অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ইবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সাথে কর্মকর্তাদের হাতাহাতি

ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের জেরে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সাথে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের সহকারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার বেলা দেড়টার দিকে ট্রেজারারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিকে ভিসির বিরুদ্ধে ট্রেজারারের ১৬ দফা শিরোনামে একটি সাংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদটিতে ভিসির বিরুদ্ধে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে।

এই সংবাদের সত্যতা যাচাই করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী প্রগতিশীল শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন ও প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক শিক্ষক ট্রেজারারের কাছে গিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে জানতে চায়। সেখানে তারা ভিসি বিরুদ্ধে কেন এ ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক পর্যায় ট্রেজারার এবং ওই শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হৈচৈ শুরু হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রো-ভিসির পিএস আব্দুল হান্নান এবং ট্রেজারারের পিএস আলমগীর হোসেন খান শিক্ষকদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা শিক্ষকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে শিকক্ষকদের গায়ে হাত তুলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

পরে শিক্ষকরা ট্রেজাররকে তার কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এসময় ট্রেজারার প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের কক্ষে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে শিক্ষকরা গিয়ে ট্রেজারারকে ভিসি অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আরফিনকে ‘হু আর ইউ’ বললে আবারও ট্রেজারারের একান্তসহকারী, প্রো-ভিসির একান্তসহকারী এবং গিয়াস উদ্দিন নামে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আবারও শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেন।

পরে প্রো-ভিসি ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেনকে ও শিক্ষকদের সাথে নিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিমের কক্ষে আসেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ বেলা আড়াইটার দিকে ভিসি অফিসের সভা কক্ষে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্য আচরণের দায়ে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের ওই দুই পিএসকে ওই অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসময় বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন, রেজিস্ট্রার এস এম আবদুল লতিফ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কুদ্দুস মোহাম্মদ সালেহ, প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী, প্রফেসর ড, মাহবুবুল আরফিন, প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান প্রমুখ।

এদিকে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন এ ধরণের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

এবিষয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতা প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, “আমরা সবসময় চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাক। কিন্তু ট্রেজারার ভিসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে একটি জাতীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা ওই নিউজ অনুযায়ী ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গুলো তার কাছে থেকে সত্যতা যাচাই করার জন্য তার কাছে গেলে, ট্রেজারার আমাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন

ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বলেন,“শিক্ষরা আমার সাথে যেটি করেছে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আচরন নয়। আমি শিক্ষকদের ভালভাবে বারবার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করার পরেও তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। আমাকে লাঞ্চিত করেছে।”

ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন“ ট্রেজারারের সাথে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত। আমরা বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছি।”

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ইবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সাথে কর্মকর্তাদের হাতাহাতি

আপডেট টাইম : ০৫:৩৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০১৫

ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের জেরে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সাথে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের সহকারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার বেলা দেড়টার দিকে ট্রেজারারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিকে ভিসির বিরুদ্ধে ট্রেজারারের ১৬ দফা শিরোনামে একটি সাংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদটিতে ভিসির বিরুদ্ধে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে।

এই সংবাদের সত্যতা যাচাই করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী প্রগতিশীল শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন ও প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক শিক্ষক ট্রেজারারের কাছে গিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে জানতে চায়। সেখানে তারা ভিসি বিরুদ্ধে কেন এ ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক পর্যায় ট্রেজারার এবং ওই শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হৈচৈ শুরু হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রো-ভিসির পিএস আব্দুল হান্নান এবং ট্রেজারারের পিএস আলমগীর হোসেন খান শিক্ষকদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা শিক্ষকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে শিকক্ষকদের গায়ে হাত তুলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

পরে শিক্ষকরা ট্রেজাররকে তার কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এসময় ট্রেজারার প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের কক্ষে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে শিক্ষকরা গিয়ে ট্রেজারারকে ভিসি অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আরফিনকে ‘হু আর ইউ’ বললে আবারও ট্রেজারারের একান্তসহকারী, প্রো-ভিসির একান্তসহকারী এবং গিয়াস উদ্দিন নামে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আবারও শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেন।

পরে প্রো-ভিসি ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেনকে ও শিক্ষকদের সাথে নিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিমের কক্ষে আসেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ বেলা আড়াইটার দিকে ভিসি অফিসের সভা কক্ষে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্য আচরণের দায়ে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের ওই দুই পিএসকে ওই অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসময় বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন, রেজিস্ট্রার এস এম আবদুল লতিফ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কুদ্দুস মোহাম্মদ সালেহ, প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী, প্রফেসর ড, মাহবুবুল আরফিন, প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান প্রমুখ।

এদিকে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন এ ধরণের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

এবিষয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতা প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, “আমরা সবসময় চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাক। কিন্তু ট্রেজারার ভিসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে একটি জাতীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা ওই নিউজ অনুযায়ী ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গুলো তার কাছে থেকে সত্যতা যাচাই করার জন্য তার কাছে গেলে, ট্রেজারার আমাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন

ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বলেন,“শিক্ষরা আমার সাথে যেটি করেছে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আচরন নয়। আমি শিক্ষকদের ভালভাবে বারবার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করার পরেও তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। আমাকে লাঞ্চিত করেছে।”

ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন“ ট্রেজারারের সাথে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত। আমরা বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছি।”