পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম
রাজশাহী বিআরটিএ তে

লাইসেন্স না পেয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সামনে কাঁদলেন বাসচালক

রাজশাহীতে গণশুনানিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে পেয়ে লাইসেন্স পেতে ভোগান্তির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন এক বাসচালক। এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে ওই চালককে লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে চালকদের নানা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা ২০২৩-২০২৪ এর আওতায় বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চালক, হেলপার, গাড়ির মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অংশ নেন। গণশুনানিতে নানা অভিযোগ উঠে আসে।

গণশুনানিতে আবদুল মমিন নামে এক বাসচালক লাইসেন্স নিয়ে হয়রানির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। মমিন বলেন, ‘আমার বাড়ি নাটোর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। আসা যাওয়া করতে ৩০০ টাকা খরচ হয়। প্রথম লাইসেন্স করি ২০১৪ সালে। এখন আমার হেভি লাইসেন্স প্রয়োজন। দুইমাস আগে ব্যাংক ড্রাফট করি। সব প্রসেস শেষ হলো। লাইসেন্স করতে গেলাম। আমাকে বলল, লাইসেন্স অনলাইন হয়নি। লাইসেন্স আমার জিরো হয়ে গেছে। আবার নতুন করে লাইট লাইসেন্স নিতে হবে। এতে আমি ভারি গাড়ি চালাতে পারব না। সে জন্য চার মাস হলো আমার চাকরি চলে গেছে।’

মমিন বলেন, ‘আমার সংসারের অবস্থা কঠিন। এক লাখ টাকা ঋণ। তিনটা মেয়ে। এই লাইসেন্স নিয়ে যে হয়রানির মধ্যে পড়েছি স্যার, আমার লাইসেন্স জিরো হয়ে গেছে। অথচ আমার সব কাগজপত্র আছে। অফিসের ইনাদের (কর্মকর্তাদের) সঙ্গে কথা বলা যায় না স্যার। বড় অফিসারদের সামনে সালাম দিয়ে দুইটা কথাও বলা যায় না। বলে বেরিয়ে যান।’

এ সময় অন্য চালক, হেলপাররা হাততালি দিয়ে মমিনকে সমর্থন করেন। সব শুনে বিআরটিএ চেয়ারম্যান এই চালককে একদিনের মধ্যেই লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশ দেন।

মো. জনি নামে এক ট্রাকচালক ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে বলেন, ‘স্যার, এই কার্ডটা আমি পেয়েছি ৬ আগস্ট। এখনও স্মার্টকার্ড পাইনি। এটা ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স। সার্জেন্টকে দেখালে বলে, এটা দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। সার্জেন্টের সাথে কথা বলা যায় না স্যার। সার্জেন্ট বলে, যতটা কথা বলব, তত ২০০ টাকা করে জরিমানা বাড়বে। মামলা লাগিয়ে দেয়, তা না হলে রাস্তায় টাকা নেয়। রাস্তায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি স্যার।’

এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার জানতে চান, ‘কোন সার্জেন্ট ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও মামলা দেন?’ জনি বলেন, ‘কেউই মানে না স্যার।’ চেয়ারম্যান উত্তরে বলেন, ‘এই ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করেই আমরা আইজিপিকি চিঠি দিয়েছি। সারাদেশের পুলিশ ইউনিটে চিঠি দিয়েছি যেন মামলা দেওয়া না হয়। এই কার্ডে কিউআর কোড আছে। সার্জেন্ট এটা যাচাই করতে পারবে।’ তারপরেও মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি রাজশাহী জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শককে ডেকে পাঠান। ট্রাফিকের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন এসে জানান, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পর্কে তিনি অবগত। কোনো সার্জেন্ট যদি এটা থাকার পরেও মামলা দেন, তাহলে সেটা ওই সার্জেন্টের অজ্ঞতা। এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান এই লাইসেন্সের বিষয়টি সব ট্রাফিক সার্জেন্টকে জানানোর নির্দেশনা দেন।

গণশুনানিতে কয়েকজন চালক জানান, তারা ২০১৯ সালে লাইসেন্স করতে দিয়েছেন। কিন্তু এখনও লাইসেন্স পাননি। দুই-তিনমাস পরপর বিআরটিএ অফিসে আসেন। তখন হাতে লেখা লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তারা এই ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান এ সমস্যার কারণ জানতে চান। বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেলের কর্মকর্তারা জানান, লাইসেন্স কার্ড প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা আগের প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির কারণে রাজশাহীর প্রায় ৩৫০ জন চালক এমন দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

টাইগার আইটি কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আর কাজ পায়নি। তখন সারাদেশেরই কিছু ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ তারা শেষ করে যায়নি। ডাটাবেজও দিয়ে যায়নি। ফলে এই চালকদের লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার তিনি উদ্যোগ নেবেন। আগের জমা দেওয়া টাকাতেই এই চালকদের নতুন করে লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান।

গণশুনাতিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা, বিআরটিএ’র রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম কামরুল হাসান ও সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন,মোটরযান পরিদর্শক শরফুদ্দীন আকন্দ, শহর ও যানবাহন পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো, রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী, রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেবাপ্রত্যাশীদের নানান সমস্যা শোনার পর তারাও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

রাজশাহী বিআরটিএ তে

লাইসেন্স না পেয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সামনে কাঁদলেন বাসচালক

আপডেট টাইম : ০৮:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

রাজশাহীতে গণশুনানিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে পেয়ে লাইসেন্স পেতে ভোগান্তির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন এক বাসচালক। এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে ওই চালককে লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ দেন।

গণশুনানিতে চালকদের নানা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা ২০২৩-২০২৪ এর আওতায় বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চালক, হেলপার, গাড়ির মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অংশ নেন। গণশুনানিতে নানা অভিযোগ উঠে আসে।

গণশুনানিতে আবদুল মমিন নামে এক বাসচালক লাইসেন্স নিয়ে হয়রানির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। মমিন বলেন, ‘আমার বাড়ি নাটোর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। আসা যাওয়া করতে ৩০০ টাকা খরচ হয়। প্রথম লাইসেন্স করি ২০১৪ সালে। এখন আমার হেভি লাইসেন্স প্রয়োজন। দুইমাস আগে ব্যাংক ড্রাফট করি। সব প্রসেস শেষ হলো। লাইসেন্স করতে গেলাম। আমাকে বলল, লাইসেন্স অনলাইন হয়নি। লাইসেন্স আমার জিরো হয়ে গেছে। আবার নতুন করে লাইট লাইসেন্স নিতে হবে। এতে আমি ভারি গাড়ি চালাতে পারব না। সে জন্য চার মাস হলো আমার চাকরি চলে গেছে।’

মমিন বলেন, ‘আমার সংসারের অবস্থা কঠিন। এক লাখ টাকা ঋণ। তিনটা মেয়ে। এই লাইসেন্স নিয়ে যে হয়রানির মধ্যে পড়েছি স্যার, আমার লাইসেন্স জিরো হয়ে গেছে। অথচ আমার সব কাগজপত্র আছে। অফিসের ইনাদের (কর্মকর্তাদের) সঙ্গে কথা বলা যায় না স্যার। বড় অফিসারদের সামনে সালাম দিয়ে দুইটা কথাও বলা যায় না। বলে বেরিয়ে যান।’

এ সময় অন্য চালক, হেলপাররা হাততালি দিয়ে মমিনকে সমর্থন করেন। সব শুনে বিআরটিএ চেয়ারম্যান এই চালককে একদিনের মধ্যেই লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশ দেন।

মো. জনি নামে এক ট্রাকচালক ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে বলেন, ‘স্যার, এই কার্ডটা আমি পেয়েছি ৬ আগস্ট। এখনও স্মার্টকার্ড পাইনি। এটা ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স। সার্জেন্টকে দেখালে বলে, এটা দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। সার্জেন্টের সাথে কথা বলা যায় না স্যার। সার্জেন্ট বলে, যতটা কথা বলব, তত ২০০ টাকা করে জরিমানা বাড়বে। মামলা লাগিয়ে দেয়, তা না হলে রাস্তায় টাকা নেয়। রাস্তায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি স্যার।’

এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার জানতে চান, ‘কোন সার্জেন্ট ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও মামলা দেন?’ জনি বলেন, ‘কেউই মানে না স্যার।’ চেয়ারম্যান উত্তরে বলেন, ‘এই ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করেই আমরা আইজিপিকি চিঠি দিয়েছি। সারাদেশের পুলিশ ইউনিটে চিঠি দিয়েছি যেন মামলা দেওয়া না হয়। এই কার্ডে কিউআর কোড আছে। সার্জেন্ট এটা যাচাই করতে পারবে।’ তারপরেও মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি রাজশাহী জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শককে ডেকে পাঠান। ট্রাফিকের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন এসে জানান, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পর্কে তিনি অবগত। কোনো সার্জেন্ট যদি এটা থাকার পরেও মামলা দেন, তাহলে সেটা ওই সার্জেন্টের অজ্ঞতা। এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান এই লাইসেন্সের বিষয়টি সব ট্রাফিক সার্জেন্টকে জানানোর নির্দেশনা দেন।

গণশুনানিতে কয়েকজন চালক জানান, তারা ২০১৯ সালে লাইসেন্স করতে দিয়েছেন। কিন্তু এখনও লাইসেন্স পাননি। দুই-তিনমাস পরপর বিআরটিএ অফিসে আসেন। তখন হাতে লেখা লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তারা এই ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান এ সমস্যার কারণ জানতে চান। বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেলের কর্মকর্তারা জানান, লাইসেন্স কার্ড প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা আগের প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির কারণে রাজশাহীর প্রায় ৩৫০ জন চালক এমন দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

টাইগার আইটি কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আর কাজ পায়নি। তখন সারাদেশেরই কিছু ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ তারা শেষ করে যায়নি। ডাটাবেজও দিয়ে যায়নি। ফলে এই চালকদের লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার তিনি উদ্যোগ নেবেন। আগের জমা দেওয়া টাকাতেই এই চালকদের নতুন করে লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান।

গণশুনাতিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা, বিআরটিএ’র রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম কামরুল হাসান ও সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন,মোটরযান পরিদর্শক শরফুদ্দীন আকন্দ, শহর ও যানবাহন পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো, রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী, রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেবাপ্রত্যাশীদের নানান সমস্যা শোনার পর তারাও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেন।