পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

দেশি নামে চলছে বিদেশি রুই !

ঢাকা : খাদ্যের চাহিদা মেটাতে মাছের বাণিজ্যিক চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেক আগেই। আর মাছের মধ্যে রুই মাছ বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। কিন্তু, বর্তমানে বাজারে রুই মাছ মিললেও মিলছে না দেশি রুই। তবে দেশি নামেই চলছে বিদেশি রুই।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা গেল এমন চিত্র। এদিন মাছের দাম ছিল অনেকটা বাড়তি। বর্তমানে বাজারে মাছের আমদানি কম হওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে বলে জানালেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

বাজারে দেশি নামে বিক্রেতারা বিদেশি রুই বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায় অনেক আগ থেকেই। শুক্রবার কারওয়ান বাজারে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ক্রেতাদের বোকা বানিয়ে হরহামেশাই বিক্রি করছেন এসব রুই। আর ঠিকঠাক না চেনার কারণে ঠকছেন অনেকেই।

এরকমই এক মাছ বিক্রেতা মুনছুর আলী। বিক্রি করছেন দেশি রুই। কেজি প্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ক্রেতাদের ভিড়ও অনেক। তবে দেশি রুই নামে মুনছুর আলী যে মাছ বিক্রি করছেন তা কি আসলেই দেশি রুই? অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি যে রুই বিক্রি করছেন তা আসলে দেশি রুই নয়। বিদেশি রুই। যা বাংলাদেশে আসে ভারত এবং মিয়ানমার থেকে।

আরেক মাছ বিক্রেতা বৃন্দ রাজবংশী। কারওয়ান বাজারে মাছের ব্যবসা করছেন প্রায় ১০ বছর। দেশি এবং বিদেশি রুইয়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি শীর্ষ নিউজের এই প্রতিবেদককে জানান, দেশি রুই তরতাজা এবং জীবন্ত থাকে। যা উজ্জল বর্ণের হয়ে থাকে। এছাড়া এর মাথাটাও অনেকটা লম্বা আকৃতির হয়। আর বিদেশি রুই তেমন উজ্জল হয় না। মাথা খাটো এবং পেট ছোট হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, বাজারে দেশি রুই পাওয়া অনেকটা দুর্লভ। যাও আসে তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে যায়। তাই বাজারে যে রুই মাছ পাওয়া যায়, সবই ইন্ডিয়া এবং বার্মা (মিয়ানমার) থেকে আসে। তাছাড়া এদের মধ্যে দামেরও পার্থক্য রয়েছে। ইন্ডিয়ান রুইয়ের চেয়ে দেশি রুইয়ের দাম বেশি। দেশি রুই কেজি প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হলে বিদেশি রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তাই অনেক বিক্রেতা বেশি লাভের আশায় বিদেশি রুইকে দেশি বলে চালায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রণীসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ উদ্যোগে কারওয়ান বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ কেন্দ্র বসানো হয়েছে। যেখানে মাছের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। এই কেন্দ্রের ভলান্টিয়ার মোস্তফা রাহী জানান, বাজারে আসা এসব বিদেশি রুইয়েও ফরমালিন পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহনে অনেক সময় লাগে বলে এই মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।

কথা হয় ক্রেতা রহিম শিকদারের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা এত কিছু বুঝি না। খাওয়ার প্রয়োজনে মাছ কিনি। তবে, এভাবে বিদেশি রুইকে দেশি রুই বলে বিক্রি করা ঠিক নয়।’

এ সম্পর্কে কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লোকমান হাওলাদার এই প্রতিবেদককে জানান, দেশি রুই এবং বিদেশি রুই সম্পূর্ণ আলাদা। তবে স্বাদে প্রায় একই। কিন্তু, যারা বিদেশি রুইকে দেশি রুই বলে বিক্রি করছেন তারা ঠিক করছেন না।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

দেশি নামে চলছে বিদেশি রুই !

আপডেট টাইম : ০৮:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকা : খাদ্যের চাহিদা মেটাতে মাছের বাণিজ্যিক চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেক আগেই। আর মাছের মধ্যে রুই মাছ বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। কিন্তু, বর্তমানে বাজারে রুই মাছ মিললেও মিলছে না দেশি রুই। তবে দেশি নামেই চলছে বিদেশি রুই।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা গেল এমন চিত্র। এদিন মাছের দাম ছিল অনেকটা বাড়তি। বর্তমানে বাজারে মাছের আমদানি কম হওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে বলে জানালেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

বাজারে দেশি নামে বিক্রেতারা বিদেশি রুই বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায় অনেক আগ থেকেই। শুক্রবার কারওয়ান বাজারে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ক্রেতাদের বোকা বানিয়ে হরহামেশাই বিক্রি করছেন এসব রুই। আর ঠিকঠাক না চেনার কারণে ঠকছেন অনেকেই।

এরকমই এক মাছ বিক্রেতা মুনছুর আলী। বিক্রি করছেন দেশি রুই। কেজি প্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ক্রেতাদের ভিড়ও অনেক। তবে দেশি রুই নামে মুনছুর আলী যে মাছ বিক্রি করছেন তা কি আসলেই দেশি রুই? অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি যে রুই বিক্রি করছেন তা আসলে দেশি রুই নয়। বিদেশি রুই। যা বাংলাদেশে আসে ভারত এবং মিয়ানমার থেকে।

আরেক মাছ বিক্রেতা বৃন্দ রাজবংশী। কারওয়ান বাজারে মাছের ব্যবসা করছেন প্রায় ১০ বছর। দেশি এবং বিদেশি রুইয়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি শীর্ষ নিউজের এই প্রতিবেদককে জানান, দেশি রুই তরতাজা এবং জীবন্ত থাকে। যা উজ্জল বর্ণের হয়ে থাকে। এছাড়া এর মাথাটাও অনেকটা লম্বা আকৃতির হয়। আর বিদেশি রুই তেমন উজ্জল হয় না। মাথা খাটো এবং পেট ছোট হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, বাজারে দেশি রুই পাওয়া অনেকটা দুর্লভ। যাও আসে তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে যায়। তাই বাজারে যে রুই মাছ পাওয়া যায়, সবই ইন্ডিয়া এবং বার্মা (মিয়ানমার) থেকে আসে। তাছাড়া এদের মধ্যে দামেরও পার্থক্য রয়েছে। ইন্ডিয়ান রুইয়ের চেয়ে দেশি রুইয়ের দাম বেশি। দেশি রুই কেজি প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হলে বিদেশি রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তাই অনেক বিক্রেতা বেশি লাভের আশায় বিদেশি রুইকে দেশি বলে চালায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রণীসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ উদ্যোগে কারওয়ান বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণ কেন্দ্র বসানো হয়েছে। যেখানে মাছের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। এই কেন্দ্রের ভলান্টিয়ার মোস্তফা রাহী জানান, বাজারে আসা এসব বিদেশি রুইয়েও ফরমালিন পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহনে অনেক সময় লাগে বলে এই মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।

কথা হয় ক্রেতা রহিম শিকদারের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা এত কিছু বুঝি না। খাওয়ার প্রয়োজনে মাছ কিনি। তবে, এভাবে বিদেশি রুইকে দেশি রুই বলে বিক্রি করা ঠিক নয়।’

এ সম্পর্কে কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লোকমান হাওলাদার এই প্রতিবেদককে জানান, দেশি রুই এবং বিদেশি রুই সম্পূর্ণ আলাদা। তবে স্বাদে প্রায় একই। কিন্তু, যারা বিদেশি রুইকে দেশি রুই বলে বিক্রি করছেন তারা ঠিক করছেন না।