অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ পেশাদার মোটরযান চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ

‘৭১ নিয়ে বলার সময় শালীনতা থাকে না’

ঢাকা: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ লেখক জিয়া হায়দার রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সাল নিয়ে আলোচনায় সাধারণত শালীনতা থাকে না। গতকাল হে ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে তার প্রকাশিত উপন্যাস ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো নিয়ে আলোচনার সময় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে জিয়া হায়দার রহমান এ মন্তব্য করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

শনিবার উৎসবের শেষ দিনে জিয়া হায়দার তার লেখক হয়ে ওঠার গল্প বললেন। ৬০ মিনিটের হাস্যরসাত্মক এ আলোচনা শ্রোতারাও বেশ উপভোগ করেছেন।

পরে অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন শ্রোতা জানতে চান, বাংলাদেশের ইতিহাস তিনি একজন পাকিস্তানির মুখ দিয়ে কেন বলালেন-এর উত্তরে জিয়া বলেন, তার উপন্যাসের চরিত্র জাফর আসলে পাকিস্তানি নয়। সে বৃটিশ। ইংল্যান্ডেই পড়াশোনা করেছে। এমনকি পাকিস্তান সম্পর্কে সে তেমন কিছু জানেও না। আর পাসপোর্টভিত্তিক পরিচয়কে তেমন গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জিয়া হায়দারকে পরিচয় করিয়ে দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম। বাংলাদেশের সিলেটের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া জিয়া স্বাধীনতাযুদ্ধের পরপরই বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। তার বাবা সেখানে বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। দুস্থদের জন্য পরিচালিত একটি ভাঙাচোরা ঘরে থাকতেন তারা।

জিয়া পড়াশোনা করেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত ব্যালিওল কলেজে। এরপর তিনি কেমবৃজ, মিউনিখ ও ইয়েল ইউনিভার্সিটিতেও পড়েছেন। তিনি প্রথমে কাজ শুরু করেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হিসেবে। পরবর্তীকালে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেন।

ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো জিয়া হায়দারের প্রথম উপন্যাস। অনেকে তার এ বইটিকে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ক্ল্যাসিক হিসেবে তুলনা করেছেন। কেউ কেউ তাকে দেখেছেন জর্জ অরওয়েল ও ভি এস নাইপলের উত্তরসূরি হিসেবে।
অধিবেশনের সঞ্চালক ফিরদৌস আজিম বলেন, প্রথম আলোর মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ প্রথমে জিয়া হায়দারের কথা জেনেছে। এ সময় তাকে মাথা নেড়ে সায় জানাতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, এ বছরের ১৮ জুলাই প্রথম আলোতে জিয়া হায়দারের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। একই দিনে ‘সত্যের মোড়কে মিথ্যা’ শিরোনামে তাকে নিয়ে একটি লেখাও ছাপা হয়।
শুরুতেই সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে সময় কেমন কাটছে। এর উত্তরে জিয়া বলেন, ‘ভালো লাগছে। তবে আমি এতটা আশা করিনি। এমনকি এ সফর নিয়ে আমি চিন্তিতও ছিলাম।’ একপর্যায়ে জানালেন, তিনি বাংলা বলতে পারেন না। কিন্তু ‘সিলোটি মাতি’ বলে মজাও করলেন।

আলোচনায় জিয়া তার উপন্যাস, এর প্রধান দুই চরিত্র এবং বইটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হলো, সে গল্পও করলেন। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে এ ব্যাপারটি ভিন্ন। বিশেষ করে পশ্চিমের শিক্ষিত সমাজে এ দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালো সম্পর্কই রয়েছে।

নিজেকে ‘সেলিবৃটি’ মনে করেন না বলেও জানালেন জিয়া হায়দার। শ্রোতাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আমি আসলে অন্তর্মুখী স্বভাবের।’ এরপর সঞ্চালকের অনুরোধে নিজের বইয়ের কিছু অংশ পড়ে শোনালেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতাদের কেউ জানতে চাইলেন, গণিতের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক আছে কি না, এটি তাকে লিখতে সাহায্য করেছে কি না। একজন জিজ্ঞেস করলেন, তার আইন পড়া উপন্যাসটি লিখতে তাকে প্রভাবিত করেছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাগুলো এমন যে আমাদের শিক্ষকেরা প্রতিটি বিষয়কে আলাদা চিন্তা করেন।’ এটিকে বিরক্তিকর বললেন তিনি।

একজন গণিতবিদ ও মানবাধিকার আইনজীবীকে সবকিছু ফেলে লেখক হয়ে উঠতে কী প্রভাবিত করেছে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লেখক হতে আমাকে কী প্রভাবিত করেছে, এর উত্তর আসলে আমার কাছে নেই। আমি নিজেও এর উত্তর জানি না।’

একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি এর আগে বাংলাদেশে চার বছর কাটিয়ে গিয়েছেন। গত ১২ বছর আপনি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন? সে সময়ে বাংলাদেশকে পরিবর্তন করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন শুনেছিলাম। আপনি এখনো বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চান কি না?’

এ প্রশ্নের উত্তরে জিয়া বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে আসিনি, এসেছিলাম ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জন্য কাজ করতে। আর পরিবর্তন করতে চাই, কিন্তু এই দুপুরবেলায় কী করতে পারি’ বলে মজাও করলেন।– প্রথম আলো

Tag :

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ পেশাদার মোটরযান চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম

‘৭১ নিয়ে বলার সময় শালীনতা থাকে না’

আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ লেখক জিয়া হায়দার রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সাল নিয়ে আলোচনায় সাধারণত শালীনতা থাকে না। গতকাল হে ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে তার প্রকাশিত উপন্যাস ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো নিয়ে আলোচনার সময় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে জিয়া হায়দার রহমান এ মন্তব্য করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।

শনিবার উৎসবের শেষ দিনে জিয়া হায়দার তার লেখক হয়ে ওঠার গল্প বললেন। ৬০ মিনিটের হাস্যরসাত্মক এ আলোচনা শ্রোতারাও বেশ উপভোগ করেছেন।

পরে অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন শ্রোতা জানতে চান, বাংলাদেশের ইতিহাস তিনি একজন পাকিস্তানির মুখ দিয়ে কেন বলালেন-এর উত্তরে জিয়া বলেন, তার উপন্যাসের চরিত্র জাফর আসলে পাকিস্তানি নয়। সে বৃটিশ। ইংল্যান্ডেই পড়াশোনা করেছে। এমনকি পাকিস্তান সম্পর্কে সে তেমন কিছু জানেও না। আর পাসপোর্টভিত্তিক পরিচয়কে তেমন গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জিয়া হায়দারকে পরিচয় করিয়ে দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম। বাংলাদেশের সিলেটের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া জিয়া স্বাধীনতাযুদ্ধের পরপরই বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। তার বাবা সেখানে বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। দুস্থদের জন্য পরিচালিত একটি ভাঙাচোরা ঘরে থাকতেন তারা।

জিয়া পড়াশোনা করেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত ব্যালিওল কলেজে। এরপর তিনি কেমবৃজ, মিউনিখ ও ইয়েল ইউনিভার্সিটিতেও পড়েছেন। তিনি প্রথমে কাজ শুরু করেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হিসেবে। পরবর্তীকালে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেন।

ইন দ্য লাইট অব হোয়াট উই নো জিয়া হায়দারের প্রথম উপন্যাস। অনেকে তার এ বইটিকে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ক্ল্যাসিক হিসেবে তুলনা করেছেন। কেউ কেউ তাকে দেখেছেন জর্জ অরওয়েল ও ভি এস নাইপলের উত্তরসূরি হিসেবে।
অধিবেশনের সঞ্চালক ফিরদৌস আজিম বলেন, প্রথম আলোর মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ প্রথমে জিয়া হায়দারের কথা জেনেছে। এ সময় তাকে মাথা নেড়ে সায় জানাতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, এ বছরের ১৮ জুলাই প্রথম আলোতে জিয়া হায়দারের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। একই দিনে ‘সত্যের মোড়কে মিথ্যা’ শিরোনামে তাকে নিয়ে একটি লেখাও ছাপা হয়।
শুরুতেই সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে সময় কেমন কাটছে। এর উত্তরে জিয়া বলেন, ‘ভালো লাগছে। তবে আমি এতটা আশা করিনি। এমনকি এ সফর নিয়ে আমি চিন্তিতও ছিলাম।’ একপর্যায়ে জানালেন, তিনি বাংলা বলতে পারেন না। কিন্তু ‘সিলোটি মাতি’ বলে মজাও করলেন।

আলোচনায় জিয়া তার উপন্যাস, এর প্রধান দুই চরিত্র এবং বইটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হলো, সে গল্পও করলেন। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে এ ব্যাপারটি ভিন্ন। বিশেষ করে পশ্চিমের শিক্ষিত সমাজে এ দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালো সম্পর্কই রয়েছে।

নিজেকে ‘সেলিবৃটি’ মনে করেন না বলেও জানালেন জিয়া হায়দার। শ্রোতাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আমি আসলে অন্তর্মুখী স্বভাবের।’ এরপর সঞ্চালকের অনুরোধে নিজের বইয়ের কিছু অংশ পড়ে শোনালেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতাদের কেউ জানতে চাইলেন, গণিতের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক আছে কি না, এটি তাকে লিখতে সাহায্য করেছে কি না। একজন জিজ্ঞেস করলেন, তার আইন পড়া উপন্যাসটি লিখতে তাকে প্রভাবিত করেছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাগুলো এমন যে আমাদের শিক্ষকেরা প্রতিটি বিষয়কে আলাদা চিন্তা করেন।’ এটিকে বিরক্তিকর বললেন তিনি।

একজন গণিতবিদ ও মানবাধিকার আইনজীবীকে সবকিছু ফেলে লেখক হয়ে উঠতে কী প্রভাবিত করেছে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লেখক হতে আমাকে কী প্রভাবিত করেছে, এর উত্তর আসলে আমার কাছে নেই। আমি নিজেও এর উত্তর জানি না।’

একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি এর আগে বাংলাদেশে চার বছর কাটিয়ে গিয়েছেন। গত ১২ বছর আপনি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন? সে সময়ে বাংলাদেশকে পরিবর্তন করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন শুনেছিলাম। আপনি এখনো বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চান কি না?’

এ প্রশ্নের উত্তরে জিয়া বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে আসিনি, এসেছিলাম ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জন্য কাজ করতে। আর পরিবর্তন করতে চাই, কিন্তু এই দুপুরবেলায় কী করতে পারি’ বলে মজাও করলেন।– প্রথম আলো