অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

পিতা-পুত্রের দুই দশকের শিকলবন্দি জীবন

বাংলার খবর২৪.কম: 500x350_758e7310f066689a019b9f261ffb28ed_87936_1মানসিক রোগী পিতা-পুত্রের পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়েছে ২০ বছর ধরে। স্বজনদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরকারি সহায়তা চেয়েও কোনো সাড়া মেলে নি। অর্থের অভাবে কোনো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা শিকলবন্দিই থাকছেন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুরের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের একটি ছোট্ট বাড়ি। তার পেছনদিকে একটি গরু বাঁধা। একই রকমভাবে শিকলে বাঁধা ৬৫ বছর বয়সী চূড়ামন কৌরব ও তার এক ছেলে।
পরীক্ষা করে তাদের মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে এক দশকেরও বেশি আগে । তাদের দেখভালের দায়িত্ব পড়ে আরেক ছেলে দিনেশ কৌরবের ওপর। কিন্তু দিনেশ হতদরিদ্র। মাসে তার আয় ৩০০০ রুপি। পরিবারে সদস্য ৭ জনের। এত বড় সংসার চালিয়ে পিতা ও ভাইয়ের চিকিৎসা খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, যা উপার্জন করেন তার এক-তৃতীয়াংশই চিকিৎসা খাতে খরচ করতে হয়। আর্থিক ও মানসিক এক যন্ত্রণা তাকে দংশন করছে। তা সত্ত্বেও কিছু করার নেই।
পিতা-পুত্রকে একসঙ্গে বেঁধে রাখা ছাড়া তার সামনে আর কোন পথ খোলা ছিল না। তাদের তিনি মাঝেমাঝে ঘর থেকে বের করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। আবার নিয়ে যান বাড়ির ভেতরে।
দিনেশ বলেন, যদি বাবা ও ভাইয়ের পায়ের শিকল খুলে দিই তাহলে তারা নিজেদের ওপর আঘাত করতে পারে অথবা অন্যদের ওপরও আঘাত করতে পারে। তাদের ছবি নিয়ে আমি কালেক্টরের কাছে গিয়েছিলাম কিছু সাহায্যের আশায়। কিন্তু আমার জন্য কিছুই করে নি প্রশাসন। দিনেশ আরো বলেন, এর আগে আমি বাবা ও ভাইকে জাবালপুর ও গোয়ালিয়রে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমার জমানো অর্থ শেষ হয়ে যায়। নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আমাকে কাজ থেকে সরে আসতে হয়।
স্থানীয় ট্যাক্স কালেকটর রাজেশ শাহ বলেন, ওই পরিবারটি তার কাছে গিয়েছিল সাহায্যের জন্য। আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা করতে না পারায় তাদের বিপিএল তালিকাভুক্ত করেছি।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

পিতা-পুত্রের দুই দশকের শিকলবন্দি জীবন

আপডেট টাইম : ১২:২৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম: 500x350_758e7310f066689a019b9f261ffb28ed_87936_1মানসিক রোগী পিতা-পুত্রের পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়েছে ২০ বছর ধরে। স্বজনদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরকারি সহায়তা চেয়েও কোনো সাড়া মেলে নি। অর্থের অভাবে কোনো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা শিকলবন্দিই থাকছেন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুরের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের একটি ছোট্ট বাড়ি। তার পেছনদিকে একটি গরু বাঁধা। একই রকমভাবে শিকলে বাঁধা ৬৫ বছর বয়সী চূড়ামন কৌরব ও তার এক ছেলে।
পরীক্ষা করে তাদের মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে এক দশকেরও বেশি আগে । তাদের দেখভালের দায়িত্ব পড়ে আরেক ছেলে দিনেশ কৌরবের ওপর। কিন্তু দিনেশ হতদরিদ্র। মাসে তার আয় ৩০০০ রুপি। পরিবারে সদস্য ৭ জনের। এত বড় সংসার চালিয়ে পিতা ও ভাইয়ের চিকিৎসা খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, যা উপার্জন করেন তার এক-তৃতীয়াংশই চিকিৎসা খাতে খরচ করতে হয়। আর্থিক ও মানসিক এক যন্ত্রণা তাকে দংশন করছে। তা সত্ত্বেও কিছু করার নেই।
পিতা-পুত্রকে একসঙ্গে বেঁধে রাখা ছাড়া তার সামনে আর কোন পথ খোলা ছিল না। তাদের তিনি মাঝেমাঝে ঘর থেকে বের করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। আবার নিয়ে যান বাড়ির ভেতরে।
দিনেশ বলেন, যদি বাবা ও ভাইয়ের পায়ের শিকল খুলে দিই তাহলে তারা নিজেদের ওপর আঘাত করতে পারে অথবা অন্যদের ওপরও আঘাত করতে পারে। তাদের ছবি নিয়ে আমি কালেক্টরের কাছে গিয়েছিলাম কিছু সাহায্যের আশায়। কিন্তু আমার জন্য কিছুই করে নি প্রশাসন। দিনেশ আরো বলেন, এর আগে আমি বাবা ও ভাইকে জাবালপুর ও গোয়ালিয়রে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমার জমানো অর্থ শেষ হয়ে যায়। নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আমাকে কাজ থেকে সরে আসতে হয়।
স্থানীয় ট্যাক্স কালেকটর রাজেশ শাহ বলেন, ওই পরিবারটি তার কাছে গিয়েছিল সাহায্যের জন্য। আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা করতে না পারায় তাদের বিপিএল তালিকাভুক্ত করেছি।