অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ Logo মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ দিনের কারাদণ্ড Logo পাটগ্রামে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান Logo জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮ জন : বিআরটিএ Logo দায়িত্ব নিয়ে স্কুল পরিদর্শনে নবনির্বাচিত সভাপতি Logo লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত Logo তিস্তায় নতুন ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ কারিগরি কমিটির Logo এক দিন ছুটি নিলেই টানা ৪ দিনের ছুটি Logo স্বামী চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ Logo খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

মাদারীপুরে কিস্তি পরিশোধ না করায় ঘর ভেঙে নিল এনজিও

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার কাচারিকান্দি গ্রামে এনজিও আশার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় নাছিমা বেগম নামের এক দিনমজুরের বসতঘর ভেঙে নিয়ে গেছে এনজিও’র কর্মকর্তারা।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বসতঘর ভেঙ্গে নেয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এনজিও আশার কালকিনি উপজেলার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোন নেয় উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের আলিখার স্ত্রী নাছিমা বেগম। কিন্তু ৪ কিস্তি পরিষদের পরে দরিদ্র পরিবারটি আর কিস্তি দিতে না পারায় এনজিও কর্মকর্তারা পরিবারটির ওপর চরমভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে ঋণগ্রস্ত পরিবারটি।

ঋণগ্রস্ত নাছিমার মেয়ে লিমা বলেন, ‘আমি এনায়েতনগর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং আগামীতে আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু মায়ের ঋণের কারণে এনজিওর কর্মীরা কিস্তির টাকার সন্ধ্যার পরে এসে আমাদের ঘরে বসে থাকে। এতে লজ্জায় আমি কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছি। কিন্তু আমার মা ও বাড়ির লোকজন ফিরিয়ে এনেছে। এখন তারা আমাদের শেষ আশ্রয় বসতঘরও ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। জানিনা এখন আমরা কোথায় যাব।’

এ ব্যাপারে ঋণগ্রস্ত নাছিমা বেগম বলেন, ‘কিস্তির টাকা দিতে না পারায় কোথায় থেকে এক লোক এসে বলে আমাদের থাকার ঘর ১৫হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ বলেই ঘরভেঙে নেয় আর আমরা অসহায় হয়ে চোখের সামনে নিজেদের শেষ আশ্রয় নিয়ে যেতে দেখি। এখন কোথায় গিয়ে থাকবো জানিনা। তারা আমাদের দেয়া ৪কিস্তির টাকাও ফেরত দেয়নি’।

ঘরভেঙে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এনজিও আশার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আ. রউফ ও সহকারী ম্যানেজার নাজমুল হোসেন বলেন ‘ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় সেই পরিবারটিই ঘর বিক্রি করেছে আমরা শুধু ক্রেতা ঠিক করে দিয়েছি।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

মাদারীপুরে কিস্তি পরিশোধ না করায় ঘর ভেঙে নিল এনজিও

আপডেট টাইম : ০৪:৩৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০১৫

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার কাচারিকান্দি গ্রামে এনজিও আশার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় নাছিমা বেগম নামের এক দিনমজুরের বসতঘর ভেঙে নিয়ে গেছে এনজিও’র কর্মকর্তারা।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বসতঘর ভেঙ্গে নেয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এনজিও আশার কালকিনি উপজেলার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোন নেয় উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের আলিখার স্ত্রী নাছিমা বেগম। কিন্তু ৪ কিস্তি পরিষদের পরে দরিদ্র পরিবারটি আর কিস্তি দিতে না পারায় এনজিও কর্মকর্তারা পরিবারটির ওপর চরমভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে ঋণগ্রস্ত পরিবারটি।

ঋণগ্রস্ত নাছিমার মেয়ে লিমা বলেন, ‘আমি এনায়েতনগর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং আগামীতে আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু মায়ের ঋণের কারণে এনজিওর কর্মীরা কিস্তির টাকার সন্ধ্যার পরে এসে আমাদের ঘরে বসে থাকে। এতে লজ্জায় আমি কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছি। কিন্তু আমার মা ও বাড়ির লোকজন ফিরিয়ে এনেছে। এখন তারা আমাদের শেষ আশ্রয় বসতঘরও ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। জানিনা এখন আমরা কোথায় যাব।’

এ ব্যাপারে ঋণগ্রস্ত নাছিমা বেগম বলেন, ‘কিস্তির টাকা দিতে না পারায় কোথায় থেকে এক লোক এসে বলে আমাদের থাকার ঘর ১৫হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ বলেই ঘরভেঙে নেয় আর আমরা অসহায় হয়ে চোখের সামনে নিজেদের শেষ আশ্রয় নিয়ে যেতে দেখি। এখন কোথায় গিয়ে থাকবো জানিনা। তারা আমাদের দেয়া ৪কিস্তির টাকাও ফেরত দেয়নি’।

ঘরভেঙে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এনজিও আশার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আ. রউফ ও সহকারী ম্যানেজার নাজমুল হোসেন বলেন ‘ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় সেই পরিবারটিই ঘর বিক্রি করেছে আমরা শুধু ক্রেতা ঠিক করে দিয়েছি।’