অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

ভোলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সোহাগ বালা বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও

গাজী তাহের লিটন, ভোলা

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা জংশন বাজারের সুইটি জুয়েলার্সের মালিক সোহাগ বালা গ্রাহকের কোটি টাকার বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে সপরিবারে উধাও হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে সোহাগের বন্ধ দোকানের সামনে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ ভীড় জমিয়েছেন। অনেকে সোহাগের ইলিশা বটতলা বাড়ীতে গিয়ে ভীড় জমিয়েছেন। তবে সোহাগের বসতঘর তালাবদ্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন, সেই সাথে পরিবারের সদস্যরাও লাপাত্তা।

এদিকে সোহাগ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে গেছে, নাকি অদৃশ্য কারণে আত্মগোপনে আছেন নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। তবে ধারনা করা হচ্ছে দোকান এবং বাড়ী-ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় পালিয়ে গেছে এমন গুঞ্জন উঠেছে। নারীদের শেষ গচ্ছিত সম্পদ হারিয়ে শত শত নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ইলিশা।

প্রিয়জন হারানোর মত শোক বইছে নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে। ঈদ উপলক্ষে নতুন বিবাহ অনুষ্ঠানে কেউ জামাইয়ের জন্য কেউ বা হবু বউয়ের জন্য স্বর্ণ বানাতে পুরো টাকা দিয়ে হতাশ। কেউ স্বামীকে না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বিপদে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে। আবার সে টাকা ফেরত দিয়েছে। দুইদিন পর স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পালিয়ে যাওয়ার খবরে বারবার অজ্ঞান হতে দেখা গেছে অনেক নারীদের। অনেকের স্বামী খবর জানতে পারলে সংসার বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসনুর নামের এক নারী জানান, আমার ৭ ভরি স্বর্ণ। আমার মেয়ের, ননদের স্বর্ণ এনে বন্ধক রেখেছি সব শেষ। জিনিস না নিলে আমার মাইয়ার (মেয়ে) সংসার থাকবে না। বারেক দফাদার বলেন, ঈদের পরে মেয়ের বিবাহ, তাই দেড় ভরি স্বর্ণ দিয়ে জিনিস বানাতে দিয়েছি। টাকাও পরিশোধ করেছি। এখন আমার সব শেষ। এছাড়া নাজমা, ফাতেমা, হাজেরা, খালেক, অদুদ মাঝিসহ অসংখ্য গ্রাহক বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তবে সোহাগের বাড়ীতে গিয়ে ও কেউ না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ নন্দী জানান. সোহাগের খবরটি আমি শুনেছি। সোহাগ আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়, তবুও যেহেতু স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার এ ঘটনা দুঃখজনক।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

ভোলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সোহাগ বালা বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও

আপডেট টাইম : ০৭:০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

গাজী তাহের লিটন, ভোলা

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা জংশন বাজারের সুইটি জুয়েলার্সের মালিক সোহাগ বালা গ্রাহকের কোটি টাকার বন্ধকী স্বর্ণালংকার নিয়ে সপরিবারে উধাও হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে সোহাগের বন্ধ দোকানের সামনে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ ভীড় জমিয়েছেন। অনেকে সোহাগের ইলিশা বটতলা বাড়ীতে গিয়ে ভীড় জমিয়েছেন। তবে সোহাগের বসতঘর তালাবদ্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন, সেই সাথে পরিবারের সদস্যরাও লাপাত্তা।

এদিকে সোহাগ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে গেছে, নাকি অদৃশ্য কারণে আত্মগোপনে আছেন নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। তবে ধারনা করা হচ্ছে দোকান এবং বাড়ী-ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় পালিয়ে গেছে এমন গুঞ্জন উঠেছে। নারীদের শেষ গচ্ছিত সম্পদ হারিয়ে শত শত নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ইলিশা।

প্রিয়জন হারানোর মত শোক বইছে নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে। ঈদ উপলক্ষে নতুন বিবাহ অনুষ্ঠানে কেউ জামাইয়ের জন্য কেউ বা হবু বউয়ের জন্য স্বর্ণ বানাতে পুরো টাকা দিয়ে হতাশ। কেউ স্বামীকে না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বিপদে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে। আবার সে টাকা ফেরত দিয়েছে। দুইদিন পর স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পালিয়ে যাওয়ার খবরে বারবার অজ্ঞান হতে দেখা গেছে অনেক নারীদের। অনেকের স্বামী খবর জানতে পারলে সংসার বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসনুর নামের এক নারী জানান, আমার ৭ ভরি স্বর্ণ। আমার মেয়ের, ননদের স্বর্ণ এনে বন্ধক রেখেছি সব শেষ। জিনিস না নিলে আমার মাইয়ার (মেয়ে) সংসার থাকবে না। বারেক দফাদার বলেন, ঈদের পরে মেয়ের বিবাহ, তাই দেড় ভরি স্বর্ণ দিয়ে জিনিস বানাতে দিয়েছি। টাকাও পরিশোধ করেছি। এখন আমার সব শেষ। এছাড়া নাজমা, ফাতেমা, হাজেরা, খালেক, অদুদ মাঝিসহ অসংখ্য গ্রাহক বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তবে সোহাগের বাড়ীতে গিয়ে ও কেউ না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভোলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ নন্দী জানান. সোহাগের খবরটি আমি শুনেছি। সোহাগ আমাদের সংগঠনের সদস্য নয়, তবুও যেহেতু স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার এ ঘটনা দুঃখজনক।