অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক Logo লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: তিনজনকে কারাদণ্ড। Logo সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি বিআরজেইউর Logo জলসিঁড়ি আবাসনের জবরদখলের প্রতিবাদ ও জিয়া খাল উদ্ধারে ১০ গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দাদের সভা Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড। Logo সীমান্তে ফাঁকা গুলি, ৪ বাংলাদেশির নৌকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ লাখ টাকার মালামাল আটক

বগুড়ায় বন্যপ্রাণী তক্ষকসহ আটক-১

নাসিরা সুলতানা : বগুড়ার গাবতলীতে বিরল প্রজাতির তক্ষকসহ লেবু মিয়া (৫৫) নামের ব্যক্তিকে আটক করেছে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ। এই তক্ষকের দাম প্রায় ১ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী ও থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ। ১৮ই ফেব্রæয়ারী রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাবতলী পৌরসভাধীন পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল ফকিরে ছেলে লেবু মিয়ার বাড়ি থেকে তক্ষকসহ তাকে আটক করা হয়। তক্ষকটির দৈর্ঘ্য অনুমান ১১ইঞ্চি এবং ওজন ২০০গ্রাম।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী জানান, গোপন সংবাদ পাওয়া যায় যে, গাবতলী পূর্বপাড়ার একটি বাড়িতে বিপন্ন প্রজাতির তক্ষক চড়া মূল্যে কেনা-বেচা হচ্ছে। উক্ত সংবাদ পেয়ে থানার একটি চৌকস দল ওই গ্রামের লেবু মিয়ার বাড়ীতে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ী থেকে বেশ কয়েক জন পালিয়ে গেলেও লেবু মিয়াকে ১টি তক্ষক সদৃশ বন্যপ্রাণীসহ আটক করা হয়। আটক লেবু মিয়াকে তার হেফাজতে পাওয়া তক্ষকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। তখন খাচাসহ তক্ষকটি জব্দ করা হয়। আটককৃত লেবু মিয়া কোন চোরাচালান চক্রের হোতা। বিরল প্রজাতির এই বন্যপ্রাণী নাকি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও আধুনিক চিকিৎসার ঔষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। হাঁপানি, এইডস ও ক্যান্সারের ঔষুধ তৈরিতে এর জনশ্রæতি থাকায় সুদুর চীন দেশে এর চাহিদা নাকি সবচেয়ে বেশি। আটককৃত লেবু মিয়াকে গতকাল সোমবার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত লেবু মিয়াকে জামিন দিয়ে ২দিন পর আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তক্ষকটি বন বিভাগের নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। বিষয়টি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জব্দকৃত এই তক্ষক নিয়ে গুগলে একটু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো অন্যরকম তথ্য। তক্ষক দিয়ে ক্যান্সারের মূল্যবান ওষুধ তৈরি হয়; তক্ষক ঘরে থাকলে লাখ লাখ টাকা আসে; প্রতিবেশী দেশে এর ব্যাপক চাহিদা; মাথার ম্যাগনেটের দাম কোটি টাকা এমন গুজবের ওপর ভর করে দেশজুড়ে সংঘবদ্ধ চক্র নির্বিচারে তক্ষক ধরছে। কেউ কেউ তক্ষকের কঙ্কাল বিক্রি করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তক্ষক উদ্ধার করছে। গুজবে ভর করে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী তক্ষক শিকার অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে অনেক জনপদ তক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০০ গ্রাম ওজনের তক্ষকের দাম এক কোটি টাকা এমন গুজবের ওপর ভর করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে অনেকেই এখন তক্ষকের পিছু ছুটছে।
এ ব্যাপারে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রফেসর জানিয়েন, ‘টিকটিকির চেয়ে বড় এই প্রাণীটি সরীসৃপ। এর ডাকনাম তক্ষক। আরেক নাম সান্ডা। আর বৈজ্ঞানিক নাম বেশশড় মবপশড়। প্রাণীটি নিশাচর, টক টক শব্দ করে ডাকে বলে এর নাম হয়েছে তক্ষক। প্রাণীটি ঝোপঝাড়, গাছের গুঁড়ি, দালানের ভগ্নস্তুুপে দলবদ্ধভাবে বাস করে। এরা পোকামাকড় খায়। কিন্তু এরা মহামূল্যবান প্রাণী নয়। তক্ষক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তক্ষকের দাম কোটি টাকা নয়। এর দাম পাঁচ-দশ টাকাও হবে না। কারণ তক্ষকে মূল্যবান কিছুই নেই। বরং সমানে তক্ষক নিধনের কারণে প্রাণীটির বিলুপ্তি ঘটবে। ক্যান্সারের ওষুধ কিংবা কেমো— কোনো কিছুই তক্ষক দিয়ে তৈরি হয় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া

বগুড়ায় বন্যপ্রাণী তক্ষকসহ আটক-১

আপডেট টাইম : ০১:২৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নাসিরা সুলতানা : বগুড়ার গাবতলীতে বিরল প্রজাতির তক্ষকসহ লেবু মিয়া (৫৫) নামের ব্যক্তিকে আটক করেছে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ। এই তক্ষকের দাম প্রায় ১ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী ও থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ। ১৮ই ফেব্রæয়ারী রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাবতলী পৌরসভাধীন পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল ফকিরে ছেলে লেবু মিয়ার বাড়ি থেকে তক্ষকসহ তাকে আটক করা হয়। তক্ষকটির দৈর্ঘ্য অনুমান ১১ইঞ্চি এবং ওজন ২০০গ্রাম।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী জানান, গোপন সংবাদ পাওয়া যায় যে, গাবতলী পূর্বপাড়ার একটি বাড়িতে বিপন্ন প্রজাতির তক্ষক চড়া মূল্যে কেনা-বেচা হচ্ছে। উক্ত সংবাদ পেয়ে থানার একটি চৌকস দল ওই গ্রামের লেবু মিয়ার বাড়ীতে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ী থেকে বেশ কয়েক জন পালিয়ে গেলেও লেবু মিয়াকে ১টি তক্ষক সদৃশ বন্যপ্রাণীসহ আটক করা হয়। আটক লেবু মিয়াকে তার হেফাজতে পাওয়া তক্ষকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। তখন খাচাসহ তক্ষকটি জব্দ করা হয়। আটককৃত লেবু মিয়া কোন চোরাচালান চক্রের হোতা। বিরল প্রজাতির এই বন্যপ্রাণী নাকি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও আধুনিক চিকিৎসার ঔষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। হাঁপানি, এইডস ও ক্যান্সারের ঔষুধ তৈরিতে এর জনশ্রæতি থাকায় সুদুর চীন দেশে এর চাহিদা নাকি সবচেয়ে বেশি। আটককৃত লেবু মিয়াকে গতকাল সোমবার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত লেবু মিয়াকে জামিন দিয়ে ২দিন পর আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তক্ষকটি বন বিভাগের নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। বিষয়টি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জব্দকৃত এই তক্ষক নিয়ে গুগলে একটু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো অন্যরকম তথ্য। তক্ষক দিয়ে ক্যান্সারের মূল্যবান ওষুধ তৈরি হয়; তক্ষক ঘরে থাকলে লাখ লাখ টাকা আসে; প্রতিবেশী দেশে এর ব্যাপক চাহিদা; মাথার ম্যাগনেটের দাম কোটি টাকা এমন গুজবের ওপর ভর করে দেশজুড়ে সংঘবদ্ধ চক্র নির্বিচারে তক্ষক ধরছে। কেউ কেউ তক্ষকের কঙ্কাল বিক্রি করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তক্ষক উদ্ধার করছে। গুজবে ভর করে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী তক্ষক শিকার অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে অনেক জনপদ তক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০০ গ্রাম ওজনের তক্ষকের দাম এক কোটি টাকা এমন গুজবের ওপর ভর করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে অনেকেই এখন তক্ষকের পিছু ছুটছে।
এ ব্যাপারে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রফেসর জানিয়েন, ‘টিকটিকির চেয়ে বড় এই প্রাণীটি সরীসৃপ। এর ডাকনাম তক্ষক। আরেক নাম সান্ডা। আর বৈজ্ঞানিক নাম বেশশড় মবপশড়। প্রাণীটি নিশাচর, টক টক শব্দ করে ডাকে বলে এর নাম হয়েছে তক্ষক। প্রাণীটি ঝোপঝাড়, গাছের গুঁড়ি, দালানের ভগ্নস্তুুপে দলবদ্ধভাবে বাস করে। এরা পোকামাকড় খায়। কিন্তু এরা মহামূল্যবান প্রাণী নয়। তক্ষক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তক্ষকের দাম কোটি টাকা নয়। এর দাম পাঁচ-দশ টাকাও হবে না। কারণ তক্ষকে মূল্যবান কিছুই নেই। বরং সমানে তক্ষক নিধনের কারণে প্রাণীটির বিলুপ্তি ঘটবে। ক্যান্সারের ওষুধ কিংবা কেমো— কোনো কিছুই তক্ষক দিয়ে তৈরি হয় না।