পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

খুলনায় ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়ছে

খুলনা : সহজ শর্তে সরকারি ব্যাংক হতে ঋণ প্রদানসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও গত অর্থবছর খুলনা অঞ্চলে কাঁচাপাট রপ্তানিতে ধস নামে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ৬০ শতাংশ। অথচ গত তিন বছর এ খাতে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের পরিমাণ বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে খেলাপিদের সংখ্যা।
বিজেএ খুলনা শাখার সহকারী সচিব মো. আবদুল হামিদ জানান, ২০১১-১২ অর্থবছরে কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭০ বেল, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩২ বেল এবং ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৩১ বেল। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাকিস্তানে সব থেকে বেশি রপ্তানি হয় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৯ বেল, ভারতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪ বেল এবং চীনে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০৮ বেল। যেখানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রথম রপ্তানিকারক ছিল ভারত ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮০২ বেল, পাকিস্তানে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯০০ বেল এবং চীন ২ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৭ বেল।
সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সমীর কুমার দেবনাথ জানান, ২০১০ অর্থ বছরে কাচাপাট রপ্তানিকারককে ২০ শতাংশ মার্জিনে ১০০ শতাংশ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে, মর্টগেজ বা জামানত ছাড়াই। কোন পাট রপ্তানিকারক ২ কোটি টাকা এফডিআর জমা দিলে তাকে ১০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এই সময় কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় পাট ব্যবসায়ীরা মাছের তেলে মাছ ভাজার মতো আগে ঋণ নিয়ে পরে এফডিআরের টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সময় হঠাৎ করে রপ্তানিকারকদের সংখ্যা ১৯৯০-৯৫ থেকে বেড়ে ৩০০ জনে উন্নীত হয়। পাট ব্যাপারীরা রপ্তানিকারক হয়ে যান ব্যাংক ঋণ নিয়ে। তিনি স্বীকার করেন এ ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা সব উঠানোর পর আর ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে জড়িত পাট ব্যবসায়ী প্রগতি জুট ট্রেডার্সের পারিচালক আবদুল মান্নান ও আকুঞ্জী ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ আকুঞ্জী জানান, এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ৪টি ব্যাংক হতে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় ৭০০-৮০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। অথচ দৌলতপুর পাট মোকামে পাকিস্তান থেকে ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত মোট ঋনের পরিমাণ ছিল হাজার কোটি টাকা, যা এসময় আড়াই হাজার কোটি টাকায় গিয়ে উঠে।
দৌলতপুর রূপালী ব্যাংকের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. গোলাম মোরশেদ জানান, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত তার শাখার পাট ঋণ ছিল ১৫০ কোটি টাকা যা বর্তমানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। গত তিন বছর ধরে রিনিউওল হচ্ছে হিসাব এডজাস্ট ছাড়াই। ব্যাংক সূত্র জানান, ড. অশোক কুমার দাস নামক রপ্তানিকারকের কাছে সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর কর্পোরেট শাখার সব মিলিয়ে ঋণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এ টাকার মধ্যে পাট রপ্তানি করেছেন এমন এলসি দেখিয়ে প্যাকিং ক্যাশ ক্রেডিট ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এই টাকার সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে। সুদ মাত্র ৭ শতাংশ। এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, ব্যাংকের কোন অসাধু কর্মকর্তা রপ্তানিকারককে সুযোগ সুবিধা দিয়ে নিজে লাভবান হয়েছেন তেমন কোন অভিযোগ কেউ করেনি। তার কাছে একে জুট লি., সনজিত বাবু, বিভিন্ন খেলাপি ঋনের বিষয় জানতে চাইলে জানান, বিধি বিধান মতো ব্যবস্থা নিতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। ২০ শতাংশ মার্জিনে ১০০ শতাংশ ঋণ

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

খুলনায় ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট টাইম : ০৩:৫৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪

খুলনা : সহজ শর্তে সরকারি ব্যাংক হতে ঋণ প্রদানসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও গত অর্থবছর খুলনা অঞ্চলে কাঁচাপাট রপ্তানিতে ধস নামে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ৬০ শতাংশ। অথচ গত তিন বছর এ খাতে সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের পরিমাণ বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে খেলাপিদের সংখ্যা।
বিজেএ খুলনা শাখার সহকারী সচিব মো. আবদুল হামিদ জানান, ২০১১-১২ অর্থবছরে কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭০ বেল, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩২ বেল এবং ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৩১ বেল। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাকিস্তানে সব থেকে বেশি রপ্তানি হয় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৯ বেল, ভারতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪ বেল এবং চীনে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০৮ বেল। যেখানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রথম রপ্তানিকারক ছিল ভারত ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮০২ বেল, পাকিস্তানে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯০০ বেল এবং চীন ২ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৭ বেল।
সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সমীর কুমার দেবনাথ জানান, ২০১০ অর্থ বছরে কাচাপাট রপ্তানিকারককে ২০ শতাংশ মার্জিনে ১০০ শতাংশ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে, মর্টগেজ বা জামানত ছাড়াই। কোন পাট রপ্তানিকারক ২ কোটি টাকা এফডিআর জমা দিলে তাকে ১০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এই সময় কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় পাট ব্যবসায়ীরা মাছের তেলে মাছ ভাজার মতো আগে ঋণ নিয়ে পরে এফডিআরের টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সময় হঠাৎ করে রপ্তানিকারকদের সংখ্যা ১৯৯০-৯৫ থেকে বেড়ে ৩০০ জনে উন্নীত হয়। পাট ব্যাপারীরা রপ্তানিকারক হয়ে যান ব্যাংক ঋণ নিয়ে। তিনি স্বীকার করেন এ ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা সব উঠানোর পর আর ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে জড়িত পাট ব্যবসায়ী প্রগতি জুট ট্রেডার্সের পারিচালক আবদুল মান্নান ও আকুঞ্জী ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ আকুঞ্জী জানান, এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ৪টি ব্যাংক হতে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় ৭০০-৮০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। অথচ দৌলতপুর পাট মোকামে পাকিস্তান থেকে ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত মোট ঋনের পরিমাণ ছিল হাজার কোটি টাকা, যা এসময় আড়াই হাজার কোটি টাকায় গিয়ে উঠে।
দৌলতপুর রূপালী ব্যাংকের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. গোলাম মোরশেদ জানান, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত তার শাখার পাট ঋণ ছিল ১৫০ কোটি টাকা যা বর্তমানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। গত তিন বছর ধরে রিনিউওল হচ্ছে হিসাব এডজাস্ট ছাড়াই। ব্যাংক সূত্র জানান, ড. অশোক কুমার দাস নামক রপ্তানিকারকের কাছে সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর কর্পোরেট শাখার সব মিলিয়ে ঋণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এ টাকার মধ্যে পাট রপ্তানি করেছেন এমন এলসি দেখিয়ে প্যাকিং ক্যাশ ক্রেডিট ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এই টাকার সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে। সুদ মাত্র ৭ শতাংশ। এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, ব্যাংকের কোন অসাধু কর্মকর্তা রপ্তানিকারককে সুযোগ সুবিধা দিয়ে নিজে লাভবান হয়েছেন তেমন কোন অভিযোগ কেউ করেনি। তার কাছে একে জুট লি., সনজিত বাবু, বিভিন্ন খেলাপি ঋনের বিষয় জানতে চাইলে জানান, বিধি বিধান মতো ব্যবস্থা নিতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। ২০ শতাংশ মার্জিনে ১০০ শতাংশ ঋণ