পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা Logo ১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ৫ পাস করেনি কেউ Logo পাটগ্রাম পৌরসভায় IUGIP প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শকরণ সভা Logo বিআরটিএ মিরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৪ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo লালমনিরহাটে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, আমন চাষিদের বিক্ষোভ Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ

এবারও ডাক পেলেন না ৯ বীরঙ্গনা!

এবারের বিজয় দিবস পর্যন্ত বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাসায়ী থাকা বীরাঙ্গনা ছালেহা বেওয়া। তার বিশ্বাস ছিল, এবারের বিজয় দিবসের আগেই সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দেবে ও মহান দিবসটিতে তাকে সরকারি অনুষ্ঠনে ডেকে পাঠাবে।

এই বীরঙ্গনার প্রত্যাশা ছিল, এটুকু সম্মান তার ৪৫ বছরের যন্ত্রণা ও বঞ্চনার অতীত ভুলিয়ে তাকে প্রশান্তি দেবে। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশের ৪০ দিন আগেই ছালেহা বেওয়া পরপারে চলে যান ক্যান্সারের দুঃসহ যন্ত্রণাকাতর শরীর ও বুকভরা দুঃখ নিয়ে।

পরে কুড়িগ্রামের ১০ জন বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেজেট প্রকাশ হয়। তাদের মধ্যে মৃত ছালেহা বেওয়ার নামও আছে। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালে গ্রামের নতুন স্টেশন পাড়ায়।

কুড়িগ্রামের অন্য নয়জন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি প্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার কালে গ্রামের দোলো বেওয়া, রহিমা খাতুন, খুকী বেগম, গেন্দি বেওয়া, বছিরন বেওয়া, ফাতেমা বেগম, তরুবালা, টাপু ভেলা কোপা গ্রামের খোতেজা বেগম ও পাঠান পাড়া গ্রামের মজিদা বেগম।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৩৭তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ২৪ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া এই বীর নারীদের মধ্যে গেন্দি বেওয়া ও মজিদা বেগম বলেয়, ‘দুঃখ-কষ্ট আর রোগে ভুগে আমাদের মাঝ থেকে ছালেহা বেওয়া মারা গেলেন। বাকিদের অনেকের স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় আক্রান্ত। তারা আশা করেছিলেন, সরকারি আয়োজনে তাদেরকে ডাকা হবে ও সম্মান দেয়া হবে। কিন্তু এবারও আমাদের কেউ খোঁজ করেনি।’

আবদুল হাই বীরপ্রতীক জানান, নতুন স্বীকৃতি পাওয়া এই মুক্তিযোদ্ধারা আশা করেছিলেন তাদের সম্মানিত করতে ডাকা হবে অনুষ্ঠানে। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে করে তারা হতাশ হয়েছেন।

তিনি জানান, কুড়িগ্রামে আরো অনেক বীরাঙ্গনা আছে যারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সরকারের উচিত হবে আরো যাচাই বাছাই করে সেই সব নারীদের সম্মান দেয়া। যাদের গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের কাগুজে সম্মান না দিয়ে বাস্তবের সম্মান দেয়া।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বাতেন ১০ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত গেজেট না আসায় তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি।’

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘কুড়িগ্রামে কতজনকে এবং কোন কোন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তা অফিসিয়ালি আমার জানা নেই।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক, হত্যা-পুশ ইন বন্ধে কঠোর বার্তা

এবারও ডাক পেলেন না ৯ বীরঙ্গনা!

আপডেট টাইম : ০৪:২৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬

এবারের বিজয় দিবস পর্যন্ত বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাসায়ী থাকা বীরাঙ্গনা ছালেহা বেওয়া। তার বিশ্বাস ছিল, এবারের বিজয় দিবসের আগেই সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দেবে ও মহান দিবসটিতে তাকে সরকারি অনুষ্ঠনে ডেকে পাঠাবে।

এই বীরঙ্গনার প্রত্যাশা ছিল, এটুকু সম্মান তার ৪৫ বছরের যন্ত্রণা ও বঞ্চনার অতীত ভুলিয়ে তাকে প্রশান্তি দেবে। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশের ৪০ দিন আগেই ছালেহা বেওয়া পরপারে চলে যান ক্যান্সারের দুঃসহ যন্ত্রণাকাতর শরীর ও বুকভরা দুঃখ নিয়ে।

পরে কুড়িগ্রামের ১০ জন বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেজেট প্রকাশ হয়। তাদের মধ্যে মৃত ছালেহা বেওয়ার নামও আছে। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালে গ্রামের নতুন স্টেশন পাড়ায়।

কুড়িগ্রামের অন্য নয়জন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি প্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার কালে গ্রামের দোলো বেওয়া, রহিমা খাতুন, খুকী বেগম, গেন্দি বেওয়া, বছিরন বেওয়া, ফাতেমা বেগম, তরুবালা, টাপু ভেলা কোপা গ্রামের খোতেজা বেগম ও পাঠান পাড়া গ্রামের মজিদা বেগম।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৩৭তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ২৪ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া এই বীর নারীদের মধ্যে গেন্দি বেওয়া ও মজিদা বেগম বলেয়, ‘দুঃখ-কষ্ট আর রোগে ভুগে আমাদের মাঝ থেকে ছালেহা বেওয়া মারা গেলেন। বাকিদের অনেকের স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় আক্রান্ত। তারা আশা করেছিলেন, সরকারি আয়োজনে তাদেরকে ডাকা হবে ও সম্মান দেয়া হবে। কিন্তু এবারও আমাদের কেউ খোঁজ করেনি।’

আবদুল হাই বীরপ্রতীক জানান, নতুন স্বীকৃতি পাওয়া এই মুক্তিযোদ্ধারা আশা করেছিলেন তাদের সম্মানিত করতে ডাকা হবে অনুষ্ঠানে। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে করে তারা হতাশ হয়েছেন।

তিনি জানান, কুড়িগ্রামে আরো অনেক বীরাঙ্গনা আছে যারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সরকারের উচিত হবে আরো যাচাই বাছাই করে সেই সব নারীদের সম্মান দেয়া। যাদের গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের কাগুজে সম্মান না দিয়ে বাস্তবের সম্মান দেয়া।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বাতেন ১০ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত গেজেট না আসায় তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি।’

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘কুড়িগ্রামে কতজনকে এবং কোন কোন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তা অফিসিয়ালি আমার জানা নেই।’