পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

রাজাবাড়ী খামারে কোটি টাকা অনিয়ম : তদন্ত করবে দুদক

বাংলার খবর২৪.কম : index_54672 রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী আঞ্চলিক দুগ্ধ ও প্রজনন খামারে কোটি টাকা অনিয়মের তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুধ বিক্রি, গরুর ওষুধ ও খাবার ক্রয়সহ গরু নিলামে বিক্রিতে এ অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ওই খামারে ৬৬টি গরু নিলামে বিক্রিতে ২৩ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬টি গরু মাত্র ১১ লাখ টাকা সরকারি দাম নির্ধারণ করে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খায়রুল হুদা জানান, রাজাবাড়ি আঞ্চলিক দুগ্ধ ও প্রজনন খামারে নানা অনিয়মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

খামার সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১১টি লটে ৬৬টি গরু গোপন নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ অথবা এলাকায় মাইকিং করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। এরপরও নিলামে চার জন গরু ব্যবসায়ী অংশ নেন। এর মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক গরু ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এবং মোজাম্মেল হক নামের অপর এক গরু ব্যবসায়ী সর্বনিম্ন ১২ লাখ টাকা দর প্রদান করে।

কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা মোজাম্মেল হকের কাছে ১২ লাখ টাকায় ৬৬টি গরু বিক্রি করা হয়। এতে সরকার ১৩ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, তিনি নিলামে অংশ নিয়ে ৬৬টি গরুর সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা দাম করেছিলেন। কিন্তু নিলামের সিডিউল প্রকাশ্যে খোলার নিয়ম থাকলেও খামার ব্যবস্থাপকের চেম্বারে দরজা বন্ধ করে কর্মকর্তারা সিডিউল ফেলার বক্স খুলেছেন।

কে কত দর দিয়েছেন সে ব্যাপারে কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর গোপনে ১২ লাখ টাকায় মোজাম্মেল হকের কাছে ৬৬টি গরু বিক্রি করা হয়। ওই দিনই ঢাকার এক গরু ব্যবসায়ীর কাছে মোজাম্মেল হক ৩৫ লাখ টাকায় গরুগুলো বিক্রি করে দেন বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক।

খামার ব্যবস্থাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, প্রকার ভেদে ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি হিসেবে গরুর দাম নির্ধারণ করা হয় ১১ লাখ টাকা। সে গরু ৯ শতাংশ ভ্যাটসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

তবে নিলামে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা দর প্রদানের কথা অস্বীকার করে যে গরুর সরকারি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ টাকা, সে গরু ২৫ লাখ টাকায় কেউ কেনার জন্য দর দিতে চাইবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে যুক্তি দেখান ডা. মিজানুর।

তিনি আরো বলেন, এসব নিলামের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ থাকে। রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নিময় মেনেই গরুগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এখনো কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেন মিজানুর রহমান।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

রাজাবাড়ী খামারে কোটি টাকা অনিয়ম : তদন্ত করবে দুদক

আপডেট টাইম : ০৩:২১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : index_54672 রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী আঞ্চলিক দুগ্ধ ও প্রজনন খামারে কোটি টাকা অনিয়মের তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুধ বিক্রি, গরুর ওষুধ ও খাবার ক্রয়সহ গরু নিলামে বিক্রিতে এ অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ওই খামারে ৬৬টি গরু নিলামে বিক্রিতে ২৩ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ৬৬টি গরু মাত্র ১১ লাখ টাকা সরকারি দাম নির্ধারণ করে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খায়রুল হুদা জানান, রাজাবাড়ি আঞ্চলিক দুগ্ধ ও প্রজনন খামারে নানা অনিয়মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

খামার সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১১টি লটে ৬৬টি গরু গোপন নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ অথবা এলাকায় মাইকিং করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। এরপরও নিলামে চার জন গরু ব্যবসায়ী অংশ নেন। এর মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক গরু ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এবং মোজাম্মেল হক নামের অপর এক গরু ব্যবসায়ী সর্বনিম্ন ১২ লাখ টাকা দর প্রদান করে।

কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা মোজাম্মেল হকের কাছে ১২ লাখ টাকায় ৬৬টি গরু বিক্রি করা হয়। এতে সরকার ১৩ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, তিনি নিলামে অংশ নিয়ে ৬৬টি গরুর সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা দাম করেছিলেন। কিন্তু নিলামের সিডিউল প্রকাশ্যে খোলার নিয়ম থাকলেও খামার ব্যবস্থাপকের চেম্বারে দরজা বন্ধ করে কর্মকর্তারা সিডিউল ফেলার বক্স খুলেছেন।

কে কত দর দিয়েছেন সে ব্যাপারে কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর গোপনে ১২ লাখ টাকায় মোজাম্মেল হকের কাছে ৬৬টি গরু বিক্রি করা হয়। ওই দিনই ঢাকার এক গরু ব্যবসায়ীর কাছে মোজাম্মেল হক ৩৫ লাখ টাকায় গরুগুলো বিক্রি করে দেন বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক।

খামার ব্যবস্থাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, প্রকার ভেদে ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি হিসেবে গরুর দাম নির্ধারণ করা হয় ১১ লাখ টাকা। সে গরু ৯ শতাংশ ভ্যাটসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

তবে নিলামে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা দর প্রদানের কথা অস্বীকার করে যে গরুর সরকারি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ টাকা, সে গরু ২৫ লাখ টাকায় কেউ কেনার জন্য দর দিতে চাইবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে যুক্তি দেখান ডা. মিজানুর।

তিনি আরো বলেন, এসব নিলামের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ থাকে। রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নিময় মেনেই গরুগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এখনো কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেন মিজানুর রহমান।