অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক Logo লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: তিনজনকে কারাদণ্ড।

রাষ্ট্রীয় শোক অবমাননা ও একাত্তর টিভির সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনায় মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা

রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তাদের ভুরিভোজের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশন (বিআরজেএ)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী এবং মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা ওয়াসার এমডির নির্দেশে ডিএমডি (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালাসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সাধারণ ছুটির দিনে অফিস করেন। তবে সেই কাজ ছিল মূলত একটি ‘ভুরিভোজ’ অনুষ্ঠান। একটি অভিজাত হোটেল থেকে ৩৫ প্যাকেট দামি খাবার আনা হয় কর্মকর্তাদের জন্য, যা শোকের আবহের মধ্যে অত্যন্ত অমানবিক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শোকের দিনে ওয়াসা ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়নি। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী কালো পতাকা উত্তোলন কিংবা শোকবার্ত সম্বলিত কোনো ব্যানার টাঙানো হয়নি। ডিএমডি ঝুমুর বালাসহ কোনো কর্মকর্তাই বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করেননি।
গণমাধ্যমকর্মীরা যখন এই শোক অবমাননা ও ভুরিভোজের সংবাদ সংগ্রহ করতে ওয়াসা অফিসের সামনে অবস্থান নেন, তখন ডিএমডি ঝুমুর বালা কালো গ্লাসের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে দ্রুত অফিস ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা তাঁর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁর সাথে থাকা লোকজন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এসময় একাত্তর টেলিভিশনের রিপোর্টারের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। কর্মকর্তাদের গাড়িটি কোনো উত্তর না দিয়েই দ্রুত গতিতে এলাকা ত্যাগ করে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুর স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। একইসাথে রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না রাখা এবং ভুরিভোজের আয়োজন করা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” বিবৃতিতে দোষী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় দেশব্যাপী সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড।

রাষ্ট্রীয় শোক অবমাননা ও একাত্তর টিভির সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনায় মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা

আপডেট টাইম : ১১:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে খুলনা ওয়াসার কর্মকর্তাদের ভুরিভোজের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশন (বিআরজেএ)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী এবং মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা ওয়াসার এমডির নির্দেশে ডিএমডি (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালাসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সাধারণ ছুটির দিনে অফিস করেন। তবে সেই কাজ ছিল মূলত একটি ‘ভুরিভোজ’ অনুষ্ঠান। একটি অভিজাত হোটেল থেকে ৩৫ প্যাকেট দামি খাবার আনা হয় কর্মকর্তাদের জন্য, যা শোকের আবহের মধ্যে অত্যন্ত অমানবিক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শোকের দিনে ওয়াসা ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়নি। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী কালো পতাকা উত্তোলন কিংবা শোকবার্ত সম্বলিত কোনো ব্যানার টাঙানো হয়নি। ডিএমডি ঝুমুর বালাসহ কোনো কর্মকর্তাই বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করেননি।
গণমাধ্যমকর্মীরা যখন এই শোক অবমাননা ও ভুরিভোজের সংবাদ সংগ্রহ করতে ওয়াসা অফিসের সামনে অবস্থান নেন, তখন ডিএমডি ঝুমুর বালা কালো গ্লাসের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে দ্রুত অফিস ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা তাঁর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁর সাথে থাকা লোকজন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এসময় একাত্তর টেলিভিশনের রিপোর্টারের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। কর্মকর্তাদের গাড়িটি কোনো উত্তর না দিয়েই দ্রুত গতিতে এলাকা ত্যাগ করে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুর স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। একইসাথে রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না রাখা এবং ভুরিভোজের আয়োজন করা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” বিবৃতিতে দোষী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় দেশব্যাপী সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।