পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

দারোয়ান পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ; পদোন্নতি সত্ত্বেও গ্রহণ করেননি যিনি

ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক সবার কাছে এক নামে পরিচিত ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহের অধিকারী দারোয়ান আলমগীর। অনেকে তাকে আলম সাইজী বলেও ডাকেন। যে নামেই ডাকা হোক, তাতে আপত্তি নেই তার।

নিজেকে দারোয়ান পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই সহজ-সরল মানুষটি। এই পরিচয় মুছে যাবে বলে তিনি কয়েকবার পদোন্নতি হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেননি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলম সাইজী বলেন, ‘দারোয়ানের কাজ করি বলেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। বিচারপতি, আইনজীবীদের সঙ্গে সালাম বিনিময় হয়। বিচারপতিরা যখন আমার নাম ধরে ডাকেন, তখন অনেক ভালো লাগে। নিজেকে গর্বিত মনে হয়। তাই যত দিন চাকরি আছে এই পরিচয়েই থাকতে চাই।’

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাকে ভালো চোখে দেখেন বলে জানান তিনি।

৩৩ বছর ধরে কখনো সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ভবন, কখনো এনেক্স ভবনের প্রবেশপথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আলমগীর। অনেক ঐতিহাসিক মামলার রায় তার চোখের সামনে দিয়ে হয়েছে।

আলম সাইজী বলেন, ‘খুকুমনি হত্যা মামলা, তসলিমা নাসরিনের মামলা, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলার রায়, যুদ্ধাপরাধীদের মামলার রায় হওয়ার সময়ের ঘটনা আমি স্বচক্ষে দেখেছি।’

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট-বার সংযোগ করিডোরে দায়িত্ব পালন করার সময়ের একটি ঘটনার কথা ভুলতে পারেন না আলম সাইজী। তিনি বলেন, ‘সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মামলার রায় ছিল। খবর সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ির কারণে সুপ্রিম কোর্ট-বার ওভারব্রিজ থেকে দুজন সাংবাদিক নিচে পড়ে যান। তারা মারাত্মক আহত হন। শুনেছি তাদের একজন মারা গেছেন। এই ঘটনাটি মনে হলে এখনো খুব খারাপ লাগে।’

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উচ্চ আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আলম সাইজী। দেহ তল্লাশি করতে গিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘একদিন দেহ তল্লাশি করার সময় এক ব্যক্তিকে অবৈধ অস্ত্রসহ ধরে ফেলি। পরে তাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করি।’

হাইকোর্টের সরকারি টিনশেড কোয়ার্টারে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে বাস করেন আলম সাইজী। সংসারে প্রাচুর্য না থাকলেও অভাব নেই তার।

তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করছে আর ছোট মেয়েটা সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। বলতে পারেন ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখেই আছি।’

৬০ বছরের কাছাকাছি বয়স আলম সাইজীর। নিজের ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহ নিয়ে গর্ববোধ করেন। তিনি বলেন, ‘ছয় ভাই-বোনের মধ্যে অন্য কেউ আমার মতো লম্বা নয়। আমি লম্বা হওয়ার কারণে গর্ববোধ করি। তবে একদিন গুলিস্তানে আমার চেয়েও লম্বা মানুষ দেখেছি। বেশি লম্বা হওয়ার কারণে পোশাক-আশাক আমাকে অর্ডার দিয়ে তৈরি করতে হয়।’

অবসরে লালনের গান শুনতে ভালোবাসেন তিনি। নিরামিষ জাতীয় খাবার খান প্রচুর পরিমাণে। আর চাকরি শেষে ফিরে যেতে চান নিজ জন্মভূমি যশোরের কোতোয়ালি থানার সবুজ ছায়া ঘেরা বাহাদুরপুর গ্রামে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

দারোয়ান পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ; পদোন্নতি সত্ত্বেও গ্রহণ করেননি যিনি

আপডেট টাইম : ০৩:৫১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬

ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক সবার কাছে এক নামে পরিচিত ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহের অধিকারী দারোয়ান আলমগীর। অনেকে তাকে আলম সাইজী বলেও ডাকেন। যে নামেই ডাকা হোক, তাতে আপত্তি নেই তার।

নিজেকে দারোয়ান পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই সহজ-সরল মানুষটি। এই পরিচয় মুছে যাবে বলে তিনি কয়েকবার পদোন্নতি হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেননি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলম সাইজী বলেন, ‘দারোয়ানের কাজ করি বলেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। বিচারপতি, আইনজীবীদের সঙ্গে সালাম বিনিময় হয়। বিচারপতিরা যখন আমার নাম ধরে ডাকেন, তখন অনেক ভালো লাগে। নিজেকে গর্বিত মনে হয়। তাই যত দিন চাকরি আছে এই পরিচয়েই থাকতে চাই।’

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাকে ভালো চোখে দেখেন বলে জানান তিনি।

৩৩ বছর ধরে কখনো সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ভবন, কখনো এনেক্স ভবনের প্রবেশপথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আলমগীর। অনেক ঐতিহাসিক মামলার রায় তার চোখের সামনে দিয়ে হয়েছে।

আলম সাইজী বলেন, ‘খুকুমনি হত্যা মামলা, তসলিমা নাসরিনের মামলা, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলার রায়, যুদ্ধাপরাধীদের মামলার রায় হওয়ার সময়ের ঘটনা আমি স্বচক্ষে দেখেছি।’

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট-বার সংযোগ করিডোরে দায়িত্ব পালন করার সময়ের একটি ঘটনার কথা ভুলতে পারেন না আলম সাইজী। তিনি বলেন, ‘সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মামলার রায় ছিল। খবর সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ির কারণে সুপ্রিম কোর্ট-বার ওভারব্রিজ থেকে দুজন সাংবাদিক নিচে পড়ে যান। তারা মারাত্মক আহত হন। শুনেছি তাদের একজন মারা গেছেন। এই ঘটনাটি মনে হলে এখনো খুব খারাপ লাগে।’

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উচ্চ আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আলম সাইজী। দেহ তল্লাশি করতে গিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘একদিন দেহ তল্লাশি করার সময় এক ব্যক্তিকে অবৈধ অস্ত্রসহ ধরে ফেলি। পরে তাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করি।’

হাইকোর্টের সরকারি টিনশেড কোয়ার্টারে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে বাস করেন আলম সাইজী। সংসারে প্রাচুর্য না থাকলেও অভাব নেই তার।

তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করছে আর ছোট মেয়েটা সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। বলতে পারেন ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখেই আছি।’

৬০ বছরের কাছাকাছি বয়স আলম সাইজীর। নিজের ৬ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা দেহ নিয়ে গর্ববোধ করেন। তিনি বলেন, ‘ছয় ভাই-বোনের মধ্যে অন্য কেউ আমার মতো লম্বা নয়। আমি লম্বা হওয়ার কারণে গর্ববোধ করি। তবে একদিন গুলিস্তানে আমার চেয়েও লম্বা মানুষ দেখেছি। বেশি লম্বা হওয়ার কারণে পোশাক-আশাক আমাকে অর্ডার দিয়ে তৈরি করতে হয়।’

অবসরে লালনের গান শুনতে ভালোবাসেন তিনি। নিরামিষ জাতীয় খাবার খান প্রচুর পরিমাণে। আর চাকরি শেষে ফিরে যেতে চান নিজ জন্মভূমি যশোরের কোতোয়ালি থানার সবুজ ছায়া ঘেরা বাহাদুরপুর গ্রামে।