অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

‘জেএসসি-পিএসসি বন্ধ হলে ঝরে যাবে অর্ধেক শিক্ষার্থী’

ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘অনেকে জেএসসি-পিএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে বলছেন। তারা বলছেন, এতে নাকি তাদের বাচ্চাদের কোচিংয়ে পাঠাতে হয়। কিন্তু এ পরীক্ষা দু’টি বন্ধ হয়ে গেলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। তখন দেখা যাবে আরেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’

‘‘আর তখন এ বিরোধিতাকারীরাই বলবেন, ‘আমরা বলছি ঠিক আছে, কিন্তু আপনি বন্ধ করলেন কেন?’ আসলে আমরা আপনাদের নিয়েই চলতে চাই। একদিন এমনও হতে পারে যে, এটি উঠে যাবে,’’ বলেন তিনি।

রাজধানীর পলাশীতে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ভবনে রোববার ‘সবার জন্য শিক্ষক’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে কেবল ২০ ভাগ শিক্ষার্থীর কথা ভাবলে হবে না। আরও ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী আছে। তাদের কথাও চিন্তা করতে হবে। আগে বার্ষিক ও বৃত্তি পরীক্ষার কারণে দু’টি পরীক্ষা দিতে হতো। কিন্তু এখন একটি পরীক্ষা দিতে হয়। আগে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ২০ ভাগ শিক্ষার্থীকে পড়ানো হতো, কিন্তু ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীই বঞ্চিত হতো।’

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘যারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দিবেন, যারা পরীক্ষার বিরোধিতা করছেন তাদের বলছি, আপনার সন্তানকে কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন কেন? এ পরীক্ষার জন্য কোচিংয়ে পাঠানোর দরকার নেই। আর এটি পাবলিক পরীক্ষাও না। কিন্তু এ দু’টি পরীক্ষার জন্য গরীব শিক্ষার্থীরা লেগে থাকে। তারা ফাইভ পাস করলে ভাবে, আমারও একটি সার্টিফিকেট আছে। সে এইট পর্যন্ত পড়ে আরেকটি সার্টিফিকেট অর্জন করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একসময় শিক্ষাকে মানুষ গুরুত্ব দিত না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতো না। মানুষ সন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতো। কিন্তু এখন যারা অনেক গরীব তারাও তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এই যে পরিবর্তন, এই যে জাতিকে শিক্ষামুখী করতে পারা, সে পরিবশে তৈরি করতে পারা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’

‘ক্লাসরুম সংকটসহ অনেক সমস্যা রয়েছে আমাদের। এর কারণ এখন শিক্ষায় ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। একে আমি পজিটিভ সমস্যা হিসেবে দেখি। এ সবও দূর করার চেষ্টা চলছে’ যোগ করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা ১০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীকে বাস্তবভিত্তিক কারিগরি শিক্ষায় আনতে পেরেছি। ২০২০ সালের মধ্যে এ হার ২০ ভাগ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগে অটিস্টিক, প্রতিবন্ধী শিশুদের কথা ভাবা হতো না, এখন তাদের শিক্ষায় আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনে এখন জায়গা রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের জন্য লিফট চালু করা যায়।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে এখন মেয়েদের হার ছেলেদের চেয়ে বেশি। কিন্তু অগ্রগতিটা থেমে যাচ্ছে এসএসসির পর। মেয়েদের দূরের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়তে সমস্যা হচ্ছে। তারা পড়া ছেড়ে দিচ্ছে। এ ঝরে পড়া কিভাবে কমানো যায় সে চেষ্টা চলছে। আশা করছি, আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে মেয়েরা উচ্চশিক্ষায়ও ছেলেদের ছাড়িয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আছে অনেক। সেগুলো কাটাতে কাজ করছি। তবে কোয়ানটিটির দিক থেকে আমাদের অগ্রগতি যুগান্তকারী। এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কোয়ালিটি নিশ্চিত করা, কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করা। সে চেষ্টা চলছে।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

‘জেএসসি-পিএসসি বন্ধ হলে ঝরে যাবে অর্ধেক শিক্ষার্থী’

আপডেট টাইম : ০৫:২১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৫

ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘অনেকে জেএসসি-পিএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে বলছেন। তারা বলছেন, এতে নাকি তাদের বাচ্চাদের কোচিংয়ে পাঠাতে হয়। কিন্তু এ পরীক্ষা দু’টি বন্ধ হয়ে গেলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। তখন দেখা যাবে আরেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’

‘‘আর তখন এ বিরোধিতাকারীরাই বলবেন, ‘আমরা বলছি ঠিক আছে, কিন্তু আপনি বন্ধ করলেন কেন?’ আসলে আমরা আপনাদের নিয়েই চলতে চাই। একদিন এমনও হতে পারে যে, এটি উঠে যাবে,’’ বলেন তিনি।

রাজধানীর পলাশীতে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ভবনে রোববার ‘সবার জন্য শিক্ষক’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে কেবল ২০ ভাগ শিক্ষার্থীর কথা ভাবলে হবে না। আরও ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী আছে। তাদের কথাও চিন্তা করতে হবে। আগে বার্ষিক ও বৃত্তি পরীক্ষার কারণে দু’টি পরীক্ষা দিতে হতো। কিন্তু এখন একটি পরীক্ষা দিতে হয়। আগে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ২০ ভাগ শিক্ষার্থীকে পড়ানো হতো, কিন্তু ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীই বঞ্চিত হতো।’

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘যারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দিবেন, যারা পরীক্ষার বিরোধিতা করছেন তাদের বলছি, আপনার সন্তানকে কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন কেন? এ পরীক্ষার জন্য কোচিংয়ে পাঠানোর দরকার নেই। আর এটি পাবলিক পরীক্ষাও না। কিন্তু এ দু’টি পরীক্ষার জন্য গরীব শিক্ষার্থীরা লেগে থাকে। তারা ফাইভ পাস করলে ভাবে, আমারও একটি সার্টিফিকেট আছে। সে এইট পর্যন্ত পড়ে আরেকটি সার্টিফিকেট অর্জন করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একসময় শিক্ষাকে মানুষ গুরুত্ব দিত না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতো না। মানুষ সন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতো। কিন্তু এখন যারা অনেক গরীব তারাও তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এই যে পরিবর্তন, এই যে জাতিকে শিক্ষামুখী করতে পারা, সে পরিবশে তৈরি করতে পারা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’

‘ক্লাসরুম সংকটসহ অনেক সমস্যা রয়েছে আমাদের। এর কারণ এখন শিক্ষায় ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। একে আমি পজিটিভ সমস্যা হিসেবে দেখি। এ সবও দূর করার চেষ্টা চলছে’ যোগ করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা ১০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীকে বাস্তবভিত্তিক কারিগরি শিক্ষায় আনতে পেরেছি। ২০২০ সালের মধ্যে এ হার ২০ ভাগ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগে অটিস্টিক, প্রতিবন্ধী শিশুদের কথা ভাবা হতো না, এখন তাদের শিক্ষায় আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনে এখন জায়গা রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের জন্য লিফট চালু করা যায়।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে এখন মেয়েদের হার ছেলেদের চেয়ে বেশি। কিন্তু অগ্রগতিটা থেমে যাচ্ছে এসএসসির পর। মেয়েদের দূরের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়তে সমস্যা হচ্ছে। তারা পড়া ছেড়ে দিচ্ছে। এ ঝরে পড়া কিভাবে কমানো যায় সে চেষ্টা চলছে। আশা করছি, আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে মেয়েরা উচ্চশিক্ষায়ও ছেলেদের ছাড়িয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আছে অনেক। সেগুলো কাটাতে কাজ করছি। তবে কোয়ানটিটির দিক থেকে আমাদের অগ্রগতি যুগান্তকারী। এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কোয়ালিটি নিশ্চিত করা, কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করা। সে চেষ্টা চলছে।’