
নিজস্ব সংবাদদাতা:
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দুই সন্তানের জননী শিরিন আক্তার শীলা (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শাহীন মিয়া তুষারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও তার বাবা-মা পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ শাহীনের বসতবাড়ি থেকে শিরিনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত শিরিন আক্তার শীলা পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী এলাকার সহিদার রহমানের ছেলে শাহীন মিয়া তুষারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার বিকেলে খেলা দেখতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শিরিনের সঙ্গে তার স্বামী শাহীনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহীন শিরিনের গলা টিপে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে শাহীন স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসক ও অটোরিকশাচালককে ডেকে শিরিন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানান। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারলে শাহীনের পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিরিনের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহীনের কয়েকজন প্রতিবেশী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শিরিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “গলা টিপে ধরার আলামত পাওয়া গেছে। গৃহবধূর গলা ফুলে গেছে এবং ডান হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে সন্দেহ হয়, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মো:রশিদুল ইসলাম 




















