পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী Logo ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’: দিপু ভূইয়া

এক রাতে ৭ জনকে গলাকেটে হত্যা

ডেস্ক: নওগাঁ ও কক্সবাজারে এক রাতে সাতজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিয়ামতপুর উপজেলায় চারজন ও টেকনাফে তিনজনকে হত্যা করা হয়।

নওগাঁ : জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার রাতে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড় থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্জয় বিশ্বাস বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন— নুরুল কবিরের ছেলে মজিদ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর এবং রুহুল আমিনের ছেলে রবি।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, মঙ্গলবার সকালে শীলখালী পাহাড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তিনটি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে অথবা ভোরের দিকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে, তাদের খোঁজ চলছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, মুজিবের বিরুদ্ধে ৬টি মামলাসহ অপরাপর নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

এক রাতে ৭ জনকে গলাকেটে হত্যা

আপডেট টাইম : ১২:২৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক: নওগাঁ ও কক্সবাজারে এক রাতে সাতজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিয়ামতপুর উপজেলায় চারজন ও টেকনাফে তিনজনকে হত্যা করা হয়।

নওগাঁ : জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার রাতে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড় থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্জয় বিশ্বাস বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন— নুরুল কবিরের ছেলে মজিদ, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর এবং রুহুল আমিনের ছেলে রবি।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, মঙ্গলবার সকালে শীলখালী পাহাড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তিনটি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে অথবা ভোরের দিকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে, তাদের খোঁজ চলছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণ ও মানব পাচারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, মুজিবের বিরুদ্ধে ৬টি মামলাসহ অপরাপর নিহতদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।