পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মিয়ানমারে ঐতিহাসিক নির্বাচন আজ

ডেস্ক: কয়েক দশক পরে মিয়ানমারে অর্থপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচন ঐতিহাসিক। কয়েক দশক সেনা শাসনের যাঁতাকলে থাকার পর আজ গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনে বিরোধী দলীয় নেত্রী অং সান সু চি ফিরতে পারেন ক্ষমতায়। তবে আগে থেকে নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারেন না নির্বাচনের ফল কি হবে। সেনাবাহিনী এরই মধ্যে বলে দিয়েছে ফল যা-ই হোক তারা মেনে নেবে। গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমারে ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেছে সেনাবাহিনী। অং সান সু চি ১৯৯০ সালের জাতীয় নির্বাচনে শতকরা ৮১ ভাগ আসন পেলেও তাকে ক্ষমতায় যেতে দেয় নি সামরিক জান্তা। জীবনের দীর্ঘ সময় তার কেটেছে গৃহবন্দি অবস্থায়। সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, আজকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্রেসি (এনএলডি) সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আভির্ভূত হতে পারে। সাবেক জেনারেল ও দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন বলেছেন, তার সরকার ও শক্তিধর সেনাবাহিনী নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। প্রথমবারের জন্য সেখানে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য ভোটার তালিকা কম্পিউটারে ধারণ করা হয়েছে। দেশে যে সংস্কারের সূচনা হয়েছে তাকে এগিয়ে নিতে ভোটারদে প্রতি তাদের ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। কিন্তু ভোট যতই নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন করার ঘোষণা দেয়া হোক না কেন, রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে কয়েক লাখ ভোটারকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন যে, বহু ভোটারকে ভোটারের নাম থাকবে না ভোটার তালিকায়। এ ছাড়া যে দেশে সু চি বিজয়ী হওয়ার পর তার বিজয় কেড়ে নেয়া হয়েছে এর আগে সেখানে সেনা বাহিনীর ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে সতর্ক দেশবাসী। উইন মার ও নামে এক মুদি দোকানি বলেছেন, আমি এই সরকারকে পছন্দ করি না। তারা দুর্নীতিপরায়ণ। আমার মনে হয় নির্বাচনে ভোট কারচুপি হবে। প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সী এই নারী। ২০১০ সালের নির্বাচন যখন এনএলডি বর্জন করেছিল তখন তিনি ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। ওই নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ১৯৯০ সালে নির্বাচনের ফল সেনাবাহিনী বাতিল করলেও এবার প্রেসিডেন্ট তার প্রতিশ্রুতি রাখবেন বলে বিশ্বাস করেন নিরাপত্তা প্রহরী অং হয়ে (৫৪)। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন বলেন, সেনাবাহিনী ও সরকার উভয়ই আজকের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত করতে তিনি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন। নির্বাচনের প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার আগ দিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। থেইন সেইন আরও বলেন, ২০১১ সালে আধা-বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি যে সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন তা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সফল নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তার ভাষায়Ñ আমি আবারও বলতে চাই সরকার ও সেনাবাহিনী উভয়ই নির্বাচনের ফলকে সম্মান দেখাবে ও মেনে নেবে। নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে গঠিত নতুন সরকার আমি মেনে নেবো। সারা বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে মিয়ানমারের দিকে- সেখানে কি গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উঠবে কিনা তা দেখার জন্য।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে ঐতিহাসিক নির্বাচন আজ

আপডেট টাইম : ০১:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৫

ডেস্ক: কয়েক দশক পরে মিয়ানমারে অর্থপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচন ঐতিহাসিক। কয়েক দশক সেনা শাসনের যাঁতাকলে থাকার পর আজ গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনে বিরোধী দলীয় নেত্রী অং সান সু চি ফিরতে পারেন ক্ষমতায়। তবে আগে থেকে নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারেন না নির্বাচনের ফল কি হবে। সেনাবাহিনী এরই মধ্যে বলে দিয়েছে ফল যা-ই হোক তারা মেনে নেবে। গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমারে ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেছে সেনাবাহিনী। অং সান সু চি ১৯৯০ সালের জাতীয় নির্বাচনে শতকরা ৮১ ভাগ আসন পেলেও তাকে ক্ষমতায় যেতে দেয় নি সামরিক জান্তা। জীবনের দীর্ঘ সময় তার কেটেছে গৃহবন্দি অবস্থায়। সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, আজকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্রেসি (এনএলডি) সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আভির্ভূত হতে পারে। সাবেক জেনারেল ও দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন বলেছেন, তার সরকার ও শক্তিধর সেনাবাহিনী নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। প্রথমবারের জন্য সেখানে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য ভোটার তালিকা কম্পিউটারে ধারণ করা হয়েছে। দেশে যে সংস্কারের সূচনা হয়েছে তাকে এগিয়ে নিতে ভোটারদে প্রতি তাদের ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। কিন্তু ভোট যতই নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন করার ঘোষণা দেয়া হোক না কেন, রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে কয়েক লাখ ভোটারকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন যে, বহু ভোটারকে ভোটারের নাম থাকবে না ভোটার তালিকায়। এ ছাড়া যে দেশে সু চি বিজয়ী হওয়ার পর তার বিজয় কেড়ে নেয়া হয়েছে এর আগে সেখানে সেনা বাহিনীর ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে সতর্ক দেশবাসী। উইন মার ও নামে এক মুদি দোকানি বলেছেন, আমি এই সরকারকে পছন্দ করি না। তারা দুর্নীতিপরায়ণ। আমার মনে হয় নির্বাচনে ভোট কারচুপি হবে। প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সী এই নারী। ২০১০ সালের নির্বাচন যখন এনএলডি বর্জন করেছিল তখন তিনি ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। ওই নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ১৯৯০ সালে নির্বাচনের ফল সেনাবাহিনী বাতিল করলেও এবার প্রেসিডেন্ট তার প্রতিশ্রুতি রাখবেন বলে বিশ্বাস করেন নিরাপত্তা প্রহরী অং হয়ে (৫৪)। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন বলেন, সেনাবাহিনী ও সরকার উভয়ই আজকের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত করতে তিনি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন। নির্বাচনের প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার আগ দিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। থেইন সেইন আরও বলেন, ২০১১ সালে আধা-বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি যে সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন তা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সফল নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তার ভাষায়Ñ আমি আবারও বলতে চাই সরকার ও সেনাবাহিনী উভয়ই নির্বাচনের ফলকে সম্মান দেখাবে ও মেনে নেবে। নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে গঠিত নতুন সরকার আমি মেনে নেবো। সারা বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে মিয়ানমারের দিকে- সেখানে কি গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উঠবে কিনা তা দেখার জন্য।