পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় Logo লালমনিরহাটে নিরাপদ সড়ক গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo লালমনিরহাট মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর সম্ভাবনায়- পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী Logo বুড়িমারীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে এলাকাবাসী Logo হাতীবান্ধা সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে এস্কাপ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ Logo লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু Logo চলন্ত বাসে জন্ম, আজীবন বিনামূল্যে যাতায়াতের উপহার পেল শিশু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় চুইঝাল জব্দ Logo পাটগ্রামে ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৭ Logo হেলাল হোসেন কবির : সাংবাদিকতা ও কাব্যচর্চার দ্বৈত পরিচয়

৫০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন

ঢাকা: ৫০০ কোটি টাকা ঘাটতিতে থাকা ঢাকা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে সরকারের কাছে আরো ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সড়ক অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জোরদার, মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সেবা, খেলার মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজট নিয়ন্ত্রণসহ অবশ্যকীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনি আর্থিক এ সহায়তা চেয়েছেন। নগরভবনের বিশ্বস্ত সূত্র বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মে মাসের পর থেকেই অর্থ সঙ্কট শুরু হয় সংস্থাটিতে। ক্রমাগত আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়তে থাকে ঘাটতি। বতর্মানে সংস্থাটির কাছে ঠিকাদারদের দেনা রয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, তেল ও অন্যান্য বিল বাবদ আরো ২০০ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। সব মিলে ৫০০ কোটি টাকার দেনা নিয়েই নগরভবনে যোগ দিয়েছেন নবনির্বাচিত মেয়র সাঈদ খোকন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো ওই ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) লেটারে মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আর্থিক সঙ্কট, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিদ্যমান অর্থিক সঙ্কটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নির্বাচনী ইশতেহার পূরণসহ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন ভাগ করার পর থেকে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করপোরেশনের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৯ শত ৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ কেবল সংস্থার পরিচালনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৫৫৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ করপোরেশন পরিচালনা বাবদ ব্যয় হয়ে যায়। সঙ্গত কারণে সামান্য উদ্বৃত্ত রাজস্ব দিয়ে নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাছাড়া ওই সময়ের মধ্যে নগরীর রাস্তা ঘাট, ফুটপাত, রাস্তার বিদ্যুতায়ন, বাস ট্রকা টার্মিনালসহ সড়ক অবকাঠামো এবং কমিউনিটি সেন্টার কবরস্থান শ্মশানঘাট সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রমে নিজস্ব উৎস হতে কমপক্ষে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব কারণে প্রতিদিন দায়দেনা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় যাবৎ পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন হয়নি।

এ অবস্থায় নগরীকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন গড়ে তোলতে সড়ক অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জোরদার, মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সেবার, খেলার মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজট নিয়ন্ত্রণসহ অবশ্যকীয় কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাতে নেয়া প্রয়োজন। বর্ণিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন সরকার হতে আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করবে।

করপোরেশনের অর্থিক সংকট মোকাবেলা ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়নে চলতি অর্থ বছরে বিশেষ থোক বরাদ্দ হিসেবে ৫শত কোটি টাকার চেয়েছেন তিনি।

এর আগে সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। এর মধ্যেও নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আমি বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানসহ বিত্তবানদের কাছে গিয়েছি। তারা সবাই আমাকে সহায়তা করতে আগ্রহী। কেউ কেউ নগরীর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Tag :

পাটগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়

৫০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন

আপডেট টাইম : ০৮:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০১৫

ঢাকা: ৫০০ কোটি টাকা ঘাটতিতে থাকা ঢাকা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে সরকারের কাছে আরো ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সড়ক অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জোরদার, মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সেবা, খেলার মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজট নিয়ন্ত্রণসহ অবশ্যকীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনি আর্থিক এ সহায়তা চেয়েছেন। নগরভবনের বিশ্বস্ত সূত্র বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মে মাসের পর থেকেই অর্থ সঙ্কট শুরু হয় সংস্থাটিতে। ক্রমাগত আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়তে থাকে ঘাটতি। বতর্মানে সংস্থাটির কাছে ঠিকাদারদের দেনা রয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, তেল ও অন্যান্য বিল বাবদ আরো ২০০ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। সব মিলে ৫০০ কোটি টাকার দেনা নিয়েই নগরভবনে যোগ দিয়েছেন নবনির্বাচিত মেয়র সাঈদ খোকন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো ওই ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) লেটারে মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আর্থিক সঙ্কট, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিদ্যমান অর্থিক সঙ্কটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নির্বাচনী ইশতেহার পূরণসহ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন ভাগ করার পর থেকে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করপোরেশনের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৯ শত ৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ কেবল সংস্থার পরিচালনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৫৫৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ করপোরেশন পরিচালনা বাবদ ব্যয় হয়ে যায়। সঙ্গত কারণে সামান্য উদ্বৃত্ত রাজস্ব দিয়ে নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তাছাড়া ওই সময়ের মধ্যে নগরীর রাস্তা ঘাট, ফুটপাত, রাস্তার বিদ্যুতায়ন, বাস ট্রকা টার্মিনালসহ সড়ক অবকাঠামো এবং কমিউনিটি সেন্টার কবরস্থান শ্মশানঘাট সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রমে নিজস্ব উৎস হতে কমপক্ষে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব কারণে প্রতিদিন দায়দেনা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় যাবৎ পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন হয়নি।

এ অবস্থায় নগরীকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন গড়ে তোলতে সড়ক অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জোরদার, মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সেবার, খেলার মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজট নিয়ন্ত্রণসহ অবশ্যকীয় কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাতে নেয়া প্রয়োজন। বর্ণিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন সরকার হতে আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করবে।

করপোরেশনের অর্থিক সংকট মোকাবেলা ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়নে চলতি অর্থ বছরে বিশেষ থোক বরাদ্দ হিসেবে ৫শত কোটি টাকার চেয়েছেন তিনি।

এর আগে সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। এর মধ্যেও নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আমি বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানসহ বিত্তবানদের কাছে গিয়েছি। তারা সবাই আমাকে সহায়তা করতে আগ্রহী। কেউ কেউ নগরীর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।