অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ পেশাদার মোটরযান চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ

নওগাঁয় সেতুর অভাবে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

(নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর নদী ও বিল বেষ্টিত উপজেলা মান্দা। এই উপজেলার আত্রাই নদীর আয়াপুর ঘাট ও প্রসাদপুর ঘাটে দুটি সেতুর অভাবে এখনো নৌকাতেই ভরসা করতে হয় দু’শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষকে। বছরের পর বছর বিভিন্ন সময়ে এই দুটি ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও আজও দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। তাই ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই এই দুটি শতবর্ষী ঘাটে সেতু নির্মাণ স্থানীয়দের প্রাণের দাবি। ভালাইন গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া তারেক হোসেন বলেন, দেশের উন্নয়ন যখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তখন খুবই ভালো লাগে তবে (ফাসিষ্ট সরকারের পতন হয়েছে) এইবার দেখি ভাগ্যে কি আছে । কিন্তু যখন দেখি পারাপারের জন্য আমাদের এই ঘাটে এসে প্রতিদিন শত শত মানুষকে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তখন নিজেদের আদিম যুগের সভ্যতার মানুষদের মতো মনে হয়। ঘাটে পার হতে এলেই নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। এতকিছুর উন্নয়ন সাধিত হলেও আজও আমাদের কপালে একটি সেতু জোটেনি। একটিমাত্র সেতুর অভাবে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন থমকে আছে। জানি না এই ঘাটে কোনদিন একটি সেতু নির্মাণ হবে কী না?
প্রসাদপুর কয়াপাড়া কে কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রসাদপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে নদীর পূর্ব পাশের কয়েকটি গ্রামে থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষার্থীদের ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন খেয়াঘাটের নৌকা পাড়ি দিয়ে উপজেলার স্কুলে আসতে হয়। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থীকে ঘাটে এসে নৌকা পার হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে পোশাক নষ্ট করে স্কুলে আসতে হয়। একটি মাত্র সেতুর অভাবে থমকে আছে এই অঞ্চলের আধুনিক জীবনযাপন। প্রসাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল হোসেন জানান। নদীর পূর্ব পাশের সব মানুষদের নদীর পশ্চিম পাশের উপজেলার বাণিজ্য কেন্দ্রে যেতে হয়। জরুরি রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সব শ্রেণিপেশার মানুষদের ঘাটে এসে নৌকায় পার হয়ে যেতে হয় উপজেলা প্রসাদপুর বাজারে। তাই ঘাটে এসে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টা সময়। শুষ্ক মৌসুমে পারাপার সহজ হলেও বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট বাহনসহ সব বয়সের মানুষকে নৌকা করেই নদী পার হতে হয়। ইতিপূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য এই ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংসদে দাবি জানিয়েছেন তবুও কোনো আশার আলো আমরা দেখতে পায়নি । ভালাইন ইউনিয়নের আয়াপুর এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন আয়াপুর ও আদিপুরানো ঐতিহ্যবাহী পাঠাকাটহাট এই হাটের ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ২০-২৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের নিজ উপজেলা মান্দা, নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর ও নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে নৌকায় পার হতে হয়। এই ঘাটে অনেক সময় নৌকার যাত্রী পর্যাপ্ত না হলে নৌকা চলে না। তাই পার হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তা না ২-৩ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে জীবন-যাপন করে আসছে মান্দা উপজেলার দুই ঘাটের শতাধিক গ্রামের মানুষরা। পাঠাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজাহান বেগম বলেন একটি সেতুর অভাবে চলাচল সহজতর না হওয়ার কারণে ঘাটে এসে পারাপারের জন্য সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষদের। ফলে বছরের পর বছর দুটি সেতুর অভাবে জীবনমানের উন্নয়নসহ ঘাট এলাকার সার্বিক উন্নয়ন যেন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের মানবিক বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ড.ইউনুস এর সুদৃষ্টি কামনা করছি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান এই দুই ঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য ইতিপূর্বে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সেই প্রস্তাব যদি অনুমোদিত হয় তাহলে দুই ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

Tag :

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ পেশাদার মোটরযান চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম

নওগাঁয় সেতুর অভাবে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট টাইম : ০৩:৪১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪

(নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর নদী ও বিল বেষ্টিত উপজেলা মান্দা। এই উপজেলার আত্রাই নদীর আয়াপুর ঘাট ও প্রসাদপুর ঘাটে দুটি সেতুর অভাবে এখনো নৌকাতেই ভরসা করতে হয় দু’শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষকে। বছরের পর বছর বিভিন্ন সময়ে এই দুটি ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও আজও দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। তাই ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই এই দুটি শতবর্ষী ঘাটে সেতু নির্মাণ স্থানীয়দের প্রাণের দাবি। ভালাইন গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া তারেক হোসেন বলেন, দেশের উন্নয়ন যখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তখন খুবই ভালো লাগে তবে (ফাসিষ্ট সরকারের পতন হয়েছে) এইবার দেখি ভাগ্যে কি আছে । কিন্তু যখন দেখি পারাপারের জন্য আমাদের এই ঘাটে এসে প্রতিদিন শত শত মানুষকে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তখন নিজেদের আদিম যুগের সভ্যতার মানুষদের মতো মনে হয়। ঘাটে পার হতে এলেই নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। এতকিছুর উন্নয়ন সাধিত হলেও আজও আমাদের কপালে একটি সেতু জোটেনি। একটিমাত্র সেতুর অভাবে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন থমকে আছে। জানি না এই ঘাটে কোনদিন একটি সেতু নির্মাণ হবে কী না?
প্রসাদপুর কয়াপাড়া কে কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রসাদপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে নদীর পূর্ব পাশের কয়েকটি গ্রামে থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষার্থীদের ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন খেয়াঘাটের নৌকা পাড়ি দিয়ে উপজেলার স্কুলে আসতে হয়। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থীকে ঘাটে এসে নৌকা পার হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে পোশাক নষ্ট করে স্কুলে আসতে হয়। একটি মাত্র সেতুর অভাবে থমকে আছে এই অঞ্চলের আধুনিক জীবনযাপন। প্রসাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল হোসেন জানান। নদীর পূর্ব পাশের সব মানুষদের নদীর পশ্চিম পাশের উপজেলার বাণিজ্য কেন্দ্রে যেতে হয়। জরুরি রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সব শ্রেণিপেশার মানুষদের ঘাটে এসে নৌকায় পার হয়ে যেতে হয় উপজেলা প্রসাদপুর বাজারে। তাই ঘাটে এসে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টা সময়। শুষ্ক মৌসুমে পারাপার সহজ হলেও বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট বাহনসহ সব বয়সের মানুষকে নৌকা করেই নদী পার হতে হয়। ইতিপূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য এই ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংসদে দাবি জানিয়েছেন তবুও কোনো আশার আলো আমরা দেখতে পায়নি । ভালাইন ইউনিয়নের আয়াপুর এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন আয়াপুর ও আদিপুরানো ঐতিহ্যবাহী পাঠাকাটহাট এই হাটের ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ২০-২৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের নিজ উপজেলা মান্দা, নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর ও নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে নৌকায় পার হতে হয়। এই ঘাটে অনেক সময় নৌকার যাত্রী পর্যাপ্ত না হলে নৌকা চলে না। তাই পার হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তা না ২-৩ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে জীবন-যাপন করে আসছে মান্দা উপজেলার দুই ঘাটের শতাধিক গ্রামের মানুষরা। পাঠাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজাহান বেগম বলেন একটি সেতুর অভাবে চলাচল সহজতর না হওয়ার কারণে ঘাটে এসে পারাপারের জন্য সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষদের। ফলে বছরের পর বছর দুটি সেতুর অভাবে জীবনমানের উন্নয়নসহ ঘাট এলাকার সার্বিক উন্নয়ন যেন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের মানবিক বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ড.ইউনুস এর সুদৃষ্টি কামনা করছি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান এই দুই ঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য ইতিপূর্বে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সেই প্রস্তাব যদি অনুমোদিত হয় তাহলে দুই ঘাটে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।