অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

দুই যুগেরও বেশি সময় বন্ধ চবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তন

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অযত্নে অবহেলায় বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তন। এক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মীদের উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এ মিলনায়তন এখন অনেকটা ধ্বংসের পথে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নজরকাড়া এ স্থাপত্যটি হারাতে বসেছে তার আপন সৌন্দর্য। ঝড় বৃষ্টিতে খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। কোটি টাকা খরচ করে একসময় যেসব আসবাবপত্র কেনা হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরিই নষ্ট। সেখানে নিরাপদ বাসা বেঁধেছে পোকা মাকড়।

সম্প্রতি জাগো নিউজের চবি প্রতিনিধি আবদুল্লাহ রাকিবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মিলনায়তনটির জীর্ণতার তথ্য সম্বলিত দৃশ্য। ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়েছে ৫০০ ফুট লম্বা গ্যালারির প্লাটফর্ম এবং ২০০ ফুট লম্বা মূল মঞ্চ। তাছাড়া কার্যকারিতা হারিয়েছে মিলনায়তনের শব্দ নিরোধক ব্যবস্থাও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় মিলনায়তনটি। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে নিহত ছাত্র মোজাম্মেলের নামে এটির নামকরণ করা হয় `মোজাম্মেল মিলনায়তন`। প্রায় ১২০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ মিলনায়তনটি ১৯৯০ সালের পর আর সংস্কার করা হয়নি।

প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, মিলনায়তনটি সংস্কারের লক্ষ্যে কমিটি গঠিত হলেও, তা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কমিটি জমা দিতে পারেনি কোনো প্রতিবেদন। বিগত বছরগুলোতে ফাইল চালাচালি ও নানা কমিটি-উপকমিটি গঠনের মধ্যে দিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল এর সংস্কার কার্যক্রম।

মিলনায়তনকে উপযোগী করতে ২০০৩ সালে ৬৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে এসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২৬ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে প্রকল্পটিতে কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে অধ্যাপক মোস্তাইন বিল্লাহকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও সে কমিটি এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

অনেকটা ক্ষোভের সুরেই সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অনুরাধা অংকিতা জানান, সাংস্কৃতিক দিক থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক পিছিয়ে চবি। এরসঙ্গে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এতে সংস্কৃতিবিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মিলনায়তন না থাকার কারণে অনুষদের মিলনায়তনেই করতে হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু জানান, দীর্ঘকাল ধরে মৌলবাদীদের তীর্থস্থান ছিল এ ক্যাম্পাস। দুঃখের বিষয় পরবর্তীতে প্রশাসন এটি চালু না করায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। আশা করি প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. কামরুল হুদার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে জাগো নিউজের এ প্রতিনিধি। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক সাঈদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন এ বিষয়টি ঝুলে আছে। যার কারণে নতুন করেও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামনে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

দুই যুগেরও বেশি সময় বন্ধ চবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তন

আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০১৬

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অযত্নে অবহেলায় বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তন। এক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মীদের উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এ মিলনায়তন এখন অনেকটা ধ্বংসের পথে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নজরকাড়া এ স্থাপত্যটি হারাতে বসেছে তার আপন সৌন্দর্য। ঝড় বৃষ্টিতে খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। কোটি টাকা খরচ করে একসময় যেসব আসবাবপত্র কেনা হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরিই নষ্ট। সেখানে নিরাপদ বাসা বেঁধেছে পোকা মাকড়।

সম্প্রতি জাগো নিউজের চবি প্রতিনিধি আবদুল্লাহ রাকিবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মিলনায়তনটির জীর্ণতার তথ্য সম্বলিত দৃশ্য। ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়েছে ৫০০ ফুট লম্বা গ্যালারির প্লাটফর্ম এবং ২০০ ফুট লম্বা মূল মঞ্চ। তাছাড়া কার্যকারিতা হারিয়েছে মিলনায়তনের শব্দ নিরোধক ব্যবস্থাও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় মিলনায়তনটি। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে নিহত ছাত্র মোজাম্মেলের নামে এটির নামকরণ করা হয় `মোজাম্মেল মিলনায়তন`। প্রায় ১২০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ মিলনায়তনটি ১৯৯০ সালের পর আর সংস্কার করা হয়নি।

প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, মিলনায়তনটি সংস্কারের লক্ষ্যে কমিটি গঠিত হলেও, তা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কমিটি জমা দিতে পারেনি কোনো প্রতিবেদন। বিগত বছরগুলোতে ফাইল চালাচালি ও নানা কমিটি-উপকমিটি গঠনের মধ্যে দিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল এর সংস্কার কার্যক্রম।

মিলনায়তনকে উপযোগী করতে ২০০৩ সালে ৬৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে এসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২৬ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে প্রকল্পটিতে কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে অধ্যাপক মোস্তাইন বিল্লাহকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও সে কমিটি এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

অনেকটা ক্ষোভের সুরেই সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অনুরাধা অংকিতা জানান, সাংস্কৃতিক দিক থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক পিছিয়ে চবি। এরসঙ্গে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এতে সংস্কৃতিবিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মিলনায়তন না থাকার কারণে অনুষদের মিলনায়তনেই করতে হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু জানান, দীর্ঘকাল ধরে মৌলবাদীদের তীর্থস্থান ছিল এ ক্যাম্পাস। দুঃখের বিষয় পরবর্তীতে প্রশাসন এটি চালু না করায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। আশা করি প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. কামরুল হুদার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে জাগো নিউজের এ প্রতিনিধি। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক সাঈদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন এ বিষয়টি ঝুলে আছে। যার কারণে নতুন করেও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামনে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।