পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বাসভবনে ঢুকে হামলা, ঢাকায় আনা হয়েছে ইউএনও ওয়াহিদাকে!

ডেস্ক: দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হবে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

এর আগে রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ওয়াহিদা খানমের অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে দেবে যাওয়ায় ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। এছাড়া মাথার পানি গহ্বরে রক্তক্ষরণ হয়েছে৷ অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার নিরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী নওগাঁ থেকে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ওয়াহিদার স্বামী মেজবাহুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার বাবার ওপর সন্ত্রাসীর হামলার খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ জানায়, রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে দৃর্বৃত্তরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ইউএনও’র বাসার নাইটগার্ডকে বেঁধে রেখে পেছন দিকের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। কিছু বুঝার আগেই দৃর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবা উমরকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে তারা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দৃর্বৃত্তরা চলে যায়।

সকাল ৭টার দিকে ইউএনও’র বাবার জ্ঞান ফিরলে লোকজনকে ডাকাডাকি করেন। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ওমর আলী পুলিশকে বলেছেন, রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে কেউ একজন বাসায় ঢোকে। ওয়াহিদা খানম টের পেয়ে এগিয়ে গেল তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় ওমর আলী এগিয়ে গেলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হামলাকারী পালিয়ে যায়।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই বাসা থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। এটি ডাকাতির চেষ্টা, না ‘আক্রোশ’ থেকে কেউ হামলা করেছে, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বাসভবনে ঢুকে হামলা, ঢাকায় আনা হয়েছে ইউএনও ওয়াহিদাকে!

আপডেট টাইম : ১১:০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ডেস্ক: দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হবে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

এর আগে রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ওয়াহিদা খানমের অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠান চিকিৎসকরা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে দেবে যাওয়ায় ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। এছাড়া মাথার পানি গহ্বরে রক্তক্ষরণ হয়েছে৷ অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার নিরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী নওগাঁ থেকে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ওয়াহিদার স্বামী মেজবাহুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার বাবার ওপর সন্ত্রাসীর হামলার খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ জানায়, রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে দৃর্বৃত্তরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ইউএনও’র বাসার নাইটগার্ডকে বেঁধে রেখে পেছন দিকের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। কিছু বুঝার আগেই দৃর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবা উমরকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে তারা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দৃর্বৃত্তরা চলে যায়।

সকাল ৭টার দিকে ইউএনও’র বাবার জ্ঞান ফিরলে লোকজনকে ডাকাডাকি করেন। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ওমর আলী পুলিশকে বলেছেন, রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে কেউ একজন বাসায় ঢোকে। ওয়াহিদা খানম টের পেয়ে এগিয়ে গেল তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় ওমর আলী এগিয়ে গেলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হামলাকারী পালিয়ে যায়।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই বাসা থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। এটি ডাকাতির চেষ্টা, না ‘আক্রোশ’ থেকে কেউ হামলা করেছে, সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।