পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

মাদারীপুরে কিস্তি পরিশোধ না করায় ঘর ভেঙে নিল এনজিও

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার কাচারিকান্দি গ্রামে এনজিও আশার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় নাছিমা বেগম নামের এক দিনমজুরের বসতঘর ভেঙে নিয়ে গেছে এনজিও’র কর্মকর্তারা।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বসতঘর ভেঙ্গে নেয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এনজিও আশার কালকিনি উপজেলার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোন নেয় উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের আলিখার স্ত্রী নাছিমা বেগম। কিন্তু ৪ কিস্তি পরিষদের পরে দরিদ্র পরিবারটি আর কিস্তি দিতে না পারায় এনজিও কর্মকর্তারা পরিবারটির ওপর চরমভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে ঋণগ্রস্ত পরিবারটি।

ঋণগ্রস্ত নাছিমার মেয়ে লিমা বলেন, ‘আমি এনায়েতনগর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং আগামীতে আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু মায়ের ঋণের কারণে এনজিওর কর্মীরা কিস্তির টাকার সন্ধ্যার পরে এসে আমাদের ঘরে বসে থাকে। এতে লজ্জায় আমি কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছি। কিন্তু আমার মা ও বাড়ির লোকজন ফিরিয়ে এনেছে। এখন তারা আমাদের শেষ আশ্রয় বসতঘরও ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। জানিনা এখন আমরা কোথায় যাব।’

এ ব্যাপারে ঋণগ্রস্ত নাছিমা বেগম বলেন, ‘কিস্তির টাকা দিতে না পারায় কোথায় থেকে এক লোক এসে বলে আমাদের থাকার ঘর ১৫হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ বলেই ঘরভেঙে নেয় আর আমরা অসহায় হয়ে চোখের সামনে নিজেদের শেষ আশ্রয় নিয়ে যেতে দেখি। এখন কোথায় গিয়ে থাকবো জানিনা। তারা আমাদের দেয়া ৪কিস্তির টাকাও ফেরত দেয়নি’।

ঘরভেঙে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এনজিও আশার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আ. রউফ ও সহকারী ম্যানেজার নাজমুল হোসেন বলেন ‘ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় সেই পরিবারটিই ঘর বিক্রি করেছে আমরা শুধু ক্রেতা ঠিক করে দিয়েছি।’

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

মাদারীপুরে কিস্তি পরিশোধ না করায় ঘর ভেঙে নিল এনজিও

আপডেট টাইম : ০৪:৩৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০১৫

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার কাচারিকান্দি গ্রামে এনজিও আশার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় নাছিমা বেগম নামের এক দিনমজুরের বসতঘর ভেঙে নিয়ে গেছে এনজিও’র কর্মকর্তারা।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বসতঘর ভেঙ্গে নেয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি এনজিও আশার কালকিনি উপজেলার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোন নেয় উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের আলিখার স্ত্রী নাছিমা বেগম। কিন্তু ৪ কিস্তি পরিষদের পরে দরিদ্র পরিবারটি আর কিস্তি দিতে না পারায় এনজিও কর্মকর্তারা পরিবারটির ওপর চরমভাবে চাপ প্রয়োগ করে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে ঋণগ্রস্ত পরিবারটি।

ঋণগ্রস্ত নাছিমার মেয়ে লিমা বলেন, ‘আমি এনায়েতনগর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং আগামীতে আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু মায়ের ঋণের কারণে এনজিওর কর্মীরা কিস্তির টাকার সন্ধ্যার পরে এসে আমাদের ঘরে বসে থাকে। এতে লজ্জায় আমি কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছি। কিন্তু আমার মা ও বাড়ির লোকজন ফিরিয়ে এনেছে। এখন তারা আমাদের শেষ আশ্রয় বসতঘরও ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। জানিনা এখন আমরা কোথায় যাব।’

এ ব্যাপারে ঋণগ্রস্ত নাছিমা বেগম বলেন, ‘কিস্তির টাকা দিতে না পারায় কোথায় থেকে এক লোক এসে বলে আমাদের থাকার ঘর ১৫হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ বলেই ঘরভেঙে নেয় আর আমরা অসহায় হয়ে চোখের সামনে নিজেদের শেষ আশ্রয় নিয়ে যেতে দেখি। এখন কোথায় গিয়ে থাকবো জানিনা। তারা আমাদের দেয়া ৪কিস্তির টাকাও ফেরত দেয়নি’।

ঘরভেঙে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এনজিও আশার সমিতিরহাট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আ. রউফ ও সহকারী ম্যানেজার নাজমুল হোসেন বলেন ‘ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় সেই পরিবারটিই ঘর বিক্রি করেছে আমরা শুধু ক্রেতা ঠিক করে দিয়েছি।’