অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বগুড়া আ.লীগে কোন্দল : ৭দিনে দুই নেতা খুন

বাংলার খবর২৪.কমindex_56417 : অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার টাকার ভাগ-বাটোয়ারাসহ নানা কারণে বগুড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।

গত ৭ দিনে প্রতিপক্ষের কর্মীরা দুই নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েক জন।

জানা গেছে, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শহরের সাতমাথায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ সওদাগরের ছুরিকাঘাতে খুন হয় জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ক শিমুল হক রেহান। এঘটনায় রেহানের সমর্থকদের হাতে গুরুতর আহত হয় সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ সওদাগর। পুলিশ সবুজ সওদাগর ও তার ৪ সহযোগীকে আটক করেছে। ব্যাটারি চালিত রিক্সার চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে রেহান ও সবুজের মধ্যে বিরোধ ছিল।

এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় কোন্দলের শিকার হন সদর উপজেলার সাখারিয়া ইউনিয়নের চালিতাবাড়ী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন। আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মোয়াজ্জেমকে। নিহত মোয়াজ্জেম সাখারিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এঘটনায় যুবলীগের ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা উজ্জলসহ বেশ ক’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

দলীয় কোন্দলের শিকার হয়েছেন বগুড়া শহরের ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন আলী। শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাসিমুল বারী নাসিমের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে শহরের মালতিনগরের একটি বাসায় আটকে রাখে।

পুলিশ খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে।

এঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাসিম ও তার ৩ সহযোগীকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা জোব্বার ক্লাবের পিছন থেকে ১টি চাপাতি, ২টি কিরিচ ও ৪টি রামদা উদ্ধার করে।

এর আগে দলীয় কোন্দলের জের ধরে গত ৫ বছরে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক খায়রুল আনাম রেক্কাত, শহর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক সুজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা মজনুসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং কর্মী খুন হয়েছেন।

দলীয় লোকদের হাতে একের পর এক নেতাকর্মী খুনের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা জানান, মূল দলের চেইন অব কমান্ড দুর্বল হওয়ার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বগুড়া আ.লীগে কোন্দল : ৭দিনে দুই নেতা খুন

আপডেট টাইম : ০৪:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কমindex_56417 : অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার টাকার ভাগ-বাটোয়ারাসহ নানা কারণে বগুড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।

গত ৭ দিনে প্রতিপক্ষের কর্মীরা দুই নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েক জন।

জানা গেছে, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শহরের সাতমাথায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ সওদাগরের ছুরিকাঘাতে খুন হয় জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ক শিমুল হক রেহান। এঘটনায় রেহানের সমর্থকদের হাতে গুরুতর আহত হয় সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সবুজ সওদাগর। পুলিশ সবুজ সওদাগর ও তার ৪ সহযোগীকে আটক করেছে। ব্যাটারি চালিত রিক্সার চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে রেহান ও সবুজের মধ্যে বিরোধ ছিল।

এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় কোন্দলের শিকার হন সদর উপজেলার সাখারিয়া ইউনিয়নের চালিতাবাড়ী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন। আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মোয়াজ্জেমকে। নিহত মোয়াজ্জেম সাখারিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এঘটনায় যুবলীগের ১৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি যুবলীগ নেতা উজ্জলসহ বেশ ক’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

দলীয় কোন্দলের শিকার হয়েছেন বগুড়া শহরের ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন আলী। শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাসিমুল বারী নাসিমের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে শহরের মালতিনগরের একটি বাসায় আটকে রাখে।

পুলিশ খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে।

এঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাসিম ও তার ৩ সহযোগীকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা জোব্বার ক্লাবের পিছন থেকে ১টি চাপাতি, ২টি কিরিচ ও ৪টি রামদা উদ্ধার করে।

এর আগে দলীয় কোন্দলের জের ধরে গত ৫ বছরে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক খায়রুল আনাম রেক্কাত, শহর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক সুজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা মজনুসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং কর্মী খুন হয়েছেন।

দলীয় লোকদের হাতে একের পর এক নেতাকর্মী খুনের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা জানান, মূল দলের চেইন অব কমান্ড দুর্বল হওয়ার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।