
নিজস্ব প্রতিবেদক –
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা আর মরুভূমি থাকবে না। তিস্তাকে জীবন দেওয়া হবে এবং এটিকে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মতলববাজদের রাজনীতিতে কবর রচিত হতে শুরু করেছে। এ নির্বাচন স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন।
অনেক হয়েছে এখন তোমরা রাজনীতি থেকে সরে যাও। রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়, চাঁদাবাজি নয়, লুণ্ঠন নয়, দুর্নীতি নয়, রাজনীতির নাম আমার মায়ের গায়ের হাত দেওয়া নয়।
তিনি আরো বলেন, তিস্তার পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা উর্বর হয়ে উঠবে এবং নদীভাঙনের কবলে পড়ে বছরের পর বছর যে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, “যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে ইনশাল্লাহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বাগ্রে। আমাদের স্বার্থে কেউ বাধা দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার কাছে দাঁড়ি পাল্লায় ভোটের সমর্থন কামনা করলে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হাত তুলে সাড়া দেন।
জামায়াত আমীর তার বক্তব্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর প্রসঙ্গে বলেন, স্থলবন্দরটি আধুনিকায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য, অবদান রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত ৬ লেনের সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। সড়কের বেহাল অবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এ সড়ক দিয়ে রোগী পরিবহনসহ সাধারণ চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুগের পর যুগ এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েছে। জনগণের আবেগকে কাজে লাগিয়ে পালাবদলের রাজনীতির মাধ্যমে অনেকে ক্ষমতায় গেলেও ৫ বছরে একবারও সাধারণ মানুষের দিকে ফিরে তাকায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বসন্তের কোকিল নই। বিপদের সময় দেশ ছেড়ে চলে যাই না। সুখে-দুঃখে আমরা এই মাটিতেই থাকবো। এই দেশবাসীর মধ্যেই আমাদের ঠিকানা।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার উৎপাদিত পণ্য শুধু দেশের চাহিদা পূরণই নয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার দোয়া কামনা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ৭জন প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত জনতার পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। সেই সাথে দাঁড়ি পাল্লা প্রতিক হাতে তুলে দিয়েছেন।
এর আগে, শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিক আগমনের আগেই জনসভাকে কেন্দ্র করে তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সমাবেশস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জনসভায় লাক্ষো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছিলো। এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম খান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মোঃ মমতাজ উদ্দিন প্রমূখ।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট সদর -৩ আসনের দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট ও জনপ্রিয় নেতা মোঃ আবু তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এ অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জননেতা অ্যাডভোকেট মোঃফিরোজ হায়দার লাভলু, নীলফামারী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী হাফেজ মোঃ আব্দুল মুন্তাকিম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলের ইউনিট পরিচালক এ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেনসহ জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
বাংলার খবর ডেস্ক : 














