পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

সার্ক দেশসমূহে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহবান টিআইবির

ঢাকা: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধকে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গত ৫ নভেম্বর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এ আহ্বান সম্বলিত একটি পত্রের অনুলিপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবকে প্রেরণ করেছে টিআইবি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আঞ্চলিক সহযোগিতা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সার্ক সদস্যভুক্ত দেশসমূহে দুর্নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রতিহত করে সকল প্রকার ভয়ের উর্ধ্বে থেকে কার্যকরভাবে দুর্নীতি দমনে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণের অঙ্গীকার করা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার লক্ষ্যে কার্যকর আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্থ ও সম্পদ পাচারসহ সকল প্রকার আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। এছাড়া জনগণের তথ্যের অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি দমনে সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসহ সকল জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করা।

জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদের ১৩ নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রয়াসের সম্পূরক ভূমিকা পালনে সার্কভুক্ত দেশসমূহের সাধারণ জনগোষ্ঠী, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের অবাধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

উল্লিখিত পত্রে বাংলাদেশ সরকারের ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে বলা হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় নীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়- উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো এক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত অবস্থান, বিশেষ করে ২০১২ সালে গৃহীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও পত্রে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সকল সরকারই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র হ্রাস, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিকে একটি প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিধায় উল্লিখিত প্রস্তাব সম্পূর্ণ সময়োপযোগী। পত্রটির অনুলিপি এখানে পাওয়া যাবে- http://goo.gl/ZC9pOZ

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে এবং দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণে, বিশেষত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পারস্পরিক অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

টিআইবি’র উদ্যোগে অনুরূপ একটি আবেদন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্র/সরকার প্রধানের কাছে প্রেরিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, টিআইবি’র উদ্যোগের প্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ফলে ১৪ তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণার ২৭ তম অনুচ্ছেদে দুর্নীতিকে এ অঞ্চলের দেশসমূহের জন্য ঘোরতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। সদস্য দেশসমূহ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় অভিজ্ঞতার বিনিময়ে তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত হয়েছিল।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

সার্ক দেশসমূহে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহবান টিআইবির

আপডেট টাইম : ১২:৪৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধকে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গত ৫ নভেম্বর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এ আহ্বান সম্বলিত একটি পত্রের অনুলিপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবকে প্রেরণ করেছে টিআইবি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আঞ্চলিক সহযোগিতা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সার্ক সদস্যভুক্ত দেশসমূহে দুর্নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রতিহত করে সকল প্রকার ভয়ের উর্ধ্বে থেকে কার্যকরভাবে দুর্নীতি দমনে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণের অঙ্গীকার করা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার লক্ষ্যে কার্যকর আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্থ ও সম্পদ পাচারসহ সকল প্রকার আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। এছাড়া জনগণের তথ্যের অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি দমনে সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসহ সকল জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করা।

জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদের ১৩ নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রয়াসের সম্পূরক ভূমিকা পালনে সার্কভুক্ত দেশসমূহের সাধারণ জনগোষ্ঠী, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের অবাধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

উল্লিখিত পত্রে বাংলাদেশ সরকারের ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে বলা হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় নীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়- উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো এক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত অবস্থান, বিশেষ করে ২০১২ সালে গৃহীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও পত্রে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সকল সরকারই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র হ্রাস, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিকে একটি প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিধায় উল্লিখিত প্রস্তাব সম্পূর্ণ সময়োপযোগী। পত্রটির অনুলিপি এখানে পাওয়া যাবে- http://goo.gl/ZC9pOZ

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে এবং দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণে, বিশেষত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পারস্পরিক অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

টিআইবি’র উদ্যোগে অনুরূপ একটি আবেদন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্র/সরকার প্রধানের কাছে প্রেরিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, টিআইবি’র উদ্যোগের প্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ফলে ১৪ তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণার ২৭ তম অনুচ্ছেদে দুর্নীতিকে এ অঞ্চলের দেশসমূহের জন্য ঘোরতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। সদস্য দেশসমূহ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় অভিজ্ঞতার বিনিময়ে তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত হয়েছিল।