পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

সরাইলে শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা ডাক্তার হতে চাই

(ব্রাহ্মণবড়িয়া) : ব্রাহ্মণবড়িয়া সরাইলে শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা ডাক্তার হতে চাই জন্মগতভাবে শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে পৃথিবীতে এসেছি। এতে হতাশ হননি আমার মা-বাবা। আমি যখন বুঝতে শিখেছি তখন হতাশ হয়নি আমিও। নিয়তিকে মেনে অজানা ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধ শত দু:খ-কষ্টের মাঝেও আমাকে ছোট থেকে বড় করে পৃথিবীতে বেচেঁ থাকার লড়াইয়ে যোগ্য করে গড়ে তুলতে আমার মা-বাবা আমাকে শিশু শ্রেণি থেকে লেখা-পড়া করিয়ে বর্তমানে ৭ম শ্রেণিতে পড়া-লেখা করাচ্ছেন। বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই।

দেশের ছোট শিশু-কিশোরসহ সকল মানুষের সেবা দিতে চাই। আমার মত শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে কোনো শিশু যেন কোনো মা-বাবার কোলে না জন্মে। আর স্রষ্টার ইশারায় শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিলেও তারা যেন লেখা-পড়া শিখে আমার মত ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামের ভ্যান চালক মো: চানঁ মিয়া ও গৃহিনী মোছা: জাহানারা বেগমের একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং উপজেলার সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মোছাম্মৎ আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) উপরোক্ত এ কথাগুলো বলেন। পরিবারে আয়েশা ছাড়াও তার শিশু শ্রেণিতে পড়–য়া মো: মোতাসিন রহমান সিয়াম নামে এক ভাই রয়েছে।

১২ডিসেম্বর সোমবার সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হুইল চেয়ারে বসা শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। একান্ত আলাপ চারিতাই আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) বলেন, নিজ সরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ ২.৬৭ পেয়ে পিএসসি
পরীক্ষা পাশ করে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বর্তমানে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিতেছি।

আমার স্বপ্ন হচ্ছে বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হব। আমার মা, বাবা, চাচাত ভাই তারা হুইল চেয়ারে করে আমাকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে আসে আবার ছুটির সময় তারা এসে আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

বিদ্যালয় ছুটি শেষে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা চলে যায় অথচ হুইল চেয়ারে বসে তুমি অপেক্ষা কর তোমাকে কেউ এসে নিয়ে যাবে, এমন সময় তোমার কেমন লাগে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) বলেন, প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগত। একা একা কান্না করতাম। এখন আর খারাপ লাগে না। এ ব্যাপারে শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তারের মা জাহানারা বেগম প্রথমে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢুঁকরে কেঁদে বলেন জন্মগতভাবে আমার মেয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধী। তার শরীরের সার্বিক গঠন ভাল থাকলেও পা দুটি নিয়ে সোজা হয়ে দাড়াঁতে পারে না। হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতে হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া-লেখার সময় সরাইল উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে একটি হুইল চেয়ার দিয়েছিল। সেই হুইল চেয়ার দিয়ে আয়েশা এখনও বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারী তেমন কোনো সাহায্য পায়নি। আর্থিক দৈন্যতা সত্তেও¡ আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে আমি সাধ্যমত লেখা-পড়া চালিয়ে নিচ্ছি। আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরনে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আইয়ুব খান বলেন মোছাম্মৎ আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) আমার প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির একজন মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছাত্রী।

তার শ্রেণি রোল নং: ১৮৭। সে নিয়মিত তার মা-বাবাসহ নিকটাত্বীয়দের সহায়তায় হুইল চেয়ারে করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতেছে। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তার লেখা-পড়া চালিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে ।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

সরাইলে শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা ডাক্তার হতে চাই

আপডেট টাইম : ০৪:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জানুয়ারী ২০১৭

(ব্রাহ্মণবড়িয়া) : ব্রাহ্মণবড়িয়া সরাইলে শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা ডাক্তার হতে চাই জন্মগতভাবে শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে পৃথিবীতে এসেছি। এতে হতাশ হননি আমার মা-বাবা। আমি যখন বুঝতে শিখেছি তখন হতাশ হয়নি আমিও। নিয়তিকে মেনে অজানা ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধ শত দু:খ-কষ্টের মাঝেও আমাকে ছোট থেকে বড় করে পৃথিবীতে বেচেঁ থাকার লড়াইয়ে যোগ্য করে গড়ে তুলতে আমার মা-বাবা আমাকে শিশু শ্রেণি থেকে লেখা-পড়া করিয়ে বর্তমানে ৭ম শ্রেণিতে পড়া-লেখা করাচ্ছেন। বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই।

দেশের ছোট শিশু-কিশোরসহ সকল মানুষের সেবা দিতে চাই। আমার মত শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে কোনো শিশু যেন কোনো মা-বাবার কোলে না জন্মে। আর স্রষ্টার ইশারায় শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিলেও তারা যেন লেখা-পড়া শিখে আমার মত ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামের ভ্যান চালক মো: চানঁ মিয়া ও গৃহিনী মোছা: জাহানারা বেগমের একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং উপজেলার সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মোছাম্মৎ আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) উপরোক্ত এ কথাগুলো বলেন। পরিবারে আয়েশা ছাড়াও তার শিশু শ্রেণিতে পড়–য়া মো: মোতাসিন রহমান সিয়াম নামে এক ভাই রয়েছে।

১২ডিসেম্বর সোমবার সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হুইল চেয়ারে বসা শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। একান্ত আলাপ চারিতাই আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) বলেন, নিজ সরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ ২.৬৭ পেয়ে পিএসসি
পরীক্ষা পাশ করে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বর্তমানে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিতেছি।

আমার স্বপ্ন হচ্ছে বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হব। আমার মা, বাবা, চাচাত ভাই তারা হুইল চেয়ারে করে আমাকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে আসে আবার ছুটির সময় তারা এসে আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

বিদ্যালয় ছুটি শেষে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা চলে যায় অথচ হুইল চেয়ারে বসে তুমি অপেক্ষা কর তোমাকে কেউ এসে নিয়ে যাবে, এমন সময় তোমার কেমন লাগে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) বলেন, প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগত। একা একা কান্না করতাম। এখন আর খারাপ লাগে না। এ ব্যাপারে শারিরীক প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তারের মা জাহানারা বেগম প্রথমে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢুঁকরে কেঁদে বলেন জন্মগতভাবে আমার মেয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধী। তার শরীরের সার্বিক গঠন ভাল থাকলেও পা দুটি নিয়ে সোজা হয়ে দাড়াঁতে পারে না। হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতে হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া-লেখার সময় সরাইল উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে একটি হুইল চেয়ার দিয়েছিল। সেই হুইল চেয়ার দিয়ে আয়েশা এখনও বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারী তেমন কোনো সাহায্য পায়নি। আর্থিক দৈন্যতা সত্তেও¡ আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে আমি সাধ্যমত লেখা-পড়া চালিয়ে নিচ্ছি। আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরনে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। এ ব্যাপারে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আইয়ুব খান বলেন মোছাম্মৎ আয়েশা আক্তার(সুমাইয়া) আমার প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির একজন মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছাত্রী।

তার শ্রেণি রোল নং: ১৮৭। সে নিয়মিত তার মা-বাবাসহ নিকটাত্বীয়দের সহায়তায় হুইল চেয়ারে করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতেছে। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তার লেখা-পড়া চালিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে ।