
ডেস্ক: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ। ২০২৪ সালের এই দিনে দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থান। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই বিজয় আজ স্মরণ করছে গোটা দেশ।
এই দিনটি পরবর্তীকালে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিতি পায়। দিবসটি পালনে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করা হবে দিবসটি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচি
আজ দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জানানো হয়, সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদপরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে। এতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দেশের সব জেলায়ও শহীদপরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোয় জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা এবং রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোয় থাকবে নানা আয়োজন। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় একই দিনে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সজ্জিত করার নির্দেশনা রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
এদিন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা আছে। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোয় থাকবে প্রীতিভোজের আয়োজন।
এনসিপির কনসার্ট
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক কনসার্ট। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্স। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করবেন ব্যান্ড পারসা, কুঁড়েঘর, আর্বোভাইরাস, এভয়েড রাফা, শিরোনামহীন, আর্ক (হাসান) ও আর্টসেল। এছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করবেন সেজান ও আসিফ আকবর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি থাকবেন হুইপ নূর-ই-আলম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
জামায়াতের কর্মসূচি
জামায়াতে ইসলামী সকালে পল্টনে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে সমাবেশ করবে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় আয়োজনের সঙ্গে সংগতি রেখে সারা দেশে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। দলটির মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন ও জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের উদ্যোগেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানানো হয়।
যুক্তফ্রন্টের আলোচনা সভা
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে বিকাল ৪টায় তোপখানা সড়কের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ৭ আগস্ট বিকাল ৫টায় মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে (৭ম তলা) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 















