পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

ক্ষমা কোরো মা-জননী সুরাইয়া

(মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আমাদের ক্ষমা কোরো মা-জননী সুরাইয়া। শত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তোমাকে নিরাপত্তা দিতে পারিনি আমরা, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। ফলে আলোকিত মানুষ হওয়ার দ্বার তোমাকে ঘাতকের দ্বারা না-ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

আমরা দুঃখিত, যারপরনাই ব্যথিত। তোমার মতো কেবলই শিক্ষানুরাগী একজন ছাত্রীর নিরাপত্তার গ্যারান্টি আমরা দিতে পারেনি। রাজধানীতে প্রকাশ্যে ঘাতকের অস্ত্রাঘাতে জীবনপ্রদীপ নিভে যায় সুরাইয়া আক্তার রিশার মতো এক জ্ঞান-পিপাসুর।

মাজননী সুরাইয়া, সঠিকপথে থাকায় বখাটে তার কুশিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সে সামাজিক কীট হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মানুষ তাকে ধিক্কার দিচ্ছে আর দিবে। আর বর্তমান নষ্ট-ভ্রষ্ট সমাজে বাস করেও তুমি তার ফাঁদে পা না দিয়ে যে আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতার বীজ বপন করে গেছে, তাতে তুমিই জিতেছ এবং তোমাকে মানুষ এ জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

দর্জি তোমাকে শতরকম উত্যক্ত করা সত্ত্বেও তুমি তাতে সাড়া না দিয়ে আরাধ্য কর্ম পড়াশোনায় রত ছিলে। বখাটের ফাঁদে পা না দিয়ে আদর্শ শিক্ষার্থী এবং মা-বাবাসহ পারিবারিক মান-মর্যাদাকে উন্নীত করেছে। ছাত্র নং অধ্যয়নও তপঃ যে কাজটা তোমার, তুমি সেটাই শতভাগ করেছে। তোমার এই আদর্শ, এই সমাজ মনে রাখবে ততদিন; যতদিন সমাজে প্রকৃত শিক্ষানুরাগিরা থাকবে।

আমরা যার কথা বলছি এবং জন্য গর্ভবোধ করছি, সে আর কেউ নয় রাজধানীর ইউলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা। প্রেম নিবেদনে সাড়া না পেয়ে স্কুলের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করে এক পাষণ্ড দর্জি। ২৮ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত আদর্শ শিক্ষার্থী সুরাইয়ার ঘাতক দর্জিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান মিডিয়াকে নিশ্চিত করেন। তার আশ্বাসে সুরাইয়ার সহপাঠীরা ২৯ আগস্ট কাকরাইল থেকে তাদের অবরোধ উঠিয়ে নেয়।

নিহত সুরাইয়ার বাবা-মা স্কুলে উপস্থিত হয়ে মেয়ের জন্য আর্তনাদ শুরু করলে ইউলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিভাবকরাও তাতে শামিল হন। বাদ যাননি নীতিবান শিক্ষকরাও। শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ঘাতককে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গগনবিদারি স্লোগান তোলে রাজপথে নামে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

ঘটনার ছয়দিন পরও ঘাতক গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। এর মধ্যে ঘাতক দর্জিকে গ্রেফতার করা না হলে তারা রাস্তায় নামবে। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির প্রতি একাত্ব অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এক ও অভিন্ন অবস্থান সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীর।

ঘাতক দর্জি একজন সুরাইয়ার জীবন প্রদীপ কেড়ে নেয়নি। তার বখাটেপনার ফলে একটি ফুল ঝরে গেল আমাদের মাঝ থেকে। বলা যায় ফুল হয়ে ফোটার আগেই আমাদের সামাজিক অধঃপতনের কুফল পতিত হলো এই শিক্ষার্থীর উপর। কন্যা-জায়া-জননী যেভাবেই আমরা বলি না কেন, মায়ের জাতির জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষায় এই সমাজকে আরো যত্নবান হওয়া জরুরি।

জীবন দিয়ে সুরাইয়া আমাদের যে শিক্ষাটা দিয়ে গেছে, সেটা হলো সামাজিক নিরাপত্তার অভাব প্রকট। খোদ রাজধানীর হার্টে দিনেদুপুরে ঘাতক একটি স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে বীরদর্পে চলে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা কতটা বেহাল, তা ভাবতে হবে দায়িত্বশলদের। আমরা আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে চাই না।

নারী শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হোক। লেখাপড়া করতে এসে লাশ হয়ে ঘরে ফেরা আর কত! মায়ের বুক খালি করার এমন সামাজিক বাস্তবতা কারো কাম্য নয়। নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা এবং ছুটির পর আশপাশে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণ সময়ের দাবি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

ক্ষমা কোরো মা-জননী সুরাইয়া

আপডেট টাইম : ০৪:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৬

(মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : আমাদের ক্ষমা কোরো মা-জননী সুরাইয়া। শত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তোমাকে নিরাপত্তা দিতে পারিনি আমরা, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। ফলে আলোকিত মানুষ হওয়ার দ্বার তোমাকে ঘাতকের দ্বারা না-ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

আমরা দুঃখিত, যারপরনাই ব্যথিত। তোমার মতো কেবলই শিক্ষানুরাগী একজন ছাত্রীর নিরাপত্তার গ্যারান্টি আমরা দিতে পারেনি। রাজধানীতে প্রকাশ্যে ঘাতকের অস্ত্রাঘাতে জীবনপ্রদীপ নিভে যায় সুরাইয়া আক্তার রিশার মতো এক জ্ঞান-পিপাসুর।

মাজননী সুরাইয়া, সঠিকপথে থাকায় বখাটে তার কুশিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সে সামাজিক কীট হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মানুষ তাকে ধিক্কার দিচ্ছে আর দিবে। আর বর্তমান নষ্ট-ভ্রষ্ট সমাজে বাস করেও তুমি তার ফাঁদে পা না দিয়ে যে আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতার বীজ বপন করে গেছে, তাতে তুমিই জিতেছ এবং তোমাকে মানুষ এ জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

দর্জি তোমাকে শতরকম উত্যক্ত করা সত্ত্বেও তুমি তাতে সাড়া না দিয়ে আরাধ্য কর্ম পড়াশোনায় রত ছিলে। বখাটের ফাঁদে পা না দিয়ে আদর্শ শিক্ষার্থী এবং মা-বাবাসহ পারিবারিক মান-মর্যাদাকে উন্নীত করেছে। ছাত্র নং অধ্যয়নও তপঃ যে কাজটা তোমার, তুমি সেটাই শতভাগ করেছে। তোমার এই আদর্শ, এই সমাজ মনে রাখবে ততদিন; যতদিন সমাজে প্রকৃত শিক্ষানুরাগিরা থাকবে।

আমরা যার কথা বলছি এবং জন্য গর্ভবোধ করছি, সে আর কেউ নয় রাজধানীর ইউলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা। প্রেম নিবেদনে সাড়া না পেয়ে স্কুলের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করে এক পাষণ্ড দর্জি। ২৮ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত আদর্শ শিক্ষার্থী সুরাইয়ার ঘাতক দর্জিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান মিডিয়াকে নিশ্চিত করেন। তার আশ্বাসে সুরাইয়ার সহপাঠীরা ২৯ আগস্ট কাকরাইল থেকে তাদের অবরোধ উঠিয়ে নেয়।

নিহত সুরাইয়ার বাবা-মা স্কুলে উপস্থিত হয়ে মেয়ের জন্য আর্তনাদ শুরু করলে ইউলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিভাবকরাও তাতে শামিল হন। বাদ যাননি নীতিবান শিক্ষকরাও। শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ঘাতককে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গগনবিদারি স্লোগান তোলে রাজপথে নামে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

ঘটনার ছয়দিন পরও ঘাতক গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। এর মধ্যে ঘাতক দর্জিকে গ্রেফতার করা না হলে তারা রাস্তায় নামবে। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির প্রতি একাত্ব অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এক ও অভিন্ন অবস্থান সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীর।

ঘাতক দর্জি একজন সুরাইয়ার জীবন প্রদীপ কেড়ে নেয়নি। তার বখাটেপনার ফলে একটি ফুল ঝরে গেল আমাদের মাঝ থেকে। বলা যায় ফুল হয়ে ফোটার আগেই আমাদের সামাজিক অধঃপতনের কুফল পতিত হলো এই শিক্ষার্থীর উপর। কন্যা-জায়া-জননী যেভাবেই আমরা বলি না কেন, মায়ের জাতির জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষায় এই সমাজকে আরো যত্নবান হওয়া জরুরি।

জীবন দিয়ে সুরাইয়া আমাদের যে শিক্ষাটা দিয়ে গেছে, সেটা হলো সামাজিক নিরাপত্তার অভাব প্রকট। খোদ রাজধানীর হার্টে দিনেদুপুরে ঘাতক একটি স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে বীরদর্পে চলে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা কতটা বেহাল, তা ভাবতে হবে দায়িত্বশলদের। আমরা আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে চাই না।

নারী শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হোক। লেখাপড়া করতে এসে লাশ হয়ে ঘরে ফেরা আর কত! মায়ের বুক খালি করার এমন সামাজিক বাস্তবতা কারো কাম্য নয়। নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা এবং ছুটির পর আশপাশে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণ সময়ের দাবি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com