অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ভোলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সোহাগ বালা বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও

গাজী তাহের লিটন, ভোলা

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা জংশন বাজারের সুইটি জুয়েলার্সের মালিক সোহাগ বালা গ্রাহকের কোটি টাকার বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে সপরিবারে উধাও হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে সোহাগের বন্ধ দোকানের সামনে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ ভীড় জমিয়েছেন। অনেকে সোহাগের ইলিশা বটতলা বাড়ীতে গিয়ে ভীড় জমিয়েছেন। তবে সোহাগের বসতঘর তালাবদ্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন, সেই সাথে পরিবারের সদস্যরাও লাপাত্তা।

এদিকে সোহাগ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে গেছে, নাকি অদৃশ্য কারণে আত্মগোপনে আছেন নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। তবে ধারনা করা হচ্ছে দোকান এবং বাড়ী-ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় পালিয়ে গেছে এমন গুঞ্জন উঠেছে। নারীদের শেষ গচ্ছিত সম্পদ হারিয়ে শত শত নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ইলিশা।

প্রিয়জন হারানোর মত শোক বইছে নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে। ঈদ উপলক্ষে নতুন বিবাহ অনুষ্ঠানে কেউ জামাইয়ের জন্য কেউ বা হবু বউয়ের জন্য স্বর্ণ বানাতে পুরো টাকা দিয়ে হতাশ। কেউ স্বামীকে না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বিপদে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে। আবার সে টাকা ফেরত দিয়েছে। দুইদিন পর স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পালিয়ে যাওয়ার খবরে বারবার অজ্ঞান হতে দেখা গেছে অনেক নারীদের। অনেকের স্বামী খবর জানতে পারলে সংসার বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসনুর নামের এক নারী জানান, আমার ৭ ভরি স্বর্ণ। আমার মেয়ের, ননদের স্বর্ণ এনে বন্ধক রেখেছি সব শেষ। জিনিস না নিলে আমার মাইয়ার (মেয়ে) সংসার থাকবে না। বারেক দফাদার বলেন, ঈদের পরে মেয়ের বিবাহ, তাই দেড় ভরি স্বর্ণ দিয়ে জিনিস বানাতে দিয়েছি। টাকাও পরিশোধ করেছি। এখন আমার সব শেষ। এছাড়া নাজমা, ফাতেমা, হাজেরা, খালেক, অদুদ মাঝিসহ অসংখ্য গ্রাহক বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তবে সোহাগের বাড়ীতে গিয়ে ও কেউ না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ নন্দী জানান. সোহাগের খবরটি আমি শুনেছি। সোহাগ আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়, তবুও যেহেতু স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার এ ঘটনা দুঃখজনক।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ভোলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সোহাগ বালা বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও

আপডেট টাইম : ০৭:০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

গাজী তাহের লিটন, ভোলা

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা জংশন বাজারের সুইটি জুয়েলার্সের মালিক সোহাগ বালা গ্রাহকের কোটি টাকার বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে সপরিবারে উধাও হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে সোহাগের বন্ধ দোকানের সামনে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ ভীড় জমিয়েছেন। অনেকে সোহাগের ইলিশা বটতলা বাড়ীতে গিয়ে ভীড় জমিয়েছেন। তবে সোহাগের বসতঘর তালাবদ্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন, সেই সাথে পরিবারের সদস্যরাও লাপাত্তা।

এদিকে সোহাগ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে গেছে, নাকি অদৃশ্য কারণে আত্মগোপনে আছেন নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। তবে ধারনা করা হচ্ছে দোকান এবং বাড়ী-ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় পালিয়ে গেছে এমন গুঞ্জন উঠেছে। নারীদের শেষ গচ্ছিত সম্পদ হারিয়ে শত শত নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ইলিশা।

প্রিয়জন হারানোর মত শোক বইছে নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে। ঈদ উপলক্ষে নতুন বিবাহ অনুষ্ঠানে কেউ জামাইয়ের জন্য কেউ বা হবু বউয়ের জন্য স্বর্ণ বানাতে পুরো টাকা দিয়ে হতাশ। কেউ স্বামীকে না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বিপদে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে। আবার সে টাকা ফেরত দিয়েছে। দুইদিন পর স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পালিয়ে যাওয়ার খবরে বারবার অজ্ঞান হতে দেখা গেছে অনেক নারীদের। অনেকের স্বামী খবর জানতে পারলে সংসার বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসনুর নামের এক নারী জানান, আমার ৭ ভরি স্বর্ণ। আমার মেয়ের, ননদের স্বর্ণ এনে বন্ধক রেখেছি সব শেষ। জিনিস না নিলে আমার মাইয়ার (মেয়ে) সংসার থাকবে না। বারেক দফাদার বলেন, ঈদের পরে মেয়ের বিবাহ, তাই দেড় ভরি স্বর্ণ দিয়ে জিনিস বানাতে দিয়েছি। টাকাও পরিশোধ করেছি। এখন আমার সব শেষ। এছাড়া নাজমা, ফাতেমা, হাজেরা, খালেক, অদুদ মাঝিসহ অসংখ্য গ্রাহক বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তবে সোহাগের বাড়ীতে গিয়ে ও কেউ না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ নন্দী জানান. সোহাগের খবরটি আমি শুনেছি। সোহাগ আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়, তবুও যেহেতু স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার এ ঘটনা দুঃখজনক।