পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

আগরতলায় তিন বাংলাদেশিকে হত্যা

বাংলার খবর২৪.কম b34624_55991: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার সিন্ধিচোরা গ্রামে সোমবার রাতে তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর আলীনগর গ্রামের আসগর আলীর ছেলে করম আলী (৩৫) ও সমির মিয়ার ছেলে সুজন (২৪) ও আকল মিয়া (২৫)। এদের মধ্যে আহত অবস্থায় আকল মিয়াকে (২৫) ত্রিপুরার আগরতলা জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনার ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী তথ্য মিলেছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, তিন বাংলাদেশিকে হত্যা করার বিষয়টি তারা লোকমুখে শুনেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

চুনারুঘাটে বিজিবি বাল্লা ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তিন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনাটি বিজিবি জেনেছে। রেমা ক্যাম্পের টহল বাহিনীকে ভারতের বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে চার বাংলাদেশি বিএসএফ সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এ খবর সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তারা আগরতলায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। পারিবারিক সূত্র আরো জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা খবর পান যে তাদের আগরতলার সিন্ধিচোরা এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে। পরে খবর নিয়ে আরো জানতে পারেন যে, বিএসএফের গুলিতে করম আলী ও সুজন নিহত হন। আহত অবস্থায় আকল মিয়াকে বিএসএফ সদস্যরা আগরতলার জিবি হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় ভর্তি করার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। বিএসএফের হাত থেকে একজন বাংলাদেশি কৌশলে পালিয়ে আসেন।

এদিকে, বিজিবি’র শ্রীমঙ্গল সেক্টর সূত্রে জানা গেছে, এই চার বাংলাদেশি সোমবার বিকালে সিন্ধিচোরা ও বাসাইবাড়ি গ্রামে গরু কিনতে যায়। ওই সময় বিক্রেতাদের সঙ্গে গরুর দাম নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিক্রেতারা তাদের ‘গরু চোর’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে ওই গ্রামের একটি ঘরে আটকে রাখে। রাত ২ টার দিকে গ্রামবাসীরা একত্র হয়ে তাদের গণপিটুনি দেয়। এসময় একজন পালিয়ে আসলেও অপর তিনজনের মধ্যে দুই জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ গিয়ে ওই দুই লাশ উদ্ধার করে আগরতলা জিবি হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আহত একজনকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঢাকায় বিজিবি’র সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিজিবি’র শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তারিকুল আনাম খান বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে। বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডারের পক্ষ থেকে বিএসএফ ত্রিপুরার সেক্টর পর্যায়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ যথাযোগ্য মর্যাদায় হস্তান্তর করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বুধবার দুই দেশের সেক্টর পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন বাংলাদেশিকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে বলে বিজিবি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

আগরতলায় তিন বাংলাদেশিকে হত্যা

আপডেট টাইম : ০৩:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম b34624_55991: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার সিন্ধিচোরা গ্রামে সোমবার রাতে তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর আলীনগর গ্রামের আসগর আলীর ছেলে করম আলী (৩৫) ও সমির মিয়ার ছেলে সুজন (২৪) ও আকল মিয়া (২৫)। এদের মধ্যে আহত অবস্থায় আকল মিয়াকে (২৫) ত্রিপুরার আগরতলা জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনার ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী তথ্য মিলেছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, তিন বাংলাদেশিকে হত্যা করার বিষয়টি তারা লোকমুখে শুনেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

চুনারুঘাটে বিজিবি বাল্লা ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তিন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনাটি বিজিবি জেনেছে। রেমা ক্যাম্পের টহল বাহিনীকে ভারতের বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে চার বাংলাদেশি বিএসএফ সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এ খবর সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তারা আগরতলায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। পারিবারিক সূত্র আরো জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা খবর পান যে তাদের আগরতলার সিন্ধিচোরা এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে। পরে খবর নিয়ে আরো জানতে পারেন যে, বিএসএফের গুলিতে করম আলী ও সুজন নিহত হন। আহত অবস্থায় আকল মিয়াকে বিএসএফ সদস্যরা আগরতলার জিবি হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় ভর্তি করার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। বিএসএফের হাত থেকে একজন বাংলাদেশি কৌশলে পালিয়ে আসেন।

এদিকে, বিজিবি’র শ্রীমঙ্গল সেক্টর সূত্রে জানা গেছে, এই চার বাংলাদেশি সোমবার বিকালে সিন্ধিচোরা ও বাসাইবাড়ি গ্রামে গরু কিনতে যায়। ওই সময় বিক্রেতাদের সঙ্গে গরুর দাম নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিক্রেতারা তাদের ‘গরু চোর’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে ওই গ্রামের একটি ঘরে আটকে রাখে। রাত ২ টার দিকে গ্রামবাসীরা একত্র হয়ে তাদের গণপিটুনি দেয়। এসময় একজন পালিয়ে আসলেও অপর তিনজনের মধ্যে দুই জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ গিয়ে ওই দুই লাশ উদ্ধার করে আগরতলা জিবি হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আহত একজনকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঢাকায় বিজিবি’র সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বিজিবি’র শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তারিকুল আনাম খান বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে। বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডারের পক্ষ থেকে বিএসএফ ত্রিপুরার সেক্টর পর্যায়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ যথাযোগ্য মর্যাদায় হস্তান্তর করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বুধবার দুই দেশের সেক্টর পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন বাংলাদেশিকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে বলে বিজিবি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।