অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

দহগ্রাম সীমান্তে উত্তেজনা বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম তিনবিঘা করিডর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ডিএএমপি-৭ এর উপপিলার ১২ নম্বর সংলগ্ন ভারতীয় তিনবিঘা করিডর এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু ও ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।
এদিকে, একই দিন সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চলমান কাজ বন্ধ হবে না। ফ্লাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা চলবে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে ৩ ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্যরা অস্ত্র কক করে ফায়ারিং পজিশনে যায়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দাবি করে বিএসএফ।
জবাবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। বিএসএফ আইন উপেক্ষা করে খুঁটি স্থাপন করায় আত্মরক্ষার জন্য বিজিবি প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়।
বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগ তোলে। এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফসল নষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করা হয়।
বিজিবি আরও স্পষ্টভাবে জানায়, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে তা অবশ্যই ১৫০ গজের বাইরে করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের তিনবিঘা করিডরের শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা মাপজোখ শুরু করেন। এ সময় সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করতে থাকে বিএসএফ। পরে বিজিবির পানবাড়ী কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তবে বিএসএফ কাজ চালিয়ে গেলে উভয় বাহিনী সীমান্তে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবিষ্যতে শূন্যরেখায় কোনো ধরনের কাজ শুরুর আগে দুই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

দহগ্রাম সীমান্তে উত্তেজনা বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : ১২:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম তিনবিঘা করিডর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ডিএএমপি-৭ এর উপপিলার ১২ নম্বর সংলগ্ন ভারতীয় তিনবিঘা করিডর এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু ও ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।
এদিকে, একই দিন সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চলমান কাজ বন্ধ হবে না। ফ্লাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা চলবে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে ৩ ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্যরা অস্ত্র কক করে ফায়ারিং পজিশনে যায়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দাবি করে বিএসএফ।
জবাবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। বিএসএফ আইন উপেক্ষা করে খুঁটি স্থাপন করায় আত্মরক্ষার জন্য বিজিবি প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়।
বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগ তোলে। এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফসল নষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করা হয়।
বিজিবি আরও স্পষ্টভাবে জানায়, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে তা অবশ্যই ১৫০ গজের বাইরে করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের তিনবিঘা করিডরের শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা মাপজোখ শুরু করেন। এ সময় সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করতে থাকে বিএসএফ। পরে বিজিবির পানবাড়ী কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তবে বিএসএফ কাজ চালিয়ে গেলে উভয় বাহিনী সীমান্তে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবিষ্যতে শূন্যরেখায় কোনো ধরনের কাজ শুরুর আগে দুই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।