পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

পাটগ্রামে চার দশক ধরে সেতু না থাকায় দুর্ভোগের শিকার ১২ হাজার মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের জোড়াপুল ও জুম্মারপাড় এলাকায় সানিয়াজান নদীর ওপর প্রায় চার দশক ধরে কোনো সেতু নেই।

ফলে নদীর দক্ষিণ অংশের বাসিন্দাদের বর্ষা ও শুষ্ক—দুই মৌসুমেই বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় ইউনিয়নের অন্তত ১০টি এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে বহুবার আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক দফা নদীর ওই স্থানে গিয়ে মাটি পরীক্ষা ও পরিমাপ করলেও বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই মিলেছে, বাস্তবে সেতু নির্মাণের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয় উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট এবং বর্ষা মৌসুমে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হলে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং তখন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, রোগী, নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ প্রায় এক হাজার মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে। এরই মধ্যে অনেকেই নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আবার সময়মতো অসুস্থ ও দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে না পারায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

সানিয়াজান নদী একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যার উৎপত্তি ভারতের কোচবিহার রাজ্যে। এটি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের দহগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
পাটগ্রাম উপজেলা থেকে সড়কপথে দহগ্রাম ইউনিয়নে যাওয়ার একমাত্র রাস্তায় প্রায় ছয় কিলোমিটার পর জুম্মারপাড় ও জোড়াপুল এলাকায় সানিয়াজান নদী প্রবাহিত। নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের জুম্মারপাড়, পানবাড়ি, লক্ষণনাথ ও মিঠুর কামাত, পাবনাপাড়া এবং গোলডাঙ্গা এলাকা। এই অংশেই অবস্থিত পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পানবাড়ি গোলডাঙ্গা নূরানী তালিমুল কুরআন ও হাফিজিয়া মডেল মাদ্রাসা এবং একটি সম্ভাব্য বিজিবি ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থান। অপরদিকে নদীর উত্তর পাড়ে রয়েছে পানবাড়ির অংশ, জোড়াপুল, নতুনবাজার ও ফকিরপাড়া এলাকা, যেখানে বোঁচারহাট ও ভ্যালেংনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।
সেতু না থাকায় নদীর দক্ষিণ অংশের কৃষকদের তাঁদের উৎপাদিত ফসল পাটগ্রাম উপজেলা শহরের হাটবাজারে নিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়। বর্ষাকালে নদীর প্রবল স্রোতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে গেলে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
গোলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অলিয়ার রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। সেতু না থাকায় তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়। সানিয়াজান নদীতে সেতু না থাকায় আমাদের প্রতিনিয়ত এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।”
পানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হাবিব ইসলাম (৩৫) জানান, “সেতু না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত একজন ও হৃদরোগে আক্রান্ত আরও একজনকে যথাসময়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়া যায়নি, ফলে তারা মারা গেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের চলাচল করতে হয়। এখানে দ্রুত সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, “ওই স্থানে সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে নকশা অনুমোদনের কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

পাটগ্রামে চার দশক ধরে সেতু না থাকায় দুর্ভোগের শিকার ১২ হাজার মানুষ

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের জোড়াপুল ও জুম্মারপাড় এলাকায় সানিয়াজান নদীর ওপর প্রায় চার দশক ধরে কোনো সেতু নেই।

ফলে নদীর দক্ষিণ অংশের বাসিন্দাদের বর্ষা ও শুষ্ক—দুই মৌসুমেই বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় ইউনিয়নের অন্তত ১০টি এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে বহুবার আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক দফা নদীর ওই স্থানে গিয়ে মাটি পরীক্ষা ও পরিমাপ করলেও বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই মিলেছে, বাস্তবে সেতু নির্মাণের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয় উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট এবং বর্ষা মৌসুমে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হলে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং তখন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, রোগী, নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ প্রায় এক হাজার মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে। এরই মধ্যে অনেকেই নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আবার সময়মতো অসুস্থ ও দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে না পারায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

সানিয়াজান নদী একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যার উৎপত্তি ভারতের কোচবিহার রাজ্যে। এটি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের দহগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
পাটগ্রাম উপজেলা থেকে সড়কপথে দহগ্রাম ইউনিয়নে যাওয়ার একমাত্র রাস্তায় প্রায় ছয় কিলোমিটার পর জুম্মারপাড় ও জোড়াপুল এলাকায় সানিয়াজান নদী প্রবাহিত। নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের জুম্মারপাড়, পানবাড়ি, লক্ষণনাথ ও মিঠুর কামাত, পাবনাপাড়া এবং গোলডাঙ্গা এলাকা। এই অংশেই অবস্থিত পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পানবাড়ি গোলডাঙ্গা নূরানী তালিমুল কুরআন ও হাফিজিয়া মডেল মাদ্রাসা এবং একটি সম্ভাব্য বিজিবি ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থান। অপরদিকে নদীর উত্তর পাড়ে রয়েছে পানবাড়ির অংশ, জোড়াপুল, নতুনবাজার ও ফকিরপাড়া এলাকা, যেখানে বোঁচারহাট ও ভ্যালেংনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।
সেতু না থাকায় নদীর দক্ষিণ অংশের কৃষকদের তাঁদের উৎপাদিত ফসল পাটগ্রাম উপজেলা শহরের হাটবাজারে নিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়। বর্ষাকালে নদীর প্রবল স্রোতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে গেলে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
গোলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অলিয়ার রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। সেতু না থাকায় তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়। সানিয়াজান নদীতে সেতু না থাকায় আমাদের প্রতিনিয়ত এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।”
পানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হাবিব ইসলাম (৩৫) জানান, “সেতু না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত একজন ও হৃদরোগে আক্রান্ত আরও একজনকে যথাসময়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়া যায়নি, ফলে তারা মারা গেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমাদের চলাচল করতে হয়। এখানে দ্রুত সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, “ওই স্থানে সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে নকশা অনুমোদনের কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”