পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ ! Logo বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১,২,৩,৪ ও ঢাকা জেলা সার্কেলের আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক রোড-শো অনুষ্ঠিত Logo রূপগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ‘ওয়েলকেয়ার গ্রীনসিটি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি Logo পাটগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি রাজিবের মতবিনিময়, দুস্থদের মাঝে চেক বিতরণ Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা ১২ জনকে রাতের আঁধারে ফেরত নিল বিএসএফ Logo বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১, সার্কেলের সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান’কে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার ফেসবুক পেজে Logo পাটগ্রামের বুড়িমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার পরিবারকে এমপির গরু উপহার Logo প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন করতে হবে: শেখ রবিউল আলম Logo লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল বিজিবি Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রামের ৬৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি

হাসপাতালের সামনে গরুর হাট বসানোয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ

বাংলার খবর২৪.কম : images_53928 অনুরোধ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালের সামনে গরুর হাট বসানোর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আজ বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তিনি এ হতাশা ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার দীর্ঘদিন বিদেশ সফরে থাকার সময় ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালের সামনে গরুর হাট বসানো নিয়ে কিছু ঘটনা ঘটেছে যা অনভিপ্রেত ছিল।

সাধারণ মানুষের কাছে কোরবানীর পশু সহজলভ্য করতে গরুর হাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু হাসপাতালের সামনে বা প্রবেশপথকে অবরুদ্ধ করে গরুর হাট বসানো মোটেও কাম্য নয়।

ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বেশ কিছু সরকারি হাসপাতাল আছে যেগুলোতে দিনের ২৪ ঘণ্টাই স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। দূরদূরান্ত থেকে অসহায় মূমূর্ষু রোগীরা এসব হাসপাতালে আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। প্রায়শই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন রক্ষার জন্য অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে আসতে হয়।

তাই হাসপাতালগুলোতে আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে গরুর হাট বসতে অনুমতি না দেওয়ার জন্য আমরা ঈদের দুই মাস পূর্বেই সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

গত আগস্টের ৩ তারিখে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর একটি ডিও পত্র দিয়েছিলাম যাতে শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ সংলগ্ন এলাকায় যেন কোরবানীর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়া হয়।

এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল শাখা, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও ঢাকা সিটি করপোরেশন বরাবর বেশ কয়েকটি অনুরোধপত্র দেওয়া হয়।

আমাদের এই উদ্যোগের ফলে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় কোনো হাট বসেনি। তারপরও দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে অতীতের মতো এবারো চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কথা বিবেচনা না করে কয়েকটি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় হাট বসানো হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমে মানুষের এই ভোগান্তির দিক তুলে ধরে হাসপাতালের সামনে হাট বসানো নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে যা আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে, যা আমাকে ব্যথিত করেছে।

সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন জনগণের মধ্যেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে বলে আমি মনে করি।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, হাসপাতালগুলোর সামনে হাট বসাতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ বের করতে সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাসপাতালে যেতে আসতে অসুবিধা হয়েছে।

অথচ বিষয়টি নিয়ে আমরা বহু পূর্বেই সচেতন করার চেষ্টা করেছি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে। তারপরও হাসপাতালের সামনে হাট বসানোতে যে দুর্ভোগ মানুষকে পেতে হয়েছে তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আজ দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আগামীতে এই ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করবো।

জনগণের জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করার যে ওয়াদা নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে তাকে কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যায় না। আমাদের মূল লক্ষ্য মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। আমি আজ ঘোষণা দিতে চাই, এই লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি আগামীতে বরদাশ্ত করা হবে না। হাসপাতালের আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেশের কোথাও হাট বসতে দেওয়া হবে না।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ !

হাসপাতালের সামনে গরুর হাট বসানোয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ

আপডেট টাইম : ০৩:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম : images_53928 অনুরোধ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালের সামনে গরুর হাট বসানোর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আজ বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তিনি এ হতাশা ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার দীর্ঘদিন বিদেশ সফরে থাকার সময় ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালের সামনে গরুর হাট বসানো নিয়ে কিছু ঘটনা ঘটেছে যা অনভিপ্রেত ছিল।

সাধারণ মানুষের কাছে কোরবানীর পশু সহজলভ্য করতে গরুর হাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু হাসপাতালের সামনে বা প্রবেশপথকে অবরুদ্ধ করে গরুর হাট বসানো মোটেও কাম্য নয়।

ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বেশ কিছু সরকারি হাসপাতাল আছে যেগুলোতে দিনের ২৪ ঘণ্টাই স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। দূরদূরান্ত থেকে অসহায় মূমূর্ষু রোগীরা এসব হাসপাতালে আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। প্রায়শই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন রক্ষার জন্য অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে আসতে হয়।

তাই হাসপাতালগুলোতে আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে গরুর হাট বসতে অনুমতি না দেওয়ার জন্য আমরা ঈদের দুই মাস পূর্বেই সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

গত আগস্টের ৩ তারিখে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর একটি ডিও পত্র দিয়েছিলাম যাতে শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ সংলগ্ন এলাকায় যেন কোরবানীর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়া হয়।

এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল শাখা, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও ঢাকা সিটি করপোরেশন বরাবর বেশ কয়েকটি অনুরোধপত্র দেওয়া হয়।

আমাদের এই উদ্যোগের ফলে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় কোনো হাট বসেনি। তারপরও দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে অতীতের মতো এবারো চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কথা বিবেচনা না করে কয়েকটি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় হাট বসানো হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমে মানুষের এই ভোগান্তির দিক তুলে ধরে হাসপাতালের সামনে হাট বসানো নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে যা আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে, যা আমাকে ব্যথিত করেছে।

সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন জনগণের মধ্যেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে বলে আমি মনে করি।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, হাসপাতালগুলোর সামনে হাট বসাতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ বের করতে সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাসপাতালে যেতে আসতে অসুবিধা হয়েছে।

অথচ বিষয়টি নিয়ে আমরা বহু পূর্বেই সচেতন করার চেষ্টা করেছি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে। তারপরও হাসপাতালের সামনে হাট বসানোতে যে দুর্ভোগ মানুষকে পেতে হয়েছে তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আজ দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আগামীতে এই ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করবো।

জনগণের জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করার যে ওয়াদা নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে তাকে কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যায় না। আমাদের মূল লক্ষ্য মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। আমি আজ ঘোষণা দিতে চাই, এই লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি আগামীতে বরদাশ্ত করা হবে না। হাসপাতালের আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেশের কোথাও হাট বসতে দেওয়া হবে না।