পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক

সরকারি প্রচারণায় বাধা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ছাত্রদল নেতাকে দন্ড পরে মুচলেকায় মুক্তি

মিজানুর রহমান (বাউফল)
প্রতিনিধি

বাউফলে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে বিএনপি নেতার পুত্র ও বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইমুনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে। পূর্বঘটনার বিবরণে জানা যায়, পৌর মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খাদিজা হান্নানের নেতৃত্বে কর্মী লাভলী বেগম, জেসমিন বেগম, মাসুমা বেগমসহ মোট ছয়জন নারী পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গণভোটের প্রচারণা শেষে বাউফল সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় যান।

এ সময় বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা সাইমুন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইমুন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে করতে নারীদের দিকে চড়াও হন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইমুনকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে বাউফল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, থানায় নেওয়ার পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বসিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তার বিচার করা হয়।

আদালত বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় সাইমুনকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে দণ্ডাদেশ ঘোষণার পর তার মা-বাবার জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে পৌর মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খাদিজা হান্নান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটের প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। সেখানে একজন ছাত্রদল নেতা আমাদের নারীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর যথাযথ বিচার চাই।”

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,“সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আতিকুল ইসলাম জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু

সরকারি প্রচারণায় বাধা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ছাত্রদল নেতাকে দন্ড পরে মুচলেকায় মুক্তি

আপডেট টাইম : ০৪:১০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মিজানুর রহমান (বাউফল)
প্রতিনিধি

বাউফলে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে বিএনপি নেতার পুত্র ও বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইমুনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে। পূর্বঘটনার বিবরণে জানা যায়, পৌর মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খাদিজা হান্নানের নেতৃত্বে কর্মী লাভলী বেগম, জেসমিন বেগম, মাসুমা বেগমসহ মোট ছয়জন নারী পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গণভোটের প্রচারণা শেষে বাউফল সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় যান।

এ সময় বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা সাইমুন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইমুন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে করতে নারীদের দিকে চড়াও হন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইমুনকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে বাউফল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, থানায় নেওয়ার পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বসিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তার বিচার করা হয়।

আদালত বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় সাইমুনকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে দণ্ডাদেশ ঘোষণার পর তার মা-বাবার জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে পৌর মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খাদিজা হান্নান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটের প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। সেখানে একজন ছাত্রদল নেতা আমাদের নারীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর যথাযথ বিচার চাই।”

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,“সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আতিকুল ইসলাম জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”