পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, আটক ভারতীয় কৃষক বিজিবির হেফাজতে

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার ফুলকাডাবরী গ্রামের ডাঙিরটারী সীমান্তের বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার অপরপাশে বাংলাদেশের উপজেলার পাটগ্রাম ২ নং ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকা অবস্থিত।

সীমান্তের ওই এলাকায় ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখার দুইপাশে উভয় দেশের কৃষকেরা নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করেন। মিজানুর রহমান মিজান নিজের ভুট্টাখেতে পরিচর্যা ও ঘাস আনতে গেলে ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতি ক্যাম্পের টহল দলের এক সদস্য তাকে ডেকে একটি ভুট্টার মোচা দেখতে চান। মিজান ভুট্টার মোচা/আটি দেওয়ার সময় পাশে থাকা অপর এক বিএসএফ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ডান কাঁধে গুলি লাগে। মিজান প্রাণ বাঁচাতে হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাখেত পেরিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পাশাপাশি থাকা বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার জমিতে চাষাবাদরত ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে নিয়ে আসেন। সহদেব ভারতের কোচবিহারের কুচলিবাড়ি থানার ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই শূন্যরেখার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্য অস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। এতে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সীমান্তঘেঁষা এলাকার অনেক নারী বাড়িঘর ছেড়ে শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) ধবলসুতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বাদশা মিয়া বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উভয় পক্ষের ক্যাম্প কমান্ডার ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেন।

বিজিবি জানিয়েছে, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বিএসএফ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত বলতে পারবো।’
অন্যদিকে, বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, আটক ভারতীয় কৃষক বিজিবির হেফাজতে

আপডেট টাইম : ১০:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার ফুলকাডাবরী গ্রামের ডাঙিরটারী সীমান্তের বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার অপরপাশে বাংলাদেশের উপজেলার পাটগ্রাম ২ নং ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকা অবস্থিত।

সীমান্তের ওই এলাকায় ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখার দুইপাশে উভয় দেশের কৃষকেরা নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করেন। মিজানুর রহমান মিজান নিজের ভুট্টাখেতে পরিচর্যা ও ঘাস আনতে গেলে ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতি ক্যাম্পের টহল দলের এক সদস্য তাকে ডেকে একটি ভুট্টার মোচা দেখতে চান। মিজান ভুট্টার মোচা/আটি দেওয়ার সময় পাশে থাকা অপর এক বিএসএফ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ডান কাঁধে গুলি লাগে। মিজান প্রাণ বাঁচাতে হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাখেত পেরিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পাশাপাশি থাকা বাংলাদেশ-ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বর উপপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখার জমিতে চাষাবাদরত ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে নিয়ে আসেন। সহদেব ভারতের কোচবিহারের কুচলিবাড়ি থানার ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই শূন্যরেখার প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্য অস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। এতে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সীমান্তঘেঁষা এলাকার অনেক নারী বাড়িঘর ছেড়ে শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) ধবলসুতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বাদশা মিয়া বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উভয় পক্ষের ক্যাম্প কমান্ডার ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেন।

বিজিবি জানিয়েছে, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বিএসএফ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। পতাকা বৈঠকের পর বিস্তারিত বলতে পারবো।’
অন্যদিকে, বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।