অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

নিজের কথা ভাবতে ভালো লাগে—— খান মুহাম্মদ মুরসালীন |

মাঝে মাঝে নিজের কথা ভাবতে ভালো লাগে, আয়নায় নিজেকে দেখতে ভালো লাগে। মানে জীবনের ২৮ বছরে এসে যখন পিছনে ফিরে তাকাই, তখন অনুতপ্ত হওয়ার মতো একটা কারণও খুঁজে পাই না। বিষয়টা আমাকে প্রশান্তি দেয়।

এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন আহমদ ছফা। যখন জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে প্রথমবারের মতো দেখা করে ফিরছিলেন, তখন রাজ্জাক স্যারের সমুদ্রসম গভীর দৃষ্টি তাঁর মর্মে গিয়ে বিধেছিলো। মানে কারো দৃষ্টি কি পরিমাণ গভীর হলে তিনি একটি অনুতাপ বিহীন জীবন পেতে পারেন, সেটার স্বাদ আমি আহমদ ছফার লেখায় পাই। এটা হলো আমার পড়ার উপলিব্ধ।

বাস্তব জীবনে এমন প্রখর দৃষ্টি একমাত্র সিরাজুল আলম খানের চোখে দেখেছি। সাংবাদিকতার জীবনে এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। একজন জীবন্ত ইতিহাস, যার দৃষ্টিতে বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই। অবিশ্বাস্য রকমের মানসিক স্থিরতা। চিন্তার পরিধি এতটাই গভীর, মনে হয়েছে আমি একটি প্রবীণ বটবৃক্ষের সামনে অবনত সুরে হাজির হয়েছি।

বাংলাদেশের অনেকেই এই মানুষটা সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে থাকেন। কিন্তু আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, রাজনীতি চলে না। দেশ চালাতে হলে, রাজনীতি করতে হলে সময়টাকে ধারণ করতে হয়।

সিরাজুল আলম খান ঠিক সেটিই করেছিলেন। তাঁকে বুঝতে গিয়ে প্রত্যেকবার আমি তাঁর সময়ে নিজেকে দাঁড় করিয়েছি। নইলে আমি নিশ্চিত, যে আমিও তাঁর সম্পর্কে আবেগীয় মন্তব্যই করতাম।

এগুলো জীবনের পক্ষ থেকে আমার জন্য একেকটা উপহার। একা একা পথ চলতে শিখেছি বলেই, এই উপহারগুলো জীবন আমাকে দিয়েছে। মানে যে একা চলতে পারে, একা বাঁচতে পারে তুমুল জীবনী শক্তিতে, সে সবাইকে নিয়েও বাঁচতে পারে। এবং সেটা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বহুগুণে গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন বলেই আমার বিশ্বাস।

আমি যখন মারা যাবো, তখন আমার পরিণতি কি হবে, আমি জানি না। তবে এমন একটা দৃষ্টি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত জারি রাখতে ইচ্ছা করে। একটা অনুতাপ বিহীন জীবনের চেয়ে বড় পাওয়া একজন মানুষের জন্য আর আর কি হতে পারে?

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

নিজের কথা ভাবতে ভালো লাগে—— খান মুহাম্মদ মুরসালীন |

আপডেট টাইম : ০৪:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

মাঝে মাঝে নিজের কথা ভাবতে ভালো লাগে, আয়নায় নিজেকে দেখতে ভালো লাগে। মানে জীবনের ২৮ বছরে এসে যখন পিছনে ফিরে তাকাই, তখন অনুতপ্ত হওয়ার মতো একটা কারণও খুঁজে পাই না। বিষয়টা আমাকে প্রশান্তি দেয়।

এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন আহমদ ছফা। যখন জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে প্রথমবারের মতো দেখা করে ফিরছিলেন, তখন রাজ্জাক স্যারের সমুদ্রসম গভীর দৃষ্টি তাঁর মর্মে গিয়ে বিধেছিলো। মানে কারো দৃষ্টি কি পরিমাণ গভীর হলে তিনি একটি অনুতাপ বিহীন জীবন পেতে পারেন, সেটার স্বাদ আমি আহমদ ছফার লেখায় পাই। এটা হলো আমার পড়ার উপলিব্ধ।

বাস্তব জীবনে এমন প্রখর দৃষ্টি একমাত্র সিরাজুল আলম খানের চোখে দেখেছি। সাংবাদিকতার জীবনে এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। একজন জীবন্ত ইতিহাস, যার দৃষ্টিতে বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই। অবিশ্বাস্য রকমের মানসিক স্থিরতা। চিন্তার পরিধি এতটাই গভীর, মনে হয়েছে আমি একটি প্রবীণ বটবৃক্ষের সামনে অবনত সুরে হাজির হয়েছি।

বাংলাদেশের অনেকেই এই মানুষটা সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে থাকেন। কিন্তু আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, রাজনীতি চলে না। দেশ চালাতে হলে, রাজনীতি করতে হলে সময়টাকে ধারণ করতে হয়।

সিরাজুল আলম খান ঠিক সেটিই করেছিলেন। তাঁকে বুঝতে গিয়ে প্রত্যেকবার আমি তাঁর সময়ে নিজেকে দাঁড় করিয়েছি। নইলে আমি নিশ্চিত, যে আমিও তাঁর সম্পর্কে আবেগীয় মন্তব্যই করতাম।

এগুলো জীবনের পক্ষ থেকে আমার জন্য একেকটা উপহার। একা একা পথ চলতে শিখেছি বলেই, এই উপহারগুলো জীবন আমাকে দিয়েছে। মানে যে একা চলতে পারে, একা বাঁচতে পারে তুমুল জীবনী শক্তিতে, সে সবাইকে নিয়েও বাঁচতে পারে। এবং সেটা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বহুগুণে গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন বলেই আমার বিশ্বাস।

আমি যখন মারা যাবো, তখন আমার পরিণতি কি হবে, আমি জানি না। তবে এমন একটা দৃষ্টি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত জারি রাখতে ইচ্ছা করে। একটা অনুতাপ বিহীন জীবনের চেয়ে বড় পাওয়া একজন মানুষের জন্য আর আর কি হতে পারে?