পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় Logo লালমনিরহাটে নিরাপদ সড়ক গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo লালমনিরহাট মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর সম্ভাবনায়- পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী Logo বুড়িমারীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে এলাকাবাসী Logo হাতীবান্ধা সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে এস্কাপ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ Logo লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু Logo চলন্ত বাসে জন্ম, আজীবন বিনামূল্যে যাতায়াতের উপহার পেল শিশু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় চুইঝাল জব্দ Logo পাটগ্রামে ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৭ Logo হেলাল হোসেন কবির : সাংবাদিকতা ও কাব্যচর্চার দ্বৈত পরিচয়

স্কুল ফিডিং চালুর পর লালমনিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

  • মো:রশিদুল ইসলাম
  • আপডেট টাইম : ০৮:২৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩১৪ বার

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেলার পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় দুই উপজেলার ৩০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৭ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর মাঝে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলার ১৪৫টি বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৩৫৬ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাচ্ছে।

কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমানো। এর আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের বনরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার পণ্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষুধার্ত অবস্থায় ক্লাস করত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় তাদের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার অনীহা দেখা যেত। এখন রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষুধাজনিত ক্লান্তি কমায় শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগও বেড়েছে।

জেলায় প্রকল্পটির কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইএসডিএফ)। সংস্থাটির স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল বলেন, “সরকারের এই প্রকল্পকে আমাদের সংস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের কাছে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।”

পাটগ্রাম উপজেলার মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, “মিড ডে মিলে নিয়মিত রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাচ্ছি। আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাস করতে কষ্ট হতো। এখন পেট ভরা থাকে, তাই সব ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি।”

একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে খাবার পাওয়ায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে ভালো লাগে। রুটি, ডিম, কলা ও দুধ খেতে তার খুব ভালো লাগে। আগে ক্লাসের মধ্যে ক্ষুধা লাগলেও এখন খাবার পাওয়ায় সেই কষ্ট আর হয় না।

দুই উপজেলায় বিদ্যালয়গুলোতে বনরুটি সরবরাহ করছে আল মদিনা বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, বনরুটির গুণগত মান নিশ্চিত করতে তাদের বেকারিতে নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট ও পরীক্ষাগার রয়েছে। প্রতিদিন রুটির মান পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর তা বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হয়।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার বলেন, বিদ্যালয়ে বিরতির সময় এক বেলা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। বর্ষাকালসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ইতিবাচক। খাবারের তালিকায় বনরুটি, কলা ও ডিম যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে এ কর্মসূচি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়মিত ও মানসম্মতভাবে পরিচালিত হলে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :

পাটগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়

স্কুল ফিডিং চালুর পর লালমনিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেলার পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় দুই উপজেলার ৩০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৭ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর মাঝে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলার ১৪৫টি বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৩৫৬ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাচ্ছে।

কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমানো। এর আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের বনরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার পণ্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষুধার্ত অবস্থায় ক্লাস করত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় তাদের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার অনীহা দেখা যেত। এখন রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষুধাজনিত ক্লান্তি কমায় শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগও বেড়েছে।

জেলায় প্রকল্পটির কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইএসডিএফ)। সংস্থাটির স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল বলেন, “সরকারের এই প্রকল্পকে আমাদের সংস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের কাছে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।”

পাটগ্রাম উপজেলার মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, “মিড ডে মিলে নিয়মিত রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাচ্ছি। আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাস করতে কষ্ট হতো। এখন পেট ভরা থাকে, তাই সব ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি।”

একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে খাবার পাওয়ায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে ভালো লাগে। রুটি, ডিম, কলা ও দুধ খেতে তার খুব ভালো লাগে। আগে ক্লাসের মধ্যে ক্ষুধা লাগলেও এখন খাবার পাওয়ায় সেই কষ্ট আর হয় না।

দুই উপজেলায় বিদ্যালয়গুলোতে বনরুটি সরবরাহ করছে আল মদিনা বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, বনরুটির গুণগত মান নিশ্চিত করতে তাদের বেকারিতে নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট ও পরীক্ষাগার রয়েছে। প্রতিদিন রুটির মান পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর তা বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হয়।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার বলেন, বিদ্যালয়ে বিরতির সময় এক বেলা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। বর্ষাকালসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ইতিবাচক। খাবারের তালিকায় বনরুটি, কলা ও ডিম যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে এ কর্মসূচি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়মিত ও মানসম্মতভাবে পরিচালিত হলে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।