পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo হাতীবান্ধায় সমন্বিত শ্রেণিপাঠদান পরিকল্পনা নিয়ে ইউএনও’র মতবিনিময় Logo পাটগ্রামে খাসজমি বন্দোবস্তে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের Logo খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর ২৯ টি ফ্ল্যাট! রাজধানীজুড়ে সম্পদের পাহাড় Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযান,৪ ভারতীয় গরু আটক Logo জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo রূপগঞ্জে ভূমিদস্যুতা বন্ধ ও খাল উদ্ধারে ১০ গ্রামের সভা ও ঝাড়ু মিছিল Logo পুলিশের ইউনিফর্ম পরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে বিআরটিএ’তে যুবক আটক Logo পাটগ্রামে দবীর উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০ রোগীকে আর্থিক সহায়তা Logo চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়, চার পুলিশ প্রত্যাহার

পাটগ্রামে খাসজমি বন্দোবস্তে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

  • মো:রশিদুল ইসলাম
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৭২ বার

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার কথা বলে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ছক্কর আলী ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজেদের সরকারের লোক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীন পরিবারগুলোর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার পরও তাদের নামে খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, ছক্কর আলী ও তাঁর সহযোগীরা স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত ও কবুলিয়ত করে নিয়েছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে খাসজমিতে বসবাসকারী প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও তারা প্রতিকার পাননি।
অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া জমির কবুলিয়ত বাতিল এবং ছক্কর আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন একাধিক ভূমিহীন পরিবার। ভূমিহীন কৃষকদের বসতবাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ভূমিহীন পরিবারের কৃষাণী ও গৃহিণী ফরিদা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ঝালঙ্গী গ্রামের ওই খাসজমিতে ভূমিহীন পরিবারগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। জমি বন্দোবস্তের জন্য তারা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে একাধিকবার আবেদন করেন। কিন্তু প্রতিবারই তাদের আবেদনপত্র গায়েব হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালঙ্গী এলাকায় ১১ দশমিক ৩৭ একর জমির মালিক ছিলেন বানীকান্ত নিয়োগী, বরদাকান্ত নিয়োগী, সিতিকান্ত, মহেশকান্ত, হেমকান্ত ও যামিনীকান্ত।
তাঁরা সপরিবারে নিরুদ্দেশ থাকায় এবং কোনো ওয়ারিশ না থাকায় জমিগুলো পতিত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে জমিগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খাসজমিভুক্ত করে ও সরকার ২২টি ভূমিহীন পরিবারকে প্রথমে এক মেয়াদে ওই জমি লিজ দেয়। বর্তমানে সেখানে সরকারি গুচ্ছগ্রামের ঘরে প্রায় ৩০টি পরিবার বসবাস করছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভূমিহীনদের দাবি, ২০০৮ সালে খাসজমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য তারা একই এলাকার ছক্কর আলীকে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা ভূমি কার্যালয়ে যোগাযোগের দায়িত্ব দেন।
ছক্কর আলী জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাদের নামে জমি বন্দোবস্ত না করে ভূমি কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ওই জমির কবুলিয়ত নিজেদের নামে করে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ছক্কর আলীর মা কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাটের আয়শা বেগম, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বেলেরবাড়ি গ্রামের ভাতিজি জামাই আব্দুর রশিদ, ভগ্নিপতি সুরুজ, ভাগনে তোতা ও তাঁর ভাইয়ের নামে ৫০ শতক করে জমির কবুলিয়ত করা হয়েছে। এরপর থেকে ভূমিহীন পরিবারগুলোর বসতভিটা ও ফসলি জমি দখলের চেষ্টা এবং আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
অভিযোগের বিষয়ে ছক্কর আলী আত্মীয়-স্বজনের নামে জমির কবুলিয়তের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে টাকা নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেয়নি বা প্রতারণাও করিনি। ওই পরিবারগুলো সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সরকার আমাকে দায়িত্ব দেওয়ায় মামলা মোকাবিলা করেছি। এ কারণে সরকার আমাদের নামে খাসজমি কবুলিয়ত করে দিয়েছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সরকারি লোক সেজে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। মাঠপর্যায়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাতীবান্ধায় সমন্বিত শ্রেণিপাঠদান পরিকল্পনা নিয়ে ইউএনও’র মতবিনিময়

পাটগ্রামে খাসজমি বন্দোবস্তে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

আপডেট টাইম : ০৫:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার কথা বলে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ছক্কর আলী ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজেদের সরকারের লোক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীন পরিবারগুলোর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার পরও তাদের নামে খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, ছক্কর আলী ও তাঁর সহযোগীরা স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত ও কবুলিয়ত করে নিয়েছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে খাসজমিতে বসবাসকারী প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও তারা প্রতিকার পাননি।
অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া জমির কবুলিয়ত বাতিল এবং ছক্কর আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন একাধিক ভূমিহীন পরিবার। ভূমিহীন কৃষকদের বসতবাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ভূমিহীন পরিবারের কৃষাণী ও গৃহিণী ফরিদা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ঝালঙ্গী গ্রামের ওই খাসজমিতে ভূমিহীন পরিবারগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। জমি বন্দোবস্তের জন্য তারা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে একাধিকবার আবেদন করেন। কিন্তু প্রতিবারই তাদের আবেদনপত্র গায়েব হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালঙ্গী এলাকায় ১১ দশমিক ৩৭ একর জমির মালিক ছিলেন বানীকান্ত নিয়োগী, বরদাকান্ত নিয়োগী, সিতিকান্ত, মহেশকান্ত, হেমকান্ত ও যামিনীকান্ত।
তাঁরা সপরিবারে নিরুদ্দেশ থাকায় এবং কোনো ওয়ারিশ না থাকায় জমিগুলো পতিত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে জমিগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খাসজমিভুক্ত করে ও সরকার ২২টি ভূমিহীন পরিবারকে প্রথমে এক মেয়াদে ওই জমি লিজ দেয়। বর্তমানে সেখানে সরকারি গুচ্ছগ্রামের ঘরে প্রায় ৩০টি পরিবার বসবাস করছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভূমিহীনদের দাবি, ২০০৮ সালে খাসজমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য তারা একই এলাকার ছক্কর আলীকে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা ভূমি কার্যালয়ে যোগাযোগের দায়িত্ব দেন।
ছক্কর আলী জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাদের নামে জমি বন্দোবস্ত না করে ভূমি কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ওই জমির কবুলিয়ত নিজেদের নামে করে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ছক্কর আলীর মা কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাটের আয়শা বেগম, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বেলেরবাড়ি গ্রামের ভাতিজি জামাই আব্দুর রশিদ, ভগ্নিপতি সুরুজ, ভাগনে তোতা ও তাঁর ভাইয়ের নামে ৫০ শতক করে জমির কবুলিয়ত করা হয়েছে। এরপর থেকে ভূমিহীন পরিবারগুলোর বসতভিটা ও ফসলি জমি দখলের চেষ্টা এবং আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
অভিযোগের বিষয়ে ছক্কর আলী আত্মীয়-স্বজনের নামে জমির কবুলিয়তের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে টাকা নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেয়নি বা প্রতারণাও করিনি। ওই পরিবারগুলো সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সরকার আমাকে দায়িত্ব দেওয়ায় মামলা মোকাবিলা করেছি। এ কারণে সরকার আমাদের নামে খাসজমি কবুলিয়ত করে দিয়েছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সরকারি লোক সেজে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। মাঠপর্যায়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।