অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক

এক রুমে স্বামীর মরদেহ। অন্য রুমে তিন ছেলে মেয়ে……

ডেস্কঃ স্বপ্নের দেশে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে স্বামী রতন চৌধুরী ও স্ত্রী’ সুজাতা চৌধুরী সন্তানসহ এসেছিলেন এই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। ভালোই চলছিল তাঁদের সংসার।নিজে কাজ করেন, স্বামী কাজ করেন, দুই সন্তান স্কুলে যায়। করোনার বিপদ সংকেত পাবার সাথসাথেই স্বামী ছুটি নিয়ে বাড়ি ঢুকলেন, সন্তানরাও বাড়িতে।

সুজাতা চৌধুরী নিজের অজান্তেই ভাইরাস বাড়ি নিয়ে আসলেন কাজের জায়গা থেকে। নিজে মা’রাত্মক অ’সুস্থ হবার আগেই স্বামী অ’সুস্থ হয়ে পড়লেন। দুই সন্তানও আক্রান্ত হলো ভাইরাসে। হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। ডাক্তারের নির্দেশনায় তিন বেডরুমের বাড়িতে স্বামী সন্তানদের আলাদাভাবে রুমগুলো ছেড়ে দিয়ে সুজাতা নিজে জায়গা করে নিলেন ড্রইং রুমে। মধ্যরাতেও রুমে রুমে গিয়ে চেক করেন, কে কেমন আছে।

১১ এপ্রিল শনিবার ভোরে স্বামীর রুমে ওষুধ দেবার জন্য ঢুকে কোন সাড়া পেলেন না স্ত্রী’। যা বুঝবার অল্পতেই বুঝে নিলেন তিনি। বাইরে থেকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সন্তানদের ডেকে উঠালেন। শান্ত স্থিরভাবে বললেন ওদের সবকিছু।সন্তানরাও ততক্ষণে বুঝে গেল করোনা কেড়ে নিয়েছে তাদের বাবাকে।

সুজাতা চৌধুরী নিজেই ৯১১ নাম্বারে কল করলেন। উত্তর পেলেন তাদের আসতে দেরি হবে। সারাদিন তিনটি অ’সুস্থ মানুষ বসে রইলেন তাদের অ’তি প্রিয়জনের মৃ’তদেহ নিয়ে। বিকেল চারটায় তিনজন স্যোসাল ওয়ার্কার আসলো। সাথে আসলো না ম’র্গের গাড়ি কিংবা কোন সরঞ্জাম। তারা জানালেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। সরঞ্জাম সর্টেজ ও মর্গ বা অস্থায়ী ট্রেলারের মর্গে জায়গার অভাবের কথা।

কিছু মৃতদেহ মাটিচাপার পর মর্গ কিছুটা খালি হলে তারা নিয়ে যাবে মৃ’তদেহ। প্লাস্টিকের ডাবল বডি ব্যাগে স্বামীর দেহ ভরে স্ট্রেচারে বেধে স্প্রে করে রুমেই রেখে বন্ধ দরজায় ‘নো এনট্রি’ হলুদ সাইন ঝুলিয়ে চলে গেলেন তারা। এক রুমে প্রিয় স্বামীর মৃতদেহ আর অন্য রুমে একই রোগের তিনটি মানুষ নিঃশব্দ অ’পেক্ষা!অসমাপ্ত !

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু

এক রুমে স্বামীর মরদেহ। অন্য রুমে তিন ছেলে মেয়ে……

আপডেট টাইম : ০২:২১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

ডেস্কঃ স্বপ্নের দেশে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে স্বামী রতন চৌধুরী ও স্ত্রী’ সুজাতা চৌধুরী সন্তানসহ এসেছিলেন এই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। ভালোই চলছিল তাঁদের সংসার।নিজে কাজ করেন, স্বামী কাজ করেন, দুই সন্তান স্কুলে যায়। করোনার বিপদ সংকেত পাবার সাথসাথেই স্বামী ছুটি নিয়ে বাড়ি ঢুকলেন, সন্তানরাও বাড়িতে।

সুজাতা চৌধুরী নিজের অজান্তেই ভাইরাস বাড়ি নিয়ে আসলেন কাজের জায়গা থেকে। নিজে মা’রাত্মক অ’সুস্থ হবার আগেই স্বামী অ’সুস্থ হয়ে পড়লেন। দুই সন্তানও আক্রান্ত হলো ভাইরাসে। হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। ডাক্তারের নির্দেশনায় তিন বেডরুমের বাড়িতে স্বামী সন্তানদের আলাদাভাবে রুমগুলো ছেড়ে দিয়ে সুজাতা নিজে জায়গা করে নিলেন ড্রইং রুমে। মধ্যরাতেও রুমে রুমে গিয়ে চেক করেন, কে কেমন আছে।

১১ এপ্রিল শনিবার ভোরে স্বামীর রুমে ওষুধ দেবার জন্য ঢুকে কোন সাড়া পেলেন না স্ত্রী’। যা বুঝবার অল্পতেই বুঝে নিলেন তিনি। বাইরে থেকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সন্তানদের ডেকে উঠালেন। শান্ত স্থিরভাবে বললেন ওদের সবকিছু।সন্তানরাও ততক্ষণে বুঝে গেল করোনা কেড়ে নিয়েছে তাদের বাবাকে।

সুজাতা চৌধুরী নিজেই ৯১১ নাম্বারে কল করলেন। উত্তর পেলেন তাদের আসতে দেরি হবে। সারাদিন তিনটি অ’সুস্থ মানুষ বসে রইলেন তাদের অ’তি প্রিয়জনের মৃ’তদেহ নিয়ে। বিকেল চারটায় তিনজন স্যোসাল ওয়ার্কার আসলো। সাথে আসলো না ম’র্গের গাড়ি কিংবা কোন সরঞ্জাম। তারা জানালেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। সরঞ্জাম সর্টেজ ও মর্গ বা অস্থায়ী ট্রেলারের মর্গে জায়গার অভাবের কথা।

কিছু মৃতদেহ মাটিচাপার পর মর্গ কিছুটা খালি হলে তারা নিয়ে যাবে মৃ’তদেহ। প্লাস্টিকের ডাবল বডি ব্যাগে স্বামীর দেহ ভরে স্ট্রেচারে বেধে স্প্রে করে রুমেই রেখে বন্ধ দরজায় ‘নো এনট্রি’ হলুদ সাইন ঝুলিয়ে চলে গেলেন তারা। এক রুমে প্রিয় স্বামীর মৃতদেহ আর অন্য রুমে একই রোগের তিনটি মানুষ নিঃশব্দ অ’পেক্ষা!অসমাপ্ত !