পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

গ্যাড়াকলে মেয়র জাহাঙ্গীর আর ড.বিজন কুমারের করোনা ভাইরাস টেষ্ট কিট!

ডেস্কঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া চীন থেকে করোনা টেষ্টের জন্য ৭০ হাজার পিসিআর টেষ্ট কিট নিয়ে এসেছিলেন গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অধীনে পর্যাপ্ত কিট নেই বলে যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে খুবই অল্প সময়রে মধ্যেই চীন থেকে করোনা টেষ্টের জন্য কিট আনেন গাজীপুর সিটির মেয়র। কিন্তু কোটি কোটি টাকার কেনা ৭০ হাজার কিটের একটিও এখন কাজে আসছে না। এতো এতো টেষ্ট কিট কেন কাজে আসছে না, কারণ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কিট আমদানি করেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর ওইসব কিটের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অতিজরুরী রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দেশের মানুষকে বাঁচাতেই অনুমোদন ছাড়াই মেয়র সাহেব কিট ধরলাম নিয়েই এসেছেন, কিন্তু সেই কিটগুলো এখন পরীক্ষা করে গুণগত মান যাচাই করে, কিটের মান ঠিক থাকলে কি এটা অনুমোদন দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে এসব কিট কি ব্যবহার করা যায় না? অনুমোদন ছাড়া কিট এনে কি গাজীপুরের মেয়র বিরাট অপরাধ করে ফেলেছেন? তিনি তো কোন নেতার আর্শিবাদপুষ্ট ঠিকাদার নয়- যে কোটি কোটি টাকার কিট সরবরাহ করে মুনাফা গুনবেন দ্বিগুন টাকা কিংবা অনুমোদন না নিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজন আর পরিবারের জন্য এসব কিট এনেছেন।দেশের বিশেষ মুহুর্তে এসব কিট এনেছেন দেশের মানুষের জন্যই। উল্টো অনুমোদন না নিয়ে কিট আনায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পিন্ডি চটকাচ্ছনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ কেউ। এসব কিটই অনুমোদন নিয়ে আনতে গেলে কয়েক মাস লেগে যেতো মনে করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর অনুমোদন নিয়ে একই কিট দেশে আনা হলে নিশ্চয়ই সরকার ব্যবহার করতো! এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কিটের অনুমোদন নেয়া আর না নেয়ার মধ্যে মনে হচ্ছে।
মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মিডিয়ার কাছে বার বার দাবী করেছেন, যেসব কিট চীন থেকে আনা হয়েছে, সেটা নিজের উদ্যোগে আনা হয়েছে। দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে, ভয়ংকর দুর্যোগ অতিদ্রুত মোকাবিলা করতেই আনা হয়, এসব কিট তো আমার আত্সীয় স্বজন আর পরিবারের জন্য আনা হয়নি। সরকারের এমন দু:সময়ে অনুমোদন না নিয়েই কিটগুলো আনা হলেও পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্টরা কিটের মান পরীক্ষা নীরিক্ষা করেই অনুমোদন দিয়ে কিটগুলো ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না, ওই কিটগুলো এখন অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেতো এখনো কিটের দেখাই পেতাম না।
অনুমোদন ছাড়া চীন থেকে কিট এনে মহাভারত অশুদ্ধ করেছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, সেটা না হয় বুঝলাম কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত করোনা টেষ্ট কিটের বিষয়ে এতো লুকোচুরী খেলা কেন? যিনি অল্প সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ টেষ্ট কিট আবিস্কার করে সারাদেশে প্রশংসিত হন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞানী বিজন কুমারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে উৎসাহ দেন এবং টেষ্ট কিট তৈরীতে নানাভাবে সহযোগীতার আশ^াস দেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানীর অনুমতি প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বিজন কুমারের আবিস্কৃত করোনা টেষ্ট কিট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধদিপ্তরের কেউ উপস্থিত হননি।
এখানে কেন উপস্থিত হননি? দেশে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ কিট আবিস্কার করে উনারা আবার কি অপরাধ করলো? আমি তো মনে করি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত বিজন কুমার শীলসহ প্রতিটি বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দেয়া, সন্মাননা দেয়া। সারা পৃথিবীতে যেখানে করোনা তান্ডব চলছে, সেখানে নিজ দেশের বিজ্ঞানীদের এমন আবিস্কারে উৎফুল্ল হওয়ার কথা কিন্তু হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যায়নি, কেন যায়নি একজন খুদে নাগরিক হিসেবে খুব জানতে মন চায়। তবে আমাদের একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন, যার উপর আমরা ভরসা রাখতে পারি, যার কান আবদি এই বিষয়টি পৌছাতে পারলে নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন, এটাতে তিনি ভুল করেন না।

সূত্রঃ সাংবাদিক
হায়দার আলীর ফেসবুক থেকে নেওয়া।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

গ্যাড়াকলে মেয়র জাহাঙ্গীর আর ড.বিজন কুমারের করোনা ভাইরাস টেষ্ট কিট!

আপডেট টাইম : ০১:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

ডেস্কঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া চীন থেকে করোনা টেষ্টের জন্য ৭০ হাজার পিসিআর টেষ্ট কিট নিয়ে এসেছিলেন গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অধীনে পর্যাপ্ত কিট নেই বলে যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে খুবই অল্প সময়রে মধ্যেই চীন থেকে করোনা টেষ্টের জন্য কিট আনেন গাজীপুর সিটির মেয়র। কিন্তু কোটি কোটি টাকার কেনা ৭০ হাজার কিটের একটিও এখন কাজে আসছে না। এতো এতো টেষ্ট কিট কেন কাজে আসছে না, কারণ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কিট আমদানি করেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর ওইসব কিটের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অতিজরুরী রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দেশের মানুষকে বাঁচাতেই অনুমোদন ছাড়াই মেয়র সাহেব কিট ধরলাম নিয়েই এসেছেন, কিন্তু সেই কিটগুলো এখন পরীক্ষা করে গুণগত মান যাচাই করে, কিটের মান ঠিক থাকলে কি এটা অনুমোদন দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে এসব কিট কি ব্যবহার করা যায় না? অনুমোদন ছাড়া কিট এনে কি গাজীপুরের মেয়র বিরাট অপরাধ করে ফেলেছেন? তিনি তো কোন নেতার আর্শিবাদপুষ্ট ঠিকাদার নয়- যে কোটি কোটি টাকার কিট সরবরাহ করে মুনাফা গুনবেন দ্বিগুন টাকা কিংবা অনুমোদন না নিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজন আর পরিবারের জন্য এসব কিট এনেছেন।দেশের বিশেষ মুহুর্তে এসব কিট এনেছেন দেশের মানুষের জন্যই। উল্টো অনুমোদন না নিয়ে কিট আনায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পিন্ডি চটকাচ্ছনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ কেউ। এসব কিটই অনুমোদন নিয়ে আনতে গেলে কয়েক মাস লেগে যেতো মনে করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর অনুমোদন নিয়ে একই কিট দেশে আনা হলে নিশ্চয়ই সরকার ব্যবহার করতো! এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কিটের অনুমোদন নেয়া আর না নেয়ার মধ্যে মনে হচ্ছে।
মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মিডিয়ার কাছে বার বার দাবী করেছেন, যেসব কিট চীন থেকে আনা হয়েছে, সেটা নিজের উদ্যোগে আনা হয়েছে। দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে, ভয়ংকর দুর্যোগ অতিদ্রুত মোকাবিলা করতেই আনা হয়, এসব কিট তো আমার আত্সীয় স্বজন আর পরিবারের জন্য আনা হয়নি। সরকারের এমন দু:সময়ে অনুমোদন না নিয়েই কিটগুলো আনা হলেও পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্টরা কিটের মান পরীক্ষা নীরিক্ষা করেই অনুমোদন দিয়ে কিটগুলো ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না, ওই কিটগুলো এখন অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেতো এখনো কিটের দেখাই পেতাম না।
অনুমোদন ছাড়া চীন থেকে কিট এনে মহাভারত অশুদ্ধ করেছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, সেটা না হয় বুঝলাম কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত করোনা টেষ্ট কিটের বিষয়ে এতো লুকোচুরী খেলা কেন? যিনি অল্প সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ টেষ্ট কিট আবিস্কার করে সারাদেশে প্রশংসিত হন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞানী বিজন কুমারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে উৎসাহ দেন এবং টেষ্ট কিট তৈরীতে নানাভাবে সহযোগীতার আশ^াস দেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানীর অনুমতি প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বিজন কুমারের আবিস্কৃত করোনা টেষ্ট কিট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধদিপ্তরের কেউ উপস্থিত হননি।
এখানে কেন উপস্থিত হননি? দেশে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ কিট আবিস্কার করে উনারা আবার কি অপরাধ করলো? আমি তো মনে করি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত বিজন কুমার শীলসহ প্রতিটি বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দেয়া, সন্মাননা দেয়া। সারা পৃথিবীতে যেখানে করোনা তান্ডব চলছে, সেখানে নিজ দেশের বিজ্ঞানীদের এমন আবিস্কারে উৎফুল্ল হওয়ার কথা কিন্তু হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যায়নি, কেন যায়নি একজন খুদে নাগরিক হিসেবে খুব জানতে মন চায়। তবে আমাদের একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন, যার উপর আমরা ভরসা রাখতে পারি, যার কান আবদি এই বিষয়টি পৌছাতে পারলে নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন, এটাতে তিনি ভুল করেন না।

সূত্রঃ সাংবাদিক
হায়দার আলীর ফেসবুক থেকে নেওয়া।