অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo ১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ Logo পাটগ্রাম পৌরসভায় IUGIP প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শকরণ সভা Logo বিআরটিএ মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৪ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪

স্বজনদের চিনতে পারছেন খাদিজা

ডেস্ক : ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হাতে গুরুতর জখম কলেজ ছাত্রী খাদিজা এখন আত্মীয়-স্বজনদের চিনতে পারছেন। আগের তুলনায় আরো অনেকটা সুস্থ তিনি। আগামী সপ্তাহে আবারো তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

খাদিজার পারিবারিক সূত্র জানান, স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা ধীরে ধীরে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন। নিউরোলজি ইউনিট থেকে আগামী সপ্তাহে তাকে ফের কেবিনে আনা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত সোমবার খাদিজার শরীরে তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচার (বাম হাত ও মাথায়) শেষে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোলজি ইউনিটে রাখা হয়।

অন্যদিকে খাদিজা বাবা মাসুক মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এখনো সে বাবা-মাসহ স্বজনদের চিনতে পারছে। আস্তে আস্তে কথাও বলছে। তবে মাঝেমধ্যে স্বজনদের চিনতে সমস্যা হয়। খাদিজার শরীরের বাম অংশ নিয়ে এখনো তারা কিছুটা চিন্তিত।

স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খাদিজার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। তবে এমন মুমূর্ষু রোগীকে বর্তমান অবস্থায় ফিরিয়ে আনা চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।

ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের নৃশংস হামলার শিকার সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ৪ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। ওই দিন বিকেলেই তার মাথায় একাধিক অস্ত্রোপচারের পর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় ১৩ অক্টোবর খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খোলা হয়।

চাপাতির কোপে ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়ায় তার ডান হাতে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয় ১৭ অক্টোবর।

এদিনই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকেলে দুই-তিন সপ্তাহ পর খাদিজার বাম হাতেও অস্ত্রোপচার করা হবে। ২৬ অক্টোবর রাতে স্কয়ার হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) কেবিনে নেয়া হয় খাজিদাকে। এরপর থেকেই মাঝেমাঝে তাকে হুইলচেয়ারে করে ঘোরানোর পাশাপাশি পাউরুটি, জেলি, লাচ্ছি ও চা খেতে দেয়া হয়।

গত ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কোপায় বদরুল আলম নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। ঘটনার সময় হাতে নাতে আটক হামলাকারী বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। ৫ অক্টোবর সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হামলাকারী বদরুল। এতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেন বদরুল। বর্তমানে সিলেট কারাগারে রয়েছেন তিনি।

বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। খাদিজার ওপর হামলার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। বখাটে বদরুল ছাতক উপজেলার মনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ

স্বজনদের চিনতে পারছেন খাদিজা

আপডেট টাইম : ০৩:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০১৬

ডেস্ক : ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হাতে গুরুতর জখম কলেজ ছাত্রী খাদিজা এখন আত্মীয়-স্বজনদের চিনতে পারছেন। আগের তুলনায় আরো অনেকটা সুস্থ তিনি। আগামী সপ্তাহে আবারো তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

খাদিজার পারিবারিক সূত্র জানান, স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা ধীরে ধীরে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন। নিউরোলজি ইউনিট থেকে আগামী সপ্তাহে তাকে ফের কেবিনে আনা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত সোমবার খাদিজার শরীরে তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচার (বাম হাত ও মাথায়) শেষে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোলজি ইউনিটে রাখা হয়।

অন্যদিকে খাদিজা বাবা মাসুক মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এখনো সে বাবা-মাসহ স্বজনদের চিনতে পারছে। আস্তে আস্তে কথাও বলছে। তবে মাঝেমধ্যে স্বজনদের চিনতে সমস্যা হয়। খাদিজার শরীরের বাম অংশ নিয়ে এখনো তারা কিছুটা চিন্তিত।

স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খাদিজার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। তবে এমন মুমূর্ষু রোগীকে বর্তমান অবস্থায় ফিরিয়ে আনা চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।

ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের নৃশংস হামলার শিকার সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ৪ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। ওই দিন বিকেলেই তার মাথায় একাধিক অস্ত্রোপচারের পর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় ১৩ অক্টোবর খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খোলা হয়।

চাপাতির কোপে ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়ায় তার ডান হাতে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হয় ১৭ অক্টোবর।

এদিনই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকেলে দুই-তিন সপ্তাহ পর খাদিজার বাম হাতেও অস্ত্রোপচার করা হবে। ২৬ অক্টোবর রাতে স্কয়ার হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) কেবিনে নেয়া হয় খাজিদাকে। এরপর থেকেই মাঝেমাঝে তাকে হুইলচেয়ারে করে ঘোরানোর পাশাপাশি পাউরুটি, জেলি, লাচ্ছি ও চা খেতে দেয়া হয়।

গত ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কোপায় বদরুল আলম নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। ঘটনার সময় হাতে নাতে আটক হামলাকারী বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। ৫ অক্টোবর সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হামলাকারী বদরুল। এতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেন বদরুল। বর্তমানে সিলেট কারাগারে রয়েছেন তিনি।

বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। খাদিজার ওপর হামলার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। বখাটে বদরুল ছাতক উপজেলার মনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।