পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক

জন্মগত জটিল রোগে ভুগছেন শিশু কাওসার, অর্থের অভাবে থেমে আছে চিকিৎসা।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট:
৩ বছরের শিশু কাউসারের মুখের হাসিটি অনেক আনন্দের ও তার জিহ্বা দেখানোর ভঙ্গি দেখে মনেই হবে না যে, শিশুটি কতটা কষ্টে আছে! ৩ বছরের ঐ শিশু কাউসারের অ্যানোরেক্টাল ম্যালফরমেশন (Anorectal malformations) নামে একটি জটিল সমস্যা রয়েছে। এটি একটি জন্মগত ত্রুটি, যার ফলে মলদ্বার বন্ধ থাকে কিংবা মলদ্বার (পাচনতন্ত্রের নীচের প্রান্ত) সঠিকভাবে বিকশিত হয়না। চিকিৎসকরা বলছেন এর একমাত্র চিকিৎসা হল সার্জারি করা। সেক্ষেত্রে সার্জনরা ৩টি প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন। সেগুলো হল কোলোস্টোমি করা, অ্যানোরেক্টাল মেরামত এবং কোলোস্টোমি বন্ধ করা। প্রতিটি সার্জারি ব্যয়বহুল।

ইতোমধ্যে ১ বার সার্জারি করানোয় কাউসারের বাবা মোঃ আব্দুস সাত্তারের ফলের ব্যবসার সব পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। অপরদিকে এনজিও (সমিতি) এবং মানুষের কাছে ঋণ করেছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন নিজের ব্যবসা খুইয়ে মানুষের জমিতে দিনমজুরের কাজ করছেন আব্দুস সাত্তার।

ডাক্তার বলেছে আরেকবার সার্জারি করাতেই হবে। কিন্তু দিনমজুরীর টাকা দিয়ে সংসারটাই ঠিকমতো চলেনা, অপারেশনের টাকা কোথায় পাবেন সাত্তার? শরীরের সবটুকু শ্রম দিয়ে খেয়ে না খেয়ে মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। ওই আয় থেকে সমিতিতে সপ্তাহে দিতে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা, মাস শেষে যার যোগফল হয় মোট ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অপরদিকে যার কাছে ঋণ নিয়েছেন তাকে দিতে হয় ৪ হাজার টাকা। অবস্থা এমন যে মুখের আহারই জোগাড় হয়না!

এমতাবস্থায় ছেলের চিকিৎসা কীভাবে চালাবেন এই চিন্তায় দিশেহারা লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বত্রিশ হাজারী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুস সাত্তার। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পেয়েছিলেন মাত্র ৫ হাজার টাকা। আর লালমনিরহাট পৌরসভা থেকে দয়া করে দেয়া হয়েছিলো মাত্র ২ হাজার টাকা! চাহিদার তুলনায় ঐ টাকা কিছুই নয়। সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়েও কারও কাছে মেলেনি কিছুই। বোনের কাছে চেয়ে নেয়া দেড় শতক জমির উপর ঘর করে থাকা আব্দুস সাত্তারের পরিবারের একমাত্র সম্বল হল একটি বিছানা ও বালিশ তা দিয়ে কি কাওসারের চিকিৎসা সম্ভব! দিশেহারা হয়েছে পরিবার টি।

কাওসারের মা কুলছুম বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটার জন্মের পর যখন ৭ দিন বয়স তখন আমরা বিষয়টি টের পাই। মিশন মোড়ে একজন ডাক্তারকে দেখালে তিনি রংপুরে নিয়ে যেতে বলেন। রংপুর মেডিকেলের ডাক্তার বলেন অপারেশন করাতে হবে। পরে ছেলের বাবা তার ব্যবসা নষ্ট করে টাকা জোগাড় করেন। অপারেশনে আমাদের অন্যান্য খরচসহ মোট ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়। বেশিরভাগই ধার করা ও সমিতি থেকে ঋণ নেয়া টাকা। আমাদের বাচ্চাটাকে ভাল কিছু খাওয়াতে পারিনা। টাকা নাই কি করবো? কেউ সহযোগিতাও করে না’।

শিশুটির বাবা মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমার ব্যবসা শেষ। আমি এখন দিনমজুরী করি। একদিন কাজ না করলে চলে না। সমিতির টাকা আর ঋণ শোধ করে যে টাকা থাকে তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। বাচ্চার ঔষধ ঠিকমতো কেনাও হয় না আবার ভাল খাওয়াতেও পারিনা। ডাক্তার বলেছে আবার অপারেশন করতে হবে। এই দুনিয়াতে কি এমন মানুষ নেই যিনি আমার বাচ্চাটার মুখের দিকে দেখে একটু সাহায্য করবে!।’

লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ মোকলেছুর রহমান মুকুল বলেন, ‘পরিবারটি সম্পর্কে আমি জানি। তারা খুবই দরিদ্র। আমি আমার সাধ্যমত করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সমাজের সকলে যদি পরিবারটিকে সাহায্য করে তাহলে ভাল হবে।’

স্থানীয় একজন চিকিৎসক বলেন, ‘রোগটা খুবই জটিল। এটি জন্মগত ত্রুটি। পরিবারটির শিশু সার্জারি বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক দ্রূত চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
মোঃ আব্দুস সাত্তার বিকাশ নম্বরঃ ০১৭৭৩২৭৫৪০২

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু

জন্মগত জটিল রোগে ভুগছেন শিশু কাওসার, অর্থের অভাবে থেমে আছে চিকিৎসা।

আপডেট টাইম : ০১:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট:
৩ বছরের শিশু কাউসারের মুখের হাসিটি অনেক আনন্দের ও তার জিহ্বা দেখানোর ভঙ্গি দেখে মনেই হবে না যে, শিশুটি কতটা কষ্টে আছে! ৩ বছরের ঐ শিশু কাউসারের অ্যানোরেক্টাল ম্যালফরমেশন (Anorectal malformations) নামে একটি জটিল সমস্যা রয়েছে। এটি একটি জন্মগত ত্রুটি, যার ফলে মলদ্বার বন্ধ থাকে কিংবা মলদ্বার (পাচনতন্ত্রের নীচের প্রান্ত) সঠিকভাবে বিকশিত হয়না। চিকিৎসকরা বলছেন এর একমাত্র চিকিৎসা হল সার্জারি করা। সেক্ষেত্রে সার্জনরা ৩টি প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন। সেগুলো হল কোলোস্টোমি করা, অ্যানোরেক্টাল মেরামত এবং কোলোস্টোমি বন্ধ করা। প্রতিটি সার্জারি ব্যয়বহুল।

ইতোমধ্যে ১ বার সার্জারি করানোয় কাউসারের বাবা মোঃ আব্দুস সাত্তারের ফলের ব্যবসার সব পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। অপরদিকে এনজিও (সমিতি) এবং মানুষের কাছে ঋণ করেছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন নিজের ব্যবসা খুইয়ে মানুষের জমিতে দিনমজুরের কাজ করছেন আব্দুস সাত্তার।

ডাক্তার বলেছে আরেকবার সার্জারি করাতেই হবে। কিন্তু দিনমজুরীর টাকা দিয়ে সংসারটাই ঠিকমতো চলেনা, অপারেশনের টাকা কোথায় পাবেন সাত্তার? শরীরের সবটুকু শ্রম দিয়ে খেয়ে না খেয়ে মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। ওই আয় থেকে সমিতিতে সপ্তাহে দিতে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা, মাস শেষে যার যোগফল হয় মোট ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অপরদিকে যার কাছে ঋণ নিয়েছেন তাকে দিতে হয় ৪ হাজার টাকা। অবস্থা এমন যে মুখের আহারই জোগাড় হয়না!

এমতাবস্থায় ছেলের চিকিৎসা কীভাবে চালাবেন এই চিন্তায় দিশেহারা লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বত্রিশ হাজারী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুস সাত্তার। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পেয়েছিলেন মাত্র ৫ হাজার টাকা। আর লালমনিরহাট পৌরসভা থেকে দয়া করে দেয়া হয়েছিলো মাত্র ২ হাজার টাকা! চাহিদার তুলনায় ঐ টাকা কিছুই নয়। সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়েও কারও কাছে মেলেনি কিছুই। বোনের কাছে চেয়ে নেয়া দেড় শতক জমির উপর ঘর করে থাকা আব্দুস সাত্তারের পরিবারের একমাত্র সম্বল হল একটি বিছানা ও বালিশ তা দিয়ে কি কাওসারের চিকিৎসা সম্ভব! দিশেহারা হয়েছে পরিবার টি।

কাওসারের মা কুলছুম বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটার জন্মের পর যখন ৭ দিন বয়স তখন আমরা বিষয়টি টের পাই। মিশন মোড়ে একজন ডাক্তারকে দেখালে তিনি রংপুরে নিয়ে যেতে বলেন। রংপুর মেডিকেলের ডাক্তার বলেন অপারেশন করাতে হবে। পরে ছেলের বাবা তার ব্যবসা নষ্ট করে টাকা জোগাড় করেন। অপারেশনে আমাদের অন্যান্য খরচসহ মোট ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়। বেশিরভাগই ধার করা ও সমিতি থেকে ঋণ নেয়া টাকা। আমাদের বাচ্চাটাকে ভাল কিছু খাওয়াতে পারিনা। টাকা নাই কি করবো? কেউ সহযোগিতাও করে না’।

শিশুটির বাবা মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমার ব্যবসা শেষ। আমি এখন দিনমজুরী করি। একদিন কাজ না করলে চলে না। সমিতির টাকা আর ঋণ শোধ করে যে টাকা থাকে তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। বাচ্চার ঔষধ ঠিকমতো কেনাও হয় না আবার ভাল খাওয়াতেও পারিনা। ডাক্তার বলেছে আবার অপারেশন করতে হবে। এই দুনিয়াতে কি এমন মানুষ নেই যিনি আমার বাচ্চাটার মুখের দিকে দেখে একটু সাহায্য করবে!।’

লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ মোকলেছুর রহমান মুকুল বলেন, ‘পরিবারটি সম্পর্কে আমি জানি। তারা খুবই দরিদ্র। আমি আমার সাধ্যমত করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সমাজের সকলে যদি পরিবারটিকে সাহায্য করে তাহলে ভাল হবে।’

স্থানীয় একজন চিকিৎসক বলেন, ‘রোগটা খুবই জটিল। এটি জন্মগত ত্রুটি। পরিবারটির শিশু সার্জারি বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক দ্রূত চিকিৎসা নেয়া জরুরী।
মোঃ আব্দুস সাত্তার বিকাশ নম্বরঃ ০১৭৭৩২৭৫৪০২