পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ ! Logo বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১,২,৩,৪ ও ঢাকা জেলা সার্কেলের আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক রোড-শো অনুষ্ঠিত Logo রূপগঞ্জে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ‘ওয়েলকেয়ার গ্রীনসিটি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি Logo পাটগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি রাজিবের মতবিনিময়, দুস্থদের মাঝে চেক বিতরণ Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা ১২ জনকে রাতের আঁধারে ফেরত নিল বিএসএফ Logo বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১, সার্কেলের সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান’কে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার ফেসবুক পেজে Logo পাটগ্রামের বুড়িমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার পরিবারকে এমপির গরু উপহার Logo প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন করতে হবে: শেখ রবিউল আলম Logo লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল বিজিবি Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রামের ৬৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি

পদ্মা সেতু : ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ৮০ পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশ

বাংলার খবর২৪.কমindex_55071 : পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্টের নাওডোবা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকা থেকে ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ৮০ পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে ঘর সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণ না পাওয়াই ৮০টি পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহণকৃত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকার ৮০টি পরিবার তাদের জমির ক্ষতিপূরণ পেলেও তালিকাভুক্ত ঘরের ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে দাবি পরিবারগুলোর। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কর্তৃপক্ষ বার বার ঘর সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবার সেখান থেকে তাদের বসত ঘর সরিয়ে নিতে রাজি নয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এ অবস্থায় সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না কোম্পানি সেতু কর্তৃপক্ষকে জায়গা খালি করতে বার বার তাগিদ দিচ্ছে। ঘর থাকার কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল আনতে পারছে না বলে দাবি প্রতিষ্ঠানগুলোর।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে তালিকাভুক্ত ৮০টি ঘরের ক্ষতিপূরণের ৬ ধারার নোটিশ পেলেও কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধ না করে বসবাসরত ঘর সরিয়ে নেয়ার জন্য বার বার তাগিদ দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের চেক বা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তারা সরে যাবে না বলে অনড় রয়েছেন।

পরিবারগুলোর দাবি, সরকার যদি তাদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ঘর সরানোর পদক্ষেপ নেয়, কোনোভাবেই তারা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে যেকোনো কঠিন পদক্ষেপ নিতেও সকলে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।

পূর্বনাওডোবা এলাকার হাসেম মাদবরের স্ত্রী ছলেহা বেগম, জাহাঙ্গীর শেখের স্ত্রী শাহনাজ বেগম, আব্দুল খালেক মাদবরসহ আরো অনেকে বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতুর জন্য নিজের বাপ দাদার ঘর-বাড়ি ছাড়তে পারবো না। এখনো পর্যন্ত আমাদের ঘরের ক্ষতিপূরণের বিল পাই নাই। আমরা মরতে রাজি আছি, কিন্তু আমাদের ঘরের ক্ষতিপূরণের বিল না পাওয়া পর্যন্ত ঘর সরিয়ে নেব না।’

বিষয়টি সুরাহা করার জন্য রোববার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে সেতু প্রকল্পের উপ-পরিচালক এসএম এনামুল কবির।

আরো উপস্থিত ছিলেন- শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, মূলসেতু প্রকল্পের প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের, জাজিরা উপজেলা প্রশানের কর্মকর্তাসহ সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপ-পরিচালক বলেন, ৮০ পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। বিষয়টি সমাধানের জন্য মন্ত্রী ও সচিবরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, আমরা সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে দোয়ারিকা-সিকাপুর সেতুর টোল লোপাট কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ !

পদ্মা সেতু : ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ৮০ পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশ

আপডেট টাইম : ০৬:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কমindex_55071 : পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্টের নাওডোবা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকা থেকে ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ৮০ পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে ঘর সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণ না পাওয়াই ৮০টি পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, পদ্মা সেতুর জন্য অধিগ্রহণকৃত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকার ৮০টি পরিবার তাদের জমির ক্ষতিপূরণ পেলেও তালিকাভুক্ত ঘরের ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে দাবি পরিবারগুলোর। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কর্তৃপক্ষ বার বার ঘর সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবার সেখান থেকে তাদের বসত ঘর সরিয়ে নিতে রাজি নয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এ অবস্থায় সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না কোম্পানি সেতু কর্তৃপক্ষকে জায়গা খালি করতে বার বার তাগিদ দিচ্ছে। ঘর থাকার কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল আনতে পারছে না বলে দাবি প্রতিষ্ঠানগুলোর।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে তালিকাভুক্ত ৮০টি ঘরের ক্ষতিপূরণের ৬ ধারার নোটিশ পেলেও কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধ না করে বসবাসরত ঘর সরিয়ে নেয়ার জন্য বার বার তাগিদ দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের চেক বা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তারা সরে যাবে না বলে অনড় রয়েছেন।

পরিবারগুলোর দাবি, সরকার যদি তাদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ঘর সরানোর পদক্ষেপ নেয়, কোনোভাবেই তারা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে যেকোনো কঠিন পদক্ষেপ নিতেও সকলে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।

পূর্বনাওডোবা এলাকার হাসেম মাদবরের স্ত্রী ছলেহা বেগম, জাহাঙ্গীর শেখের স্ত্রী শাহনাজ বেগম, আব্দুল খালেক মাদবরসহ আরো অনেকে বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতুর জন্য নিজের বাপ দাদার ঘর-বাড়ি ছাড়তে পারবো না। এখনো পর্যন্ত আমাদের ঘরের ক্ষতিপূরণের বিল পাই নাই। আমরা মরতে রাজি আছি, কিন্তু আমাদের ঘরের ক্ষতিপূরণের বিল না পাওয়া পর্যন্ত ঘর সরিয়ে নেব না।’

বিষয়টি সুরাহা করার জন্য রোববার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে সেতু প্রকল্পের উপ-পরিচালক এসএম এনামুল কবির।

আরো উপস্থিত ছিলেন- শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, মূলসেতু প্রকল্পের প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের, জাজিরা উপজেলা প্রশানের কর্মকর্তাসহ সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপ-পরিচালক বলেন, ৮০ পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। বিষয়টি সমাধানের জন্য মন্ত্রী ও সচিবরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, আমরা সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।