালালেন বর

নিউজ ডেক্স

সাজানো হয়েছে বিয়ের গেট। আসতে শুরু করেছে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা। কিছুক্ষণ পরই রওয়ানা হবে বিয়ের বরযাত্রী। ঠিক এমন সময় হাজির বরের প্রথম স্ত্রী। শুরু হয় হুলুস্থুল কাণ্ড। এক পর্যায়ে মারধর করা হয় প্রথম স্ত্রীকে, পরে বাড়ি থেকেই পালিয়ে যান বর সেজে থাকা আল আমিন।

আল আমিন ইতালি থাকতে ফোনে বিয়ে হয় তাদের, কিন্তু এখন আবার বিয়ে করতে মনস্থির করেন, এতেই বাধে বিপত্তি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের উত্তর শিরখাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত আল আমিন ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি ইতালি প্রবাসী।

 
জানা যায়, ৩ বছর আগে অনার্স পড়ুয়া মেয়েটির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ইতালি প্রবাসী আল আমিনের। এরপর প্রেমের সম্পর্ক হলে, দুজনের পরিবারকে জানানো হয়। পরে আল আমিন ইতালি থাকা অবস্থাতেই মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেয়েটিকে নিয়েও আসা হয় স্বামীর বাড়িতে। কিছুদিন থেকে পরে আবার মেয়েটি বাবার বাড়িতে যায়।

 

এরমধ্যেই গত একমাস আগে ইতালি থেকে বাড়িতে আসেন আল আমিন। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন।  

ভুক্তভোগী মেয়ে বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আল আমিনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। আমাকে কিছু না জানিয়ে আল আমিন অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি কিছুতেই তা মেনে নিতে পারছি না। আমি এখানে আসায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি প্রয়োজনে থানায় যাব, থানা পুলিশ সহযোগিতা না করলে, আমি আদালতে যাব। আমি আমার স্বামীর স্বীকৃতি আদায় করেই ছাড়ব।’

অভিযুক্ত আল আমিনের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। কিন্তু ডির্ভোস দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমার ছেলেকে এখন আমরা অন্য জায়গাতে বিয়ে করাতে চাই। সেই প্রস্তুতিও ঠিকভাবে নেয়া হয়েছে। মেয়েটি খারাপ, এজন্য তাকে আমার বাড়িতে আর তুলবো না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর হোসেন বলেন, ‘আল আমিন ভুল বুঝে ওই মেয়েটিকে বিয়ে করেছিল। পরে সে আরেক ছেলের সঙ্গে চলে গেছে, শুনেছি সেই ছেলের সঙ্গে আবার মেয়েটির বিয়েও হয়েছে। এজন্য এ বাড়িতে মেয়েটিকে আর গ্রহণ করা হবে না।’

আল আমিনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, প্রয়োজনে মামলা হবে। আইনগতভাবে সমাধান হবে। তবুও ওই মেয়েকে আর কখনও মেনে নেয়া হবে না।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদরের শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (আইসি) মো. বাবুল আক্তার বলেন, ‘খবর পেয়ে আল আমিনের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে প্রথমে আল আমিনের বাবা মোহাম্মদ আলী উপস্থিত থাকলেও সেও পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এছাড়া মেয়েটি বাড়িতে হাজির হওয়ার খবরে আল আমিন সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে মারধর করা হয়েছে, এমন অভিযোগে মামলা করলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।’ 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বরযাত্রার সময় হাজির প্রথম স্ত্রী, মারধর করে পালালেন বর

আপডেট টাইম : ০৫:৫৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

নিউজ ডেক্স

সাজানো হয়েছে বিয়ের গেট। আসতে শুরু করেছে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা। কিছুক্ষণ পরই রওয়ানা হবে বিয়ের বরযাত্রী। ঠিক এমন সময় হাজির বরের প্রথম স্ত্রী। শুরু হয় হুলুস্থুল কাণ্ড। এক পর্যায়ে মারধর করা হয় প্রথম স্ত্রীকে, পরে বাড়ি থেকেই পালিয়ে যান বর সেজে থাকা আল আমিন।

আল আমিন ইতালি থাকতে ফোনে বিয়ে হয় তাদের, কিন্তু এখন আবার বিয়ে করতে মনস্থির করেন, এতেই বাধে বিপত্তি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের উত্তর শিরখাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত আল আমিন ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি ইতালি প্রবাসী।

 
জানা যায়, ৩ বছর আগে অনার্স পড়ুয়া মেয়েটির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ইতালি প্রবাসী আল আমিনের। এরপর প্রেমের সম্পর্ক হলে, দুজনের পরিবারকে জানানো হয়। পরে আল আমিন ইতালি থাকা অবস্থাতেই মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেয়েটিকে নিয়েও আসা হয় স্বামীর বাড়িতে। কিছুদিন থেকে পরে আবার মেয়েটি বাবার বাড়িতে যায়।

 

এরমধ্যেই গত একমাস আগে ইতালি থেকে বাড়িতে আসেন আল আমিন। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন।  

ভুক্তভোগী মেয়ে বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আল আমিনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। আমাকে কিছু না জানিয়ে আল আমিন অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি কিছুতেই তা মেনে নিতে পারছি না। আমি এখানে আসায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি প্রয়োজনে থানায় যাব, থানা পুলিশ সহযোগিতা না করলে, আমি আদালতে যাব। আমি আমার স্বামীর স্বীকৃতি আদায় করেই ছাড়ব।’

অভিযুক্ত আল আমিনের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে ওই মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। কিন্তু ডির্ভোস দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমার ছেলেকে এখন আমরা অন্য জায়গাতে বিয়ে করাতে চাই। সেই প্রস্তুতিও ঠিকভাবে নেয়া হয়েছে। মেয়েটি খারাপ, এজন্য তাকে আমার বাড়িতে আর তুলবো না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর হোসেন বলেন, ‘আল আমিন ভুল বুঝে ওই মেয়েটিকে বিয়ে করেছিল। পরে সে আরেক ছেলের সঙ্গে চলে গেছে, শুনেছি সেই ছেলের সঙ্গে আবার মেয়েটির বিয়েও হয়েছে। এজন্য এ বাড়িতে মেয়েটিকে আর গ্রহণ করা হবে না।’

আল আমিনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, প্রয়োজনে মামলা হবে। আইনগতভাবে সমাধান হবে। তবুও ওই মেয়েকে আর কখনও মেনে নেয়া হবে না।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদরের শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (আইসি) মো. বাবুল আক্তার বলেন, ‘খবর পেয়ে আল আমিনের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে প্রথমে আল আমিনের বাবা মোহাম্মদ আলী উপস্থিত থাকলেও সেও পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এছাড়া মেয়েটি বাড়িতে হাজির হওয়ার খবরে আল আমিন সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে মারধর করা হয়েছে, এমন অভিযোগে মামলা করলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।’ 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।