পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন বরগুনায় এসপির বিরুদ্ধে ভাগ্নিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বাংলার খবর২৪.কম : : মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবের বিরুদ্ধে এবার নিজের ভাগ্নিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ভাগ্নিকে হত্যার পরে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

রোববার রাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এসপি হাবিবের আপন ভাগ্নি হালিমা আক্তার স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ভাগ্নিকে অনৈতিক সম্পর্ক থেকে ফেরাতে না পেরে ঈদের ছুটিতে আসা এসপি হাবিব, তার বড় ভাই আবু হানিফ ও হালিমার বাবা লিটন মোল্লা গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে বেদম মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে হালিমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আহত হালিমা আক্তারকে অজ্ঞান অবস্থায় রাত ১২টার দিকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে যায় আবদুল মান্নান এবং রাসেল নামের দুই প্রতিবেশী।

হালিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন আমতলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

এদিকে, পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দেয় পটুয়াখালী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। কিন্তু তাকে হাসপাতালে না নিয়ে আবদুল মান্নান এবং রাসেল নামের দুই প্রতিবেশী হালিমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় রোববার রাতে হালিমা আক্তারের মৃত্যু হয়।

এরপর পুলিশী ঝামেলা এড়াতে গোপনীয়তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হালিমা আক্তারের লাশ দাফন করেন এসপি হাবিব, তার বড় ভাই হানিফ এবং ভগ্নিপতি লিটন মোল্লা।

এসপি হাবিব জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি ছুটিতে বাড়ি আসার কথা অস্বীকার করেন। ভাগ্নি হালিমাকে কোনো মারধর করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, তার ভাগ্নির মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কারো কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অতি উৎসাহী হয়ে তার ভাগ্নির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন বা নাড়াচাড়া না করাই ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই।

জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম জানান, সন্তান অপরাধ করলে তার বাবা-মা তাকে মেরে ফেলতে পারেন না। অতিরিক্ত মারধরের কারণে কারো মৃত্যু হলে অবশ্যই তাদের শাস্তি হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন বরগুনায় এসপির বিরুদ্ধে ভাগ্নিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৩:১৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : : মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবের বিরুদ্ধে এবার নিজের ভাগ্নিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ভাগ্নিকে হত্যার পরে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

রোববার রাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এসপি হাবিবের আপন ভাগ্নি হালিমা আক্তার স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ভাগ্নিকে অনৈতিক সম্পর্ক থেকে ফেরাতে না পেরে ঈদের ছুটিতে আসা এসপি হাবিব, তার বড় ভাই আবু হানিফ ও হালিমার বাবা লিটন মোল্লা গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে বেদম মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে হালিমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আহত হালিমা আক্তারকে অজ্ঞান অবস্থায় রাত ১২টার দিকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে যায় আবদুল মান্নান এবং রাসেল নামের দুই প্রতিবেশী।

হালিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন আমতলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

এদিকে, পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দেয় পটুয়াখালী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। কিন্তু তাকে হাসপাতালে না নিয়ে আবদুল মান্নান এবং রাসেল নামের দুই প্রতিবেশী হালিমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় রোববার রাতে হালিমা আক্তারের মৃত্যু হয়।

এরপর পুলিশী ঝামেলা এড়াতে গোপনীয়তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হালিমা আক্তারের লাশ দাফন করেন এসপি হাবিব, তার বড় ভাই হানিফ এবং ভগ্নিপতি লিটন মোল্লা।

এসপি হাবিব জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি ছুটিতে বাড়ি আসার কথা অস্বীকার করেন। ভাগ্নি হালিমাকে কোনো মারধর করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, তার ভাগ্নির মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কারো কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অতি উৎসাহী হয়ে তার ভাগ্নির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন বা নাড়াচাড়া না করাই ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই।

জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম জানান, সন্তান অপরাধ করলে তার বাবা-মা তাকে মেরে ফেলতে পারেন না। অতিরিক্ত মারধরের কারণে কারো মৃত্যু হলে অবশ্যই তাদের শাস্তি হবে বলেও জানান তিনি।