অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা Logo ১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ Logo পাটগ্রাম পৌরসভায় IUGIP প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শকরণ সভা Logo বিআরটিএ মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৪ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ

ভাসানীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ও জনস্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করুন

আজ ১৭ নভেম্বর ২০১৬ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক তৌফিক হাসান পাপ্পুর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন তার সমসাময়িক রাজনৈতিক,মওলানা ভাসানী প্রতি অনুরক্ত ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সভপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক ও সাম্র্রজ্যবাদবিরোধী ও প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনসমূহঃ বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র গণমঞ্চ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

সভার সঞ্চালকের দায়িক্ত পালন করেন জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক জহিরুল ইসলাম মুন্না । আলোচনাসভার আরো উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবীর, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। এ সভায় শ্যামল কুমার ভৌমিক রচিত মওলানা ভাসানীর উপর প্রবন্ধ পাঠ করা হয় । সভায় জাতীয় ছাত্রদলের মহানগরের সদস্য মওলানা ভাসানীকে নিয়ে শামসুর রাহমানের সফেদ পাঞ্জাবী কামরুল হাসান শৈবাল ও আবদুল গাফ্ফার চেীধুরীর আমাদের মিলিত সংগ্রাম মাওলানা ভাসানীর নাম মানসুরা আজাদ রূপালী আবৃত্তি করেন ।

আলোচনাসভায় বক্তারা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ত্যাগের জীবন ও তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন । বক্তারা বলেন এ দেশের জনগনের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ও জীবনযাত্রার মান উন্ন্য়নে মওলানা ভাসানীর নামটি এ দেশের ইতিহাসের পাতায় আজীবন স্মরণীয় । বক্তারা তরুন ছাত্রসমাজকে মওলানা ভাসানীর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে নিজেদেরকে এদেশের বজ্ঞিত ও শোষিত জনগনের পাশে দাড়ানোর আহবান ব্যক্ত করেন । তারা বলেন মওলানা ভাসানী ছিলেন শোষিত বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের অতি নিকটজন, শোষিতের পক্ষে শোষকের বিরুদ্ধে যিনি ছিলেন আজীবন সংগ্রামী। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের শোষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রচন্ড এক বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহী নেতা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণকালে তাঁর ভেতরে যে ইংরেজ বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে তাই কালক্রমে সেই ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তাঁকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় উদ্বেলিত করে তোলে।

প্রধান আলোচক বলেন মওলানা ভাসানীকে শুধুমাত্র জাতীয় অর্থাৎ এদেশের জনগনের নেতা বললে তাকে বোঝা যায় না বরং তিনি সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত ও শোষিত জনগনের নেতা। তিনি জানতেন নিপীড়িত শোষিত মানুষের মুক্তির অন্তরায় সাম্র্রজ্যবাদী শোষণ এবং দেশীয় সামন্ত মহাজনী শোষণ, যে কারনে সাসাম্র্রজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে যেমন সক্রিয় থেকেছেন, তেমনি দেশীয় জোতদার-মহাজনদের বিরূদ্ধে সংগ্রামে থেকেছেন অবিচল। একটি সত্য তিনি উপলব্ধি করেছিলেন আজকের যুগে জাতীয় বুর্জোয়াদের ক্ষমতা দখলের কোন অবকাশ নেই। সেটা করতে হলে সাম্র্রজ্যবাদের সাথে আঁতাত করেই করতে হবে। সে জন্য তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন, সক্রিয় থেকেছেন। বলা হয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে তিনি এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, সাম্র্রজ্যবাদ ও তার দালালেরা বিভিন্ন অপচেষ্টা চালালেও ভাসানীকে বিস্মৃত করতে পারে নি, পারবে না। কারন ভাসানী এখনও প্রাসঙ্গিক , ছাত্র-যুব সমাজের কাছে পথপ্রদর্শক । ছাত্র-তরুণ-যুবসমাজ ও রাজনীতিবিদেরা আজ যে আত্মকেন্দ্রীকতা ও আত্মসর্বস্ব ভোগবাদী জীবনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে সে প্রেক্ষিতে জাতীয় ছাত্রদল ভাসানীর যে আত্মত্যাগের মহিমা তা থেকে ছাত্র সমাজকে দীক্ষা নিয়ে জাতীয় ও জনস্বার্থে নিজেদের আত্মনিয়োগের আহবান জানাচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা

ভাসানীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ও জনস্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করুন

আপডেট টাইম : ০৪:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৬

আজ ১৭ নভেম্বর ২০১৬ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক তৌফিক হাসান পাপ্পুর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন তার সমসাময়িক রাজনৈতিক,মওলানা ভাসানী প্রতি অনুরক্ত ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সভপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক ও সাম্র্রজ্যবাদবিরোধী ও প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনসমূহঃ বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র গণমঞ্চ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

সভার সঞ্চালকের দায়িক্ত পালন করেন জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক জহিরুল ইসলাম মুন্না । আলোচনাসভার আরো উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবীর, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। এ সভায় শ্যামল কুমার ভৌমিক রচিত মওলানা ভাসানীর উপর প্রবন্ধ পাঠ করা হয় । সভায় জাতীয় ছাত্রদলের মহানগরের সদস্য মওলানা ভাসানীকে নিয়ে শামসুর রাহমানের সফেদ পাঞ্জাবী কামরুল হাসান শৈবাল ও আবদুল গাফ্ফার চেীধুরীর আমাদের মিলিত সংগ্রাম মাওলানা ভাসানীর নাম মানসুরা আজাদ রূপালী আবৃত্তি করেন ।

আলোচনাসভায় বক্তারা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ত্যাগের জীবন ও তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন । বক্তারা বলেন এ দেশের জনগনের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ও জীবনযাত্রার মান উন্ন্য়নে মওলানা ভাসানীর নামটি এ দেশের ইতিহাসের পাতায় আজীবন স্মরণীয় । বক্তারা তরুন ছাত্রসমাজকে মওলানা ভাসানীর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে নিজেদেরকে এদেশের বজ্ঞিত ও শোষিত জনগনের পাশে দাড়ানোর আহবান ব্যক্ত করেন । তারা বলেন মওলানা ভাসানী ছিলেন শোষিত বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের অতি নিকটজন, শোষিতের পক্ষে শোষকের বিরুদ্ধে যিনি ছিলেন আজীবন সংগ্রামী। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের শোষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রচন্ড এক বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহী নেতা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণকালে তাঁর ভেতরে যে ইংরেজ বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে তাই কালক্রমে সেই ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তাঁকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় উদ্বেলিত করে তোলে।

প্রধান আলোচক বলেন মওলানা ভাসানীকে শুধুমাত্র জাতীয় অর্থাৎ এদেশের জনগনের নেতা বললে তাকে বোঝা যায় না বরং তিনি সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত ও শোষিত জনগনের নেতা। তিনি জানতেন নিপীড়িত শোষিত মানুষের মুক্তির অন্তরায় সাম্র্রজ্যবাদী শোষণ এবং দেশীয় সামন্ত মহাজনী শোষণ, যে কারনে সাসাম্র্রজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে যেমন সক্রিয় থেকেছেন, তেমনি দেশীয় জোতদার-মহাজনদের বিরূদ্ধে সংগ্রামে থেকেছেন অবিচল। একটি সত্য তিনি উপলব্ধি করেছিলেন আজকের যুগে জাতীয় বুর্জোয়াদের ক্ষমতা দখলের কোন অবকাশ নেই। সেটা করতে হলে সাম্র্রজ্যবাদের সাথে আঁতাত করেই করতে হবে। সে জন্য তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন, সক্রিয় থেকেছেন। বলা হয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে তিনি এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, সাম্র্রজ্যবাদ ও তার দালালেরা বিভিন্ন অপচেষ্টা চালালেও ভাসানীকে বিস্মৃত করতে পারে নি, পারবে না। কারন ভাসানী এখনও প্রাসঙ্গিক , ছাত্র-যুব সমাজের কাছে পথপ্রদর্শক । ছাত্র-তরুণ-যুবসমাজ ও রাজনীতিবিদেরা আজ যে আত্মকেন্দ্রীকতা ও আত্মসর্বস্ব ভোগবাদী জীবনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে সে প্রেক্ষিতে জাতীয় ছাত্রদল ভাসানীর যে আত্মত্যাগের মহিমা তা থেকে ছাত্র সমাজকে দীক্ষা নিয়ে জাতীয় ও জনস্বার্থে নিজেদের আত্মনিয়োগের আহবান জানাচ্ছে।