পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক Logo লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: তিনজনকে কারাদণ্ড।

জীবনের বিনিময়ে বিশ্বমোড়লদের এ কেমন বাণিজ্য!

(মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : মিয়ানমারে মানবতা কাঁদছে। আরাকানের আকাশ-বাতাস ভারী হচ্ছে নির্যাতিত মুসলমানদের আহাজারিতে। রক্তগঙ্গা বইছে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে। মুসলমানদের রক্তে হোলি খেলছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়!

বাস্তবতা হলো, মিয়ানমারের আধিবাসী আরাকানের মুসলমানরা। তারা সেখানে বসত করছে ব্রিটিশ আমল থেকে। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আরাকানের মুসলমানরা বীরোচিত ভূমিকা রাখে। তারা সেখানে একসময় প্রভাবশীল ছিল।

আশির দশকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির তালিকায় আরাকানের মুসলমানদের বাদ রাখা হয়। একক বৌদ্দ রাজ্য প্রতিষ্ঠায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের তালিকার বাইরে রাখা হয়। আর একই সঙ্গে শুরু হয় সেখান থেকে মুসলিম খেদাও কর্মসূচি। নেমে আছে নানামুখী অত্যাচার-নির্যাতন। পুড়িয়ে দিচ্ছে বসতির পর বসতি।

অকথ্য পৈশাচিক অত্যাচার-নির্যাতনের পর যারা দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে না সেসব মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। সিমারের মতো শিশুদের গলা কেটে, মেয়েদের ধর্ষণ করে আর পুরুষদের গুলি করে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। মানুষ মারার এমন নির্দয় আচরণ ভাবনারও অতীত।

মুসলিম বিশ্ব নানাভাবে বিভক্ত। আত্মকলহ চলছে তো চলছেই। একদিকে চিয়া-ছুন্নি দ্বন্দ্ব মাসলমানদের রক্ত ঝরাচ্ছে, অন্যদিকে মুসলিম দেশগুলোয় ভ্রাতৃঘাতী কর্মকাণ্ড লেগে আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অমুসলিমরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

বিশ্ব মাড়ল রাষ্ট্রগুলো পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের ঘরে কলহ সৃষ্টি করে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। দুটি পক্ষ সৃষ্টি করে উভয়কে সহযোগিতার নামে মুসলিম নিধন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছে।ফলে বহুদা বিভক্ত মুসললিম বিশ্ব নিজেদের সমস্যা সামাল দিতেই ব্যস্ত।

ভারত যখন ঘটা করে বাবড়ি মসজিদ ভাঙ্গার দিবস উদযাপন করছে, মিয়ানমারেরর আরাকান রাজ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে মুসলমানদের যখন কচুকাটা করা হচ্ছে; তখনো তারা রাঁ করতে পারছে না। এমনকি ওআইসিও পারছে না যৌক্তিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।

জাতিসংঙ্গের মতো বিশ্ব সংস্থা দায়সারা বিবৃতি দিয়েই দায় সারছে! তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব মোড়লরা ব্যস্ত আরাকানের মুসলমানদের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে মিয়ানমারে নানা ধরনের ব্যবসা বাগিয়ে নিতে। মানবতার দায় থেকে আরাকানের মজলুম মানুষকে বাঁচানোর সার্বজনিন মানবাধিকার সনদ যেখানে দারুণভাবে উপেক্ষিত।

মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্দ-খ্রিস্টান যে সম্প্রদায়ই হোক না কেন, সবাই তো মানুষ। সবার রক্তই লাল। সবাই মানব জাতির অংশ। একজন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা গোটা মানব জাতিকে হত্যার শামিল। এ অবস্থায় মানুষ হত্যার মতো জঘন্য পাপাচার থেকে মিয়ানমার সরকারকে নিবৃত্ত করতে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে মানবতাবাদীদের ঐক্য সময়ের দাবি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড।

জীবনের বিনিময়ে বিশ্বমোড়লদের এ কেমন বাণিজ্য!

আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

(মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : মিয়ানমারে মানবতা কাঁদছে। আরাকানের আকাশ-বাতাস ভারী হচ্ছে নির্যাতিত মুসলমানদের আহাজারিতে। রক্তগঙ্গা বইছে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে। মুসলমানদের রক্তে হোলি খেলছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়!

বাস্তবতা হলো, মিয়ানমারের আধিবাসী আরাকানের মুসলমানরা। তারা সেখানে বসত করছে ব্রিটিশ আমল থেকে। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আরাকানের মুসলমানরা বীরোচিত ভূমিকা রাখে। তারা সেখানে একসময় প্রভাবশীল ছিল।

আশির দশকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির তালিকায় আরাকানের মুসলমানদের বাদ রাখা হয়। একক বৌদ্দ রাজ্য প্রতিষ্ঠায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের তালিকার বাইরে রাখা হয়। আর একই সঙ্গে শুরু হয় সেখান থেকে মুসলিম খেদাও কর্মসূচি। নেমে আছে নানামুখী অত্যাচার-নির্যাতন। পুড়িয়ে দিচ্ছে বসতির পর বসতি।

অকথ্য পৈশাচিক অত্যাচার-নির্যাতনের পর যারা দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে না সেসব মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। সিমারের মতো শিশুদের গলা কেটে, মেয়েদের ধর্ষণ করে আর পুরুষদের গুলি করে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। মানুষ মারার এমন নির্দয় আচরণ ভাবনারও অতীত।

মুসলিম বিশ্ব নানাভাবে বিভক্ত। আত্মকলহ চলছে তো চলছেই। একদিকে চিয়া-ছুন্নি দ্বন্দ্ব মাসলমানদের রক্ত ঝরাচ্ছে, অন্যদিকে মুসলিম দেশগুলোয় ভ্রাতৃঘাতী কর্মকাণ্ড লেগে আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অমুসলিমরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

বিশ্ব মাড়ল রাষ্ট্রগুলো পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের ঘরে কলহ সৃষ্টি করে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। দুটি পক্ষ সৃষ্টি করে উভয়কে সহযোগিতার নামে মুসলিম নিধন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছে।ফলে বহুদা বিভক্ত মুসললিম বিশ্ব নিজেদের সমস্যা সামাল দিতেই ব্যস্ত।

ভারত যখন ঘটা করে বাবড়ি মসজিদ ভাঙ্গার দিবস উদযাপন করছে, মিয়ানমারেরর আরাকান রাজ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে মুসলমানদের যখন কচুকাটা করা হচ্ছে; তখনো তারা রাঁ করতে পারছে না। এমনকি ওআইসিও পারছে না যৌক্তিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।

জাতিসংঙ্গের মতো বিশ্ব সংস্থা দায়সারা বিবৃতি দিয়েই দায় সারছে! তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব মোড়লরা ব্যস্ত আরাকানের মুসলমানদের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে মিয়ানমারে নানা ধরনের ব্যবসা বাগিয়ে নিতে। মানবতার দায় থেকে আরাকানের মজলুম মানুষকে বাঁচানোর সার্বজনিন মানবাধিকার সনদ যেখানে দারুণভাবে উপেক্ষিত।

মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্দ-খ্রিস্টান যে সম্প্রদায়ই হোক না কেন, সবাই তো মানুষ। সবার রক্তই লাল। সবাই মানব জাতির অংশ। একজন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা গোটা মানব জাতিকে হত্যার শামিল। এ অবস্থায় মানুষ হত্যার মতো জঘন্য পাপাচার থেকে মিয়ানমার সরকারকে নিবৃত্ত করতে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে মানবতাবাদীদের ঐক্য সময়ের দাবি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com